উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ইসলামকে প্রতিপক্ষ করা হয়

উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ইসলামকে প্রতিপক্ষ করা হয়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুনির আহমদসাবেক নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক মুঈনুল ইসলাম এবং সাবেক প্রেসসচিব, হেফাজত আমীর


মুনির আহমদ

বাংলাদেশে প্রথম সারির জনপ্রিয় কয়েকজন শক্তিশালী লেখকের নাম বলতে গেলে এই সময়ে পিনাকী ভট্টাচার্যের নাম তালিকার শুরুর দিকেই থাকবে। যারা দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে চান, সমাজ ও আদর্শ নিয়ে ইতিবাচক কিছু গড়তে চান, পিনাকী ভট্টাচার্যের চিন্তা ও লেখা তাদের জন্য চমৎকার পথনির্দেশক হবে নিশ্চয়। সোশ্যাল মিডিয়াসহ বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র, শিক্ষক, লেখক, রাজনীতিবিদসহ সর্বমহলে পিনাকী ভট্টাচার্য তুমুল জনপ্রিয় ও আলোচিত এক ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে ইসলাম বিদ্বেষী বাম সেক্যুলার মহলেও পিনাকী ভট্টাচার্য সাক্ষাৎ এক আতংকের নাম।
পিনাকী ভট্টাচার্যের লেখা মানেই দেশ বাংলার বিশাল জনগোষ্ঠীর হৃদয়ের অব্যক্ত কণ্ঠস্বর। পিনাকী ভট্টাচার্যের লেখা মানেই বাম সেক্যুলারকুলের হাজারো মিথ্যাচারকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেওয়া কলমের ধারালো আচঁড়। পিনাকী ভট্টাচার্যের লেখা মানেই পরমমত সহিষ্ণু ও সমাজে বসবাসকারী নানা মতের মানুষের সম্মিলনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন; যেই বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি আমজনতা অন্তরে লালন করে চলেন প্রতিনিয়ত।

পিনাকীর সাফল্য এটাই যে, তার সাথে যাদের শত্রুতা, তারাও তার লেখাকে উপেক্ষা করার যুক্তি খুঁজে পায় না। ছাত্র জীবন থেকেই বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে ইসলাম বিদ্বেষী বাম সেক্যুলারদের কলাকৌশলসহ নাড়িনক্ষত্র সবই তাঁর নখদর্পণে। যে কারণে বাম সেক্যুলারকুলের জন্য তিনি এক মহাসমস্যা ও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বইয়ের নাম : মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম
লেখক : পিনাকী ভট্টাচার্য

সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ব্লগ, টুইটার ও ফেসবুকে পিনাকী ভট্টাচার্যের লেখা বিভিন্ন পোস্ট যেমন ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার ঝড় তুলতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি বই লেখালেখির জগতেও পিনাকী ভট্টাচার্য ইতোমধ্যেই শক্তিশালী একটা অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যেই তাঁর এক ডজনেরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি বই যেমন ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে, তেমনি সমালোচকদের নজর কাড়তে ও সমীহ আদায় করতে পেরেছে বেশ ভালই।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অজানা সত্যকে সামনে এনে ঝড় তুলে দেওয়া পিনাকী ভট্টাচার্যের বই “মার্কিন ডকুমেন্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১” প্রকাশিত হওয়ার দুই মাস না পেরোতেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দিক নিয়ে নতুন বই “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” প্রকাশ করে দেশবাসীর হাতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক উপহার তুলে দিয়েছেন তিনি। আগের বইয়ে যেমন বাংলাদেশের মহান যুদ্ধে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে এতদিন ধরে বিশ্বাস করে আসা অনেক ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তেমনি সম্প্রতি প্রকাশিত “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইয়েও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের সাথে ইসলামকে অপ্রাসঙ্গিক ও অবজ্ঞা করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণাকে তিনি তথ্য-উপাত্ত ও শক্তিশালী যুক্তি-প্রমাণের মাধ্যমে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন। তিনি “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইয়ে প্রমাণ করেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ইসলামের ‘ইনসাফ’ ধারণাকে কেন্দ্র করেই। আর এই ইনসাফ ধারণা থেকেই পাকিস্তানীদের বে-ইনসাফীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বহু আলেম উলামাসহ ধর্মপ্রাণ আমজনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মুক্তি যুদ্ধের পরেই তৎকালীন পরাশক্তি কমউনিস্ট সোভিয়েত ব্লকের দেশ ভারতের চাপে ও মদদে মুক্তিযুদ্ধের সাথে আলেম-ওলামা ও ইসলামকে প্রতিপক্ষ রূপে হাজির করে ইসলামকে বাংলাদেশ থেকে উৎখাতের একটা নীলনকশা প্রণয়ন হয়। তার অংশ হিসেবেই যুদ্ধ শেষ হবার পর থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নপন্থী রাজনীতিবিদ, সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী, সংষ্কৃতিকর্মী এবং লেখক-সাংবাদিকদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের নব্বই শতাংশ মানুষের ধর্ম ইসলামের বিপরীতে দাঁড় করানোর প্রয়াস আমরা দেখতে পাই। বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম-উলামাগণের মাঝে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় সাহিত্য চর্চায় অনীহা এবং সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও সংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মোটাদাগে অনুপস্থিতির সুযোগে সোভিয়েতপন্থীরা সহজেই এতে সফল হয়ে যায়।
অথচ মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে যুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কেউই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেক্যুলারিজমের কথা বলেন নাই। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও সেক্যুলারিজম নিয়ে কোন কথা ছিল না। অথচ যুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের মূল নীতিতে গণমানুষের চাওয়ার বিপরীতে জোর করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল ‘সেক্যুলারিজম’। এভাবেই ইসলামকে রাষ্ট্র থেকে নির্বাসনে দেওয়ার চেষ্টা চলে আসছে।

