রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও থাবা; প্রয়োজন দূরদর্শী উদ্যোগ

মাহফুয নাদীম


মাহফুয নাদীম

…তখন অামরা রাস্তায় নামবো। অান্দোলন করবো। গলা ফাটিয়ে এনজিওদের গোষ্টি উদ্ধার করবো। এমনকি রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেওয়ার দাবীও তোলতে পারি, অস্বাভাবিক নয়। কারণ অামাদের চোখ খুলবে। তন্দ্রাচ্ছন্নতা দূর হবে। তাকিয়ে দেখবো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খৃস্টবাদের সয়লাব। ইরতেদাদের বিষাক্ত ছাপ। তখন অামাদের স্লোগান ছাড়া অার কোনো উপায় থাকবে না। অথচ এতে কোনো লাভও হবেনা।

অামাদের উচিত ভবিষ্যতের চিন্তা করা। দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছি, কিছু কষ্টও পাচ্ছি- এটা অাবেগ মাত্র। প্রকৃত দরদ নয়। সহায়তার পাশাপাশি তাদের দ্বীন-ধর্ম সংরক্ষনের পদক্ষেপই হবে প্রকৃত দরদ।

তারা অাসছে। বছর বছর থেকে এধারা অব্যাহতই অাছে। কিন্তু কেউ ফিরছে না। অদূর ভবিষ্যতে ফিরে যাওয়ার সম্ভানাও দেখা যাচ্ছে না। ফলে এই বছরগুলোতে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোররা স্বাভাবিকতই যথেষ্ট পরিমান দ্বীনি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা পাচ্ছেনা দ্বীনি মেজাযে গড়ে ওঠার পরিবেশ। হৃদয়ে জাগছে না ধর্মীয় মৌলিক মূল্যবোধ। অামরা এসব দেখছি না। দেখলেও গুরুত্ব দিচ্ছি না। যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছি না।

অপরদিকে ওরা কিন্তু বসে নেই। সেবার অাড়ালে ওরা ওদের মিশনের তৎপরতায়ই অাছে। শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করছে। ফ্রী শিক্ষা দিচ্ছে। বিনামূলে কলম খাতা বই সরবরাহ করছে। অাদর-মমতায় শিশুদেরকে অাকৃষ্ট করছে। বিগত বছরগুলোতে অাসা রোহিঙ্গাদের জন্য ইউনিসেফ ১৪৫ টি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করেছিলো। যেগুলোতে হাজারের উপরে শিশু-কিশোর শিক্ষা নিচ্ছে। এবার তারা তেরোশ’ শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করবে।

এই এনজিওগুলো তাদের স্কুলগুলোতে কি শিখায়? কোন বিশ্বাসে শিশুদের গড়ে তোলতে চায়? সেটা অস্পষ্ট কোনো বিষয় নয়।
অামাদের সামনে অন্ধকার অারো প্রকট হবে। অাধার অারো ঘন হবে। তখন অামাদের সামনে কোনো রাস্তা থাকবে না। কোনো পথ অার খোঁজে পাবো না। ফলে চিৎকার করবো। কিন্তু এ চিৎকারে কারো হাত এগিয়ে অাসবে না। অামাদের অদূরদর্শীতাই অামাদের অধঃপতন ডেকে অানবে।