মশলা খেয়ে ওজন কমান!

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ওজন কমাতে গিয়ে শুধু কি খাচ্ছেন সালাড, সেদ্ধ মাছ আর মাংস? তাহলে তো খুব ভুল করছেন। কারণ, আপনি ওজন কমানোর জন্য সবার আগে বাদ দিয়েছেন মশলা খাওয়া।

দোষ অবশ্য আপনাদেরও নয়। আমাদের সকলেরই একটি বদ্ধমূল ধারণা যে, মশলা দেওয়া খাবার খাওয়া মানেই ওজন হু হু করে বেড়ে যাওয়া। আসলে এটি খুব ভুল ধারণা। খাদ্যে মশলা ব্যবহার করা আর দোকানে কিনতে পাওয়া মশলাদার খাবারের মধ্যে অনেক পার্থক্য।
মনে রাখতে হবে যে, আমরা যে খাবার বানাই, তার স্বাদ আর গন্ধ বাড়াতেই শুধু মশলার ব্যবহার করি না। এর আরও একটি কারণ হল, প্রতিটি মশলার মধ্যে বেশ কিছু ঔষধি গুণ থাকে, যা খাদ্যকে শরীরের জন্য উপযোগী হয়ে উঠতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। তাই খাবারে প্রয়োজন মত মশলা ব্যবহার না করা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন মশলা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

১.হলুদ:
হলুদ তো আমরা সব রান্নাতেই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এর গুণ সম্বন্ধে আমরা কজনই বা খোঁজ রাখি। আসলে হলুদ দেহের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে দারুণ কাজ দেয়। ২০০৯ সালে টাফট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইদুরের ওপর একটি গবেষণা চালান। সেখানে ইঁদুরদের কারকিউমিন খাওয়ানো হয়। এই কারকিউমিন হল হলুদের মধ্যে উপস্থিত এক ধরণের উপকারি উপাদান। আর অন্য কয়েকটি ইঁদুরকে কারকিউমিন খাওয়ানো হয় না। পরীক্ষাটি চলাকালীন দেখা যায় হলুদ হল উষ্ণতা সৃষ্টিকারী একটি মশলা, যা শরীরের ভিতর উৎসেচকের মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, হলুদের আরও বহু রকমের স্বাস্থ্যকর দিক রয়েছে। যেমন- হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে এবং অ্যালজাইমার সারাতে পারে। এছাড়াও, বহু ধরণের উপকার হলুদ করে থাকে। তাই নিয়ম করে হলুদ রান্নায় মেশানো খুবই উপকারি।

২.দারচিনি:
মাংস রান্না থেকে শুরু করে নানা পদের মধ্যেই আমরা গরম মশলা ব্যবহার করে থাকি। এই গরম মশলার প্রধান উপকরণ হল দারচিনি। দারচিনি রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে, অতিরিক্ত খিদে কমাতে সাহায্য করে এবং অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে ওটমিল, দই ইত্যাদির সঙ্গে দারচিনি মিশিয়ে খাওয়া খুবই উপকারি।

৩.মরিচের গুঁড়া:
মরিচের গুঁড়ার নাম শুনলেই যেন ঝাল লাগে, তাই না? অনেকে তো শুঁকনো মরিচের গুঁড়া খানই না। আবার অনেকের ধারণা শুঁকনো মরিচের গুঁড়া শরীরের জন্য খুবই খারাপ। তবে এগুলো খুব ভুল ধারণা। তার কারণ, হলুদের মতো মরিচের গুঁড়াও আমাদের শরীরের ভিতর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে দেহে উৎসেচকের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। শুকনো মরিচ কোনও একটি খাবারে মেশালে তা ১০০ ক্যালোরি অবধি কমাতে সাহায্য করে।

৪.জিরা:
সাম্প্রতিক অতিরিক্ত ওজন সম্পন্ন মহিলাদের ওপর একটি সমীক্ষা করা হয়। এতে প্রমাণ হয় যে, প্রতিদিন এক চা চামচ করে জিরা খেলে অত্তিরিক্ত মেদ তিন গুণ হারে কমে যায়। পৃথিবীর সর্বত্র জিরা খাদ্য তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। প্রথমত, জিরা খাবারের মধ্যে সুগন্ধের সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে এর খাদ্যগুণও শরীরের জন্য দারুণ উপকারি। তাই প্রতিদিন খাবার তৈরি করতে হলে তারমধ্যে অবশ্যই জিরা দিয়ে রান্না করুন।

৫.আদা:
জিরার মতো আদাও রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোনও মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে তার ক্ষতিকারক দিক রোধ করতে পারে জিরা। একইসঙ্গে আদার মধ্যে মেদ ঝরানোর উপাদান থাকে, যা থার্মোজেনিক নামে পরিচিত। একই ধরনের উপাদান থাকে হলুদ এবং শুঁকনো লঙ্কার গুঁড়োর মধ্যেও। ঠিক এই কারণেই, রান্না ছাড়াও সালাড, চা ইত্যাদির মধ্যে আদা ব্যবহার করা জরুরি।

৬.রসুন:
রসুন কিছুতেই খান না কেন, বলুন তো? মুখে গন্ধ হয়? কিন্তু যদি বলি যে, রসুন খেলে মনের মতো করে ওজন কমাতে পারবেন, তাহলে? আসলে রসুন আমাদের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। ইঁদুরের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে নিয়মিত রসুন খেলে সাত সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন কমানো যায়। যদিও, মানুষের ওপর এই সময় কতটা লাগবে, তা এখনও প্রমাণ করা যায়নি। মনে রাখা ভাল যে, রসুনের মধ্যে ক্ষতিকারক কোনও উপাদান নেই। তাই রান্নার মধ্যে বেশি পরিমাণে রসুন দিলে তাতে কোনও ক্ষতি হয় না। তাই মাছ, মাংস, সালাড ছাড়াও সকালে ঘুম থেকে উঠে একটি করে রসুন খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

৭.গোলমরিচ:
আদার মতো গোলমরিচের মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট কমানোর ক্ষমতা রয়েছে। এটি নতুন করে মেদ শরীরে জমতে বাধা দেয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই যে কোনও খাবার, যেমন- সালাড, স্যুপ, দই, ওটস এবং ঝোলের মধ্যে গোলমরিচ মিশিয়ে খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

৮.ড্যান্ডেলিয়ন:
এটি এক ধরণের ফুল। বাগানের শোভা বাড়াতে যে ফুল চাষ করা হতো, আজ তাই হয়ে উঠেছে এক বিখ্যাত খাদ্য। ইদানিংকালে বিদেশের বহু জায়গায় ড্যান্ডেলিয়ন নানা পদ পরিবেশন করা হয়. এমনকি পানীয় তৈরির প্রধান উপকরণ হিসাবে এই প্রকৃতিক উপাদানটি ব্যবহৃত হয়। এই ফুলের বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। যেমন- এর মধ্যে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নানা খনিজ উপাদান যেমন- আইরন এবং পটাশিয়াম।


বিডি প্রতিদিন