খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের সমনের প্রতিবেদন দাখিল

khaleda-zia-1-খালেদা-জিয়া-১1রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সমন জারির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাকিম সামছুল আরেফীনের আদালতে রোববার সিএমএম কোর্টের প্রসেস সার্ভার জাবিদ হোসেন বাচ্চু এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি খালেদা সমন গ্রহণ না করায় বিকাল উচ্চস্বরে সমনটি পাঠ করে বিকেল সাড়ে ৫টায় আইকা গাম দিয়ে তার বাসায় সমনটি ঝুলিয়ে দেন।

সমন জারির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সিএমএম কোর্টের প্রসেস সার্ভার জাবিদ হোসেন বাচ্চু সিএমএম আদালতের নাজির মো.মাসুদ খানের স্বাক্ষরিত সমনটি নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় খালেদা জিয়ার বাসায় হাজির হয়ে গেইটে দায়িত্বরত সিএসএফকে পরিচয় প্রদান করি।

সিএসএফকে সমনের প্রাপক বেগম খালেদা জিয়ার কথা জিজ্ঞাসা করি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে তা জানাই এবং বলি যে আমি মামলার সমন জারি করতে আসছি।

সিএসএফ এর সদস্য আনিসুর রহমান লাভলু ও জয়নাল আমাকে বলেন, আমাদের গেইট ইনচার্জ মেজর (অবঃ) আজিজ রানাকে বিষয়টি অবগত করে আসি।

মেজর (অবঃ) আজিজ রানা বাসার গেইটের ভিতর থেকে বের হয়ে আসলে তাকে আমার পরিচয় প্রদান করি এবং বিষয়টি জানাই।

মেজর (অবঃ) আজিজ রানা আমাকে বলেন,‘চেয়ারপারসন ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়া এখন ঘুমিয়ে আছেন, ঘুম হইতে উঠার পর আমি তাহাকে সমনের বিষয় অবগত করাব।’

এরপর মেজর (অবঃ) আজিজ রানা আমাকে পরামর্শ দেন যে, আপনি চেয়ারপারসনের দলীয় কার্যালয়ে গেলে তার পক্ষে সমন গ্রহণ করবেন।

আমি তার কথামতো দুপুর ১.৪৫ মিনিটে চেয়ারপারসনের অফিসে হাজির হলে গেইটে তালা ঝুলানো দেখতে পাই।

সেখানে গেইটের নিরাপত্তা কর্মী শাওনকে আমার পরিচয় প্রদান করি এবং বিষয়টি জানাই। নিরাপত্তা কর্মী অফিসের কম্পিউটার ফিরোজকে বিষয়টি জানান। কম্পিউটার অপারেটর গেইটে আসলে আমি তাকে আমার পরিচয় প্রদান এবং সমনের বিষয়টি জানাই।

কম্পিউটার অপরেটর বেগম খালেদা জিয়ার পিএস শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে ফোনে সমনের বিষয়টি বললে তিনি পরে জানাবেন বলে জানান।

পরে শিমুল বিশ্বাস আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানান যে, তিনি এখন বাইরে আছেন তাহার বা কম্পিউটার অপারেটরের পক্ষে সমন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তথন আমি খালেদা জিয়ার বাসায় ৩.২০ ফিরে এসে সিএসএফের সদস্য লাভলু ও জয়নালকে পুনরায় চেয়ারপারসনের অফিস হতে সমনটি বিনাজারিতে ফিরে আসি বলে জানাই।

তখন সিএসএফ সদস্যরা গেইটের ইনচার্জ রানাকে ডেকে নিয়ে আসলে আমি তাকে বিষয়টি জানাই।

তখন গেইটের ইনচার্জ রানা আমাকে জানান,‘চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কিছুক্ষণ পরে ঘুম থেকে উঠবেন, আসরের নামাজ আদায় করবেন ও দুপুরের খাওয়া দাওয়া করার পরে মামলার সমনের বিষয়টি অবগত করাইবেন বলিয়া আমাকে জানান।’

তিনি আমাকে গেইটের বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। আমি গেইটের বাইরে দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর সন্ধ্যা ৫.০৫ মিনিট সিএসএফ সদস্যদের পুনরায় বিষয়টি জানাই এবং গেইটের ইনচার্জকে জানানোর জন্য অনুরোধ করি।

তিনি গেইটের ভিতর থেকে বাহির হয়ে আমাকে জানান যে, ‘চেয়ারপারসন বা তাহার পক্ষে কেউ সমন গ্রহণ করিবেন না বলিয়া জানান।’

তিনি আমাকে আরো জানান যে, সন্ধ্যা ৫.১৫ মিনিটের সময় পরবর্তী গেইটের ইনচার্জ মেজর (অবঃ) আনোয়ার আসলে সমনের বিষয়টি তাকে অবগত করতে। আমি তাকে বিষয়টি জানালে তিনি আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বললেন। তিনি সন্ধ্যা ৫.৩০ মিনিটে গেইটের বাইরে আসে আমাকে বলেন যে, তিনি সমন গ্রহণ করবেন না।

পরে আমি সিএসএফ সদস্য লাভলু ও জয়নালের উপস্থিতে সমনটি উচ্চস্বরে পাঠ করে তাহার (খালেদা জিয়া) বাসার সদর দরজায় মূল ফটকের নীচে গাম দিয়ে লটকাইয়া সমন জারি করি।

এতএব, মহোদয়ের সমীপে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লটকাইয়া জারি সমনটি ‍আদালতে ফেরত দাখিল করলাম।

২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মামলায় ৩ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার আদালতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী ১২৩ এর ‘ক’, ১২৪ এর ‘ক’ ও ৫০৫ ধারায় পিটিশন মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।’

এরপর ২৩ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানান তিনি।

২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।