স্বীকৃতি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি নয় : প্রয়োজন সতর্ক দৃষ্টি রাখা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

সৈয়দ শামছুল হুদা | সম্পাদক : নূরবিডি ডটকম


কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি বিষয়ে নানা ধরণের কথা শুনতে পাচ্ছি। কেউ কেউ বলছেন- অন্ধকারে স্বীকৃতির কাজ সারা হচ্ছে। কেউ বলছেন- নিয়ম এবং বিধি মেনে যা করার সেটা করা হচ্ছে। যতটুকু অনুসন্ধানের সুযোগ হয়েছে তাতে দেখতে পাচ্ছি- আসলে ফেসবুকে যেভাবে রং ছড়ানো হচ্ছে বিষয়টি তেমন নয়। সরকার যখন কোন বিষয়ে অনুমোদন দিবেন, তখন অবশ্যই সরকারের নিজস্ব কোন কমিটির মাধ্যমেই দিবেন। সেটা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য হলেও একটি কমিটি লাগবে। অর্থাৎ যে কমিটি এটা বলবে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ঘোষণা গণভবনে দিয়েছেন সেটা এই এই নীতিমালার আলোকে করা হয়েছে। এবং সরকারের পক্ষ থেকে অমুক অমুক বিষয়টি যাচাই বাছাই করে স্বীকৃতির অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেখানে কওমী মাদ্রাসার প্রতিনিধি থাকার বিষয় নয়।

কওমী মাদ্রাসা সমূহের পক্ষে হাইয়াতুল উলয়া কওমী মাদ্রাসা সমূহকে সরকারের নিয়ন্ত্রন মুক্ত রেখে কী প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেওয়া হবে, সেটার প্রস্তাব তারা দিয়েছেন। সেটা অনুমোদন দিবেন সরকারের একটি অণুমোদিত কর্তৃপক্ষ। আর সেটাই হলো- ইউজিসির উদ্যোগে যে ৯সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটি।

তারা কওমী মাদ্রাসার সিলেবাস ঠিক করবেন না। বরং কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতির ঘোষণাটি বাস্তবায়নে আইনগত বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এটা যে কোন সরকারই করবে। সরকার বলতে শুধু শেখ হাসিনাকে বুঝায় না। গোটা প্রশাসনকেই সরকার বুঝায়। যে কোন সরকারের সময়ে স্বীকৃতির এই ধারাবাহিকতা বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করতেই হবে। নুতবা ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠবে – কওমী মাদ্রাসার নিঃশর্ত স্বীকৃতি কোন নীতিমালার আলোকে? কোন কমিটির যাচাই বাছাইয়ে করা হয়েছে? তখন সঠিক উত্তর না থাকলে সেটা বাতিল হয়ে যাবে।

আর এটাকেই আমরা ভুল করে প্রচার করছি- অনুমোদনের ক্ষমতা শামীম আফজালের হাতে কিভাবে গেলো? এর উত্তরে জানা গেছে- শামীম আফজাল যেহেতু ইফার মহাপরিচালক, সেই সূত্রেই তাকে সরকার অনুমোদন কমিটির সদস্য বানিয়েছে। আমাদের দেখার বিষয় হলো- হাইয়ার পক্ষ থেকে স্বীকৃতির জন্য যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটা কতটুকু নির্ভুল। এবং সরকার যে কমিটি গঠন করেছে, সেটা হাইয়ার প্রস্তাব পরিবর্তন করেছে কি না? সে দিকে চোখ রাখা।

আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবও যদি এককভাবে স্বীকৃতি চাইতেন, তাহলেও সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়ে দিতেন না। তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নিশ্চয়ই কোন কমিটি হতো। সেই কমিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রস্তাব যাচাই বাছাই করে দেখতো। এবং সর্বশেষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিতেন। বর্তমানেও একই ঘটনা ঘটছে। আমরা হয়তো অনেকেই না বুঝে মনে করছি- কওমী মাদ্রাসার সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রনে চলে যাচ্ছে।

সরকারের স্বীকৃতি চাইলে সরকারের কোন না কোন কমিটির অনুমোদন লাগবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি কাউকেই কোন স্বীকৃতি দিবেন না। কোন কমিটি হাইয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে। সেটা সংসদীয় কমিটি পর্যালোচনা করবে। তারপর সেটা সংসদে অনুমোদিত হয়ে চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে। এখন দেখার বিষয় ইউজিসি যে কমিটি গঠন করেছে তারা কতটা কী করেন।

আসুন, আমরা হাইয়ার কর্মতৎপরতা এবং সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদিত কমিটি কী প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেয় সেটার দিকে চোখ রাখি। এবং সঠিকভাবে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে কি না তার প্রতি নজর রাখি। ধুম্রজাল সৃষ্টি করে শত্রু পক্ষকে খুশি করার প্রয়োজন নেই। আইনগত বিষয়ে আমাদের অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই। বিধায় আমরা একটি কাজ করতে পারি- স্বীকৃতি বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে- সেটার একটি মুক্ত আলোচনা হতে পারে।

বিশেষ করে তরুণদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া যায়-
স্বীকৃতির বিষয়টি কী পর্যায়ে আছে?
স্বীকৃতির আইনগত ভিত্তি কি হবে?
স্বীকৃতি বিষয়ে ‍গৃহিত হাইয়ার উদ্যোগ যথেষ্ট কি না?
হাইয়ার অনুমোদিত গঠনতন্ত্র কতটা নির্ভুল?
ইত্যাদি বিষয় বুঝার জন্য, আলোচনার সভা কোন আলোচনা সভা করা যেতে পারে।


ফেসবুক থেকে