ইসলামী ভ্রাতৃত্বের চেতনা ওদের কাছে নিরাপত্তার হুমকি

ইসলামী ভ্রাতৃত্বের চেতনা ওদের কাছে নিরাপত্তার হুমকি

নতুন মিথ: ‘আঞ্চলিক বা জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’
ইসলামী ভ্রাতৃত্বের চেতনা ওদের কাছে নিরাপত্তার হুমকি।
পরান্নভোজী ওহে! তোমারা কারা?

আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি-এ আপ্তবচনটি এখন নতুন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এক শ্রেণির সেক্যুলার অর্বাচীনদের অতিব্যবহার আর অপব্যবহারের দরুন এ বাক্যটি যেন আমার কাছে ‘মিথ’ মনে হয়। এসব গাঁজাখোরদের মাথায় কোন স্বকীয় চেতনা নেই। নেই কোন জাতীয়তাবাদী দর্শন। মুসলিম জাতির পরিচয়ে-পরিবেশে বেড়ে উঠা এ মহল বিশেষ ভিন-জাতের পারপাস বাস্তবায়েন খড়গহস্ত।

বিদেশী শক্তিগুলো যখন নানাভাবে আমাদের সার্বভৌমত্ব লুটেপুটে খাচ্ছে তখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেনা! আকাশ সীমা লঙ্গন আর সীমান্তে গুলি করে বাঙালি হত্যায় আমাদের নিরাপত্তার চাদর রঞ্জিত হয়না! প্রভু রাষ্ট্রসমূহের মস্তানিতে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার গৌরব বিসর্জিত হয়না!

স্বদেশ, স্বজাত আর স্বধর্মের মানুষের জেগে উঠার প্রয়াসেই কেবল আমাদের নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়!
ব্যাভিচারী তন্বীদের কাছে পতিতালয়কে নিজের ঠিকানা মনে হয়, স্বামীর গৃহকে নয়। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আমাদের নিরাপত্তার সতীত্বকে কতভাবে বিনষ্ট করে চলছে তাতে আপত্তি তোলার মুরোদ নেই। যত বল আর শক্তি, যত বিদ্যা আর বুদ্ধি কেবল স্বজাতির প্রতি বিদ্বেষকে নানা শব্দফাঁদে আড়াল করে পরিত্রাহি চেঁচামেচি করার মধ্যেই! বাহ্ বাহ্
এবার নীচের সংবাদটি লক্ষ্য করুন!

আপনি এ জাতীয় নিউজ প্রায়শই লক্ষ্য করে থাকবেন।

নিউজ, বি বি সি :১২.১০.১৭
রোহিঙ্গা সঙ্কট কেন আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি?
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ব্যাপকতা এবং লাখ লাখ মানুষের বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ইসলামপন্থী সংগঠনের পক্ষে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুমকিও প্রচার করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণ থেকে এ অঞ্চলে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি হয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান ও তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ রোহিঙ্গাদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

মি মুনীরুজ্জামানের পর্যবেক্ষণ বলছে, “বড় ধরনের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার ও বিস্তারলাভ করার একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী গিয়ে তাদের উগ্র মতবাদ দিয়ে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।”

“একই সাথে দেখা যাচ্ছে যে, এখান থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী সদস্য সংগ্রহ করার জন্য চেষ্টা করছে। আমরা ইতোমধ্যে জানি যে, আরসা নামে যে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংগঠিত হয়েছে তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভেতর থেকে সদস্য সংগ্রহের জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে।”

পর্যবেক্ষণ বলছে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি এসেছে আল কায়েদার পক্ষ থেকে। বিশেষ করে ইয়েমেন ভিত্তিক আল কায়েদা এরই মধ্যে হুমকি দিয়েছে।

এছাড়া তালেবান, সোমালিয়ার আল শাবাব গোষ্ঠী এবং ইসলামিক স্টেটপন্থী গ্রুপগুলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বান জানাচ্ছে।

মি. মুনিরুজ্জামান জানাচ্ছেন, “ইদানিং আমরা দেখতে পেয়েছি যে চেচেন বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে তাদের প্রতি সমর্থন এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার বেশকিছু উগ্র মতবাদের গোষ্ঠীর কাছ থেকে শুধু সমর্থনই আসেনি, তারা সেখানে একটা নতুন করে ব্যাটালিয়ান সংগঠন করার চেষ্টা করছে।”

“বিভিন্ন ভলান্টিয়ার সংগ্রহ করে ওখানে (ইন্দোনেশিয়া) প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা সংগ্রামে লিপ্ত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা বেশ কিছু ভিডিও ইন্টারনেটে আপলোড করেছে।”

এরকম উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে বলা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত জঙ্গী তৎপরতার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তবে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের বর্তমান মানসিকতা এবং তাদের মধ্যে প্রতিহিংসাপরায়নতার সুযোগ নিয়ে সদস্য সংগ্রহের ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছে না নিরাপত্তা বাহিনী।

…………………নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুনীরুজ্জামান মনে করেন, ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে যারা এগিয়ে এসেছে তাদের ব্যপারেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তার কথায়,”এটা আমাদের পরিভাষায় যদি বলি, এটাকে ‘হামাস ফ্যাক্টর’ বলা যায়। এই কারণে যে যেখানে রাষ্ট্রের অনুদান আগে পৌঁছানোর আগে এ ধরনের সংগঠন পৌঁছে যায়, সেখানে এ সংগঠনগুলো খুব সক্রিয় হয়ে যায়।”
………….”তারা প্রায় স্বাধীনভাবে এখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা কে কী করছে, কী ধরনের মতবাদ নিয়ে এসেছে, ত্রাণের সঙ্গে অন্য কোনো মতবাদ নিয়ে এসেছে কিনা আমরা জানি না। তাই এ ধরনের আশঙ্কা আমাদের সবসময় থেকেই যাবে।”


ফেসবুক থেকে