লেখক পিনাকী ভট্টাচায্য ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে একটা বয়ান হাজির আছে। সেই বয়ানে ইসলাম অনুপস্থিত। আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করানো হয়েছে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক ছিল। এভাবেই তৈরি হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য আর হেরিটেজের নির্মাণ”।

লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য বাম সেক্যুলারকুলের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ভূমিকা থেকে ইসলাম ও ধার্মিক মুসলমানদেরকে দুরে সরিয়ে এবং শত্রু জ্ঞান করে দেশ থেকে ইসলাম বিদায় করার অপকৌশলের খোলস উপড়ে দিয়েছেন তাঁর এই বইয়ে। আমার ধারণা, পিনাকী’র “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইটি ইসলাম বিদ্বেষী অপরাজনীতি ও মিথ্যাচারকে হাতিয়ার করা সেক্যুলারকুলের জন্য বিশাল এক আঘাত।

মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম বইয়ে লেখক প্রমাণ করেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আটক হওয়া রাজাকার ও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী যাদের ছবি এবং ভিডিও বিভিন্ন আর্কাইভে পাওয়া যায়, তাদের কারো মুখেই দাঁড়ি কিংবা মাথায় টুপি দেখা যায় না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত এই দেশের প্রায় সকল নাটক-সিনেমা এবং মুক্তিযুদ্ধকে উপলক্ষ করে প্রকাশিত পত্রিকায় বা পোস্টারে রাজাকার চরিত্রকে মুখে দাঁড়ি আর টুপি-পাঞ্জাবী পরিয়ে ইসলামী লেবাসে হাজির করা হয়ে আসছে। আলেম সমাজের মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চা এবং সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় অনুপস্থিতির সুযোগে আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় পশ্চিমা ও সোভিয়েতপন্থী ভারতীয় প্রভাব বলয় একচেটিয়াভাবে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পায়। আলেম-উলামার এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে সোভিয়েত ও পশ্চিমাপন্থীরা মিলেমিশে বাংলাদেশের মূল ধারার শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিসহ দেশপরিচালনা থেকে আলেম সমাজ ও দ্বীনদার মুসলমানদেরকে কোণঠাঁসা করে রাখতে সক্ষম হয়। অবশ্য সেক্যুলারদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় আমাদের ইসলামী নেতৃবৃন্দের দায়ও একেবারে এড়ানো যায় না।

