এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১১৮টি গ্রামে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ১১৮টি গ্রামে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের।

রোহিঙ্গা সূত্রে জানাগেছে, অবরুদ্ধ থাকা রোহিঙ্গা মুসলিমরা এখন পালানোর পথ খুঁজছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বলছে, এসব এলাকার প্রায় তিন লাখ মানুষ এখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন। অনেকেই ১২ থেকে ১৪ দিন টানা হেঁটে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে সীতা পাহাড়, নাইক্ষ্যংদিয়ার দ্বীপ ও পাশের অন্যান্য সমুদ্র পাড়ে জমায়েত হচ্ছেন। কিন্তু নৌযানের অভাবে তারা বাংলাদেশে আসতে পারছেন না।

জাতিসংঘ বলছে, প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা থামছে না। এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্যটি থেকে বাংলাদেশে আরও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ঢল নামতে পারে।

দক্ষিণ রাখাইনের সেন্ডওয়ে, রাথেডং ও বুথেডংসহ ১২টি টাউনশিপ এলাকায় অক্টোবরের শুরু থেকে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ। এ অঞ্চলের ৩ লাখের মতো মানুষ এক মাস ধরে নিজ বাড়িতে বন্দি অবস্থায় আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাড়িতে থাকা নিত্যপণ্যের মজুদ শেষ হওয়ায় অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

রাথেডংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান হাজি ওসমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস ধরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) গ্রামটিতে খাবার সরবরাহ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে খাবারের সংকটে ওই এলাকার লোকজনের বাংলাদেশে চলে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ওসমান আরও বলেন, কেবল খাবার সরবরাহ বন্ধই নয়, রোহিঙ্গাদের বাড়ির বাইরে যেতেও দেওয়া হচ্ছে না। আবার প্রতিরাতে বাড়িতে এসে জোয়ান মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিটি গ্রাম থেকে সেনাবাহিনী আটক করে নিয়ে যাচ্ছে ২/৪ জন যুবককে। এ অবস্থায় সবাই রাতের আঁধারে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু মাসাধিককাল ধরে অনাহারে, অর্ধাহারে থাকা মানুষগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে এতোটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, ১২/ ১৪ দিনের টানা হাঁটার পথ পাড়ি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকেই রাস্তায় মারা যাচ্ছেন বলেও খবর মিলছে।