পিনাকী ভট্টাচার্য

যে দেশের শতকরা নব্বইভাগ মানুষ ধর্মভীরু মুসলমান, সেই দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের ধর্মের একটি বয়ান থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। অথচ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে কত অবলীলায় ইসলামের বয়ানকে মুছে ফেলে মুসলমানদেরকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষ রূপে চিহ্নিত করা হয়। পিনাকী ভট্টাচার্য তার “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইটিতে মোট ১১৩টি রেফারেন্সের মাধ্যমে ইতিহাসের এই মহাসত্যটাই সামনে এনেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ যে তার জন্মলগ্ন থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত একটি ইসলামের প্রতি সংবেদনশীল রাজনৈতিক দল ছিল, লেখক বইয়ের শুরুর দিকেই সেটি প্রমাণ করেছেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার পর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তাদের সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কর্তৃক যেই খসড়া সংবিধানের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়, তাতে “পাকিস্তানের মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলার” কথা স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম অনুষ্ঠানের শুরু হয়েছিল- ‘নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম’-এর মাধ্যমে এবং শেষ হয়েছিল, ‘নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন কারীব” বাক্যের মধ্য দিয়ে। এছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিদিনের অনুষ্ঠান শুরু হতো পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও তরজমা পাঠের মাধ্যমে। সেখান থেকে নিয়মিতভাবে পবিত্র কুরআন এবং হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দেশের শত্রু প্রতিহত করতে ইসলামী নির্দেশনা মতে ‘জিহাদ’ হিসেবে অভিহিত করা হতো।

বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম ওলামাগণও যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই সত্যটা সেক্যুলারদের বয়ানে তৈরী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাওয়া যায় না। অথচ এই বিষয়টিকে পিনাকী ভট্টাচার্য তার বইয়ে রেফারেন্সসহ তুলে এনেছেন- “সেই সময়ে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম হাফেজ্জী হুজুর (রাহ.) মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানিদেরকে জালেম এবং মুক্তিযুদ্ধকে ‘জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই’ বলে অভিহিত করেন”। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’-এর পূর্ব পাকিস্তানের আমীর মরহুম শায়খুল হাদীস মাওলানা আজিজুল হক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন; এই বিষয়টিও এই বই থেকে জানা যায়। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা আরো অনেক আলেম-উলামার রেফারেন্সও এই বইয়ে পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের আলেম-উলামার পাশাপাশি উপমহাদেশের আলেম-উলামাগণও মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিলেন, যা এই বইয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের তৎকালীন সেক্রেটারী জেনারেল ও ভারতীয় পার্লামেন্টের লোকসভার সদস্য শায়খুল ইসলাম আল্লামা আসআদ মাদানী (রাহ.), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পশ্চিম পাকিস্তানের সেক্রেটারী মুফতী মাহমুদ (রাহ.) এবং মাওলানা কাওসার নিয়াজী (রাহ.) অন্যতম।
শুধু এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যে বেতার ভাষণ দিয়ে বিজয় ঘোষণা করেন, সেখানে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন এই বলে, “আমি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানসহ সব দেশবাসীকে আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া জ্ঞাপনের জন্য ও একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠনে আল্লাহর সাহায্য ও নির্দেশ কামনা করার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি”। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম আওয়াজ তুলে ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (রাহ.)।

এত কিছুর পরও কীভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েতপন্থী ভারতের চাপে মুক্তিযুদ্ধের সেক্যুলার বয়ান তৈরী শুরু হয়েছিল, সেই বিষয়েও এই বইয়ে পর্যাপ্ত রেফারেন্স দেয়া আছে। সেসব জানতে হলে আগ্রহী পাঠকগণকে অবশ্যই এই বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ইসলামকে কোণঠাঁসা করার অপপ্রয়াসের মোকাবেলা করতে চাইলে বইটি পড়া খুবই জরুরী ও ফলদায়ক। “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইটি পড়ার পর পাঠক যেমন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস জানতে সহায়তা পাবেন, তেমনি সহজেই ইসলাম বিদ্বেষী চরম সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর মোকাবেলায় নতুন নতুন মূল্যবান অনেক তথ্য ও যৌক্তিক কৌশল হাতে পেয়ে যাবেন। বইটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সাহায্য করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
বইটির উপসংহারে লেখক একটা গুরুত্বপুর্ণ কথা বলেছেন, সেটা হচ্ছে, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ শুধু এই ভূখণ্ডের জন্য নয়, ইসলামের ইতিহাসেও একটা গুরুত্বপুর্ণ লড়াই। কেননা এই জনগোষ্ঠী নিজের ভাষা আর সংস্কৃতির উপরে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ইসলামকে ত্যাগ করেনি।

সবশেষে বলতে পারি, এই বইটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা দিককে উন্মোচন করেছে, যা দীর্ঘ ৪৬ বছর যাবত আমাদের দেশের সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী, সংষ্কৃতিকর্মী এবং লেখক-সাংবাদিকরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে হলে এই বইটি পড়তেই হবে। [বনশ্রী, ঢাকা। ১৯ অক্টোবর, ২০১৭]