কওমী সনদের স্বীকৃতি নিয়ে বেফাকের সাথে অন্য বোর্ডগুলোর মতভেদ

কওমী সনদের স্বীকৃতি নিয়ে বেফাকের সাথে অন্য বোর্ডগুলোর মতভেদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

গত ২ নভেম্বর চট্টগ্রামের জামিয়া মাদানিয়া শোলকবহর মাদরসায় এক দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া ছাড়া অপর ৫ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। বৈঠকে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের সরকারী স্বীকৃতি বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন তারা। বৈঠকে ৫ বোর্ডের কর্মকর্তাগণ কওমী সনদের স্বীকৃতি বিষয়ে দেওবন্দী উসূল ও কওমী স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখাসহ গত ১০ ডিসেম্বর ৬ বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাটহাজারী বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তে অটল থাকার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। বৈঠকে কওমি সনদের স্বীকৃতি বিষয়ে আলোচনার জন্য অচিরেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের বিষয়েও স্থির হয়।

চট্টগ্রামের শোলকবহর মাদ্রাসায় গত ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেফাক ছাড়া অপর ৫ বোর্ডের বৈঠকটি এমন সময়েই অনুষ্ঠিত হল, যখন সনদের স্বীকৃতি গ্রহণ প্রশ্নে কয়েকটা ইস্যুতে বেফাকের সাথে ৫ বোর্ডের মতানৈক্য ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক ও ইত্তেহাদুল মাদারিসিল কওমিয়ার মহাসচিব আল্লামা আবদুল হালিম বুখারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিলেট আজাদ দ্বীনি এদারা’র পক্ষ থেকে মাওলানা আবদুল বাছির, মাওলানা এনামুল হক ও মাওলানা ইউসুফ খাদেমানী। তানজিমুল মাদারিসিল কওমিয়া উত্তরবঙ্গের পক্ষ থেকে মাওলানা আরশাদ রাহমানী, মুফতি এনামুল হক, মুফতি মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা আবদুল হক হক্কানী। জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী ও মাওলানা আবুল কাসেম। বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বোর্ডের পক্ষ থেকে মুফতি রুহুল আমিনের ছেলে মাওলানা উসামা আমিন উপস্থিত না থাকলেও বৈঠকের সিদ্ধান্তে একমত রয়েছেন বলে জানান। এই বৈঠকের পর বেফাকের সাথে অপর ৫ কওমি বোর্ডের মতানৈক্য ও দূরত্বের বিষয়টি সাধারণের নজরে চলে এসেছে।

বৈঠকে ৫ বোর্ডের কর্মকর্তাগণ অভিযোগ করেন যে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে ৬ বোর্ডের বৈঠকে কওমী সনদের সরকারী স্বীকৃতি গ্রহণ প্রশ্নে সকলের ঐক্যমতে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, বেফাক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। সেই দিনের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয়ে রেজ্যুলেশন হয়েছিল যে, “কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট ও স্বকীয় অবস্থান বজায় রেখে কোনরূপ সরকারী কর্তৃপক্ষ ও কমিশন গঠন এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যতিরেকে কওমি শিক্ষা পদ্ধতি, সিলেবাস ও মাদ্রাসা পরিচালনায় যে কোনরূপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ ছাড়া কওমি মাদ্রাসা সমূহের দাওরায়ে হাদীসের সনদকে ইসলামিয়াত ও আরাবিয়াতের উপর এমএ-এর মান প্রদান করা হলে, উপস্থিত কওমি মাদ্রাসা বোর্ডসমূহ এবং অপরাপর কওমি মাদ্রাসাসমূহ সনদের মান গ্রহণের উপর একমত পোষণ করে”। ৫ বোর্ডের অভিযোগ, কওমি মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম ও আইন তৈরির বিষয়ে সরকার কর্তৃক ইউজিসির মাধ্যমে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন এবং হাইয়্যাতুল উলইয়ার জন্য সরকারী জমি গ্রহণ প্রশ্নে বেফাক সম্মতি প্রদান করে ১০ ডিসেম্বরের গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বেফাক। এতে সনদের স্বীকৃতি গ্রহণে কওমি স্বকীয়তা বজায় রাখা এবং দেওবন্দী উসূলের উপর মাদ্রাসা পরিচালনা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশংকা তৈরি হবে। বেফাকের বর্তমান সন্দেহজনক ও বিতর্কিত তৎপরতায় কওমী মাদরাসার স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্যবৈশিষ্ট্য মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে শোলক বহরের বৈঠকে ৫ বোর্ডের কর্মকর্তাগণ দারুল উলূম দেওবন্দের ৮ নীতিমালাসহ কওমী স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্যবৈশিষ্ট রক্ষার প্রশ্নে কোনরূপ ছাড় না দেওয়ার উপর দৃঢ় সংকল্প করেন। তারা বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে সরকার কর্তৃক ইউজিসির মাধ্যমে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন এবং হাইয়্যাতুল উলইয়ার জন্য সরকারী জমি গ্রহণের কোনই সুযোগ নেই। এমনটা করা হলে এটা হবে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও কওমি স্বকীয়তাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল। দেশে ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংসের যে কোন উদ্যোগে তো আমরা চুপচাপ চেয়ে দেখতে পারি না।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক ও ইত্তেহাদুল মাদারিসিল কওমিয়ার মহাসচিব আল্লামা আবদুল হালিম বুখারী টেলিফোনে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতুল কাওমিয়ায় বেফাকের প্রতিনিধিত্ব এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় অনান্য বোর্ডগুলোর মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে না”।

হাইয়াতুল উলইয়ার জন্য সরকার জমি বরাদ্দ দিচ্ছেন বলে যে কথা শোনা যাচ্ছে তিনি সে বিষয় বলেন, “আমি সে মিটিংয়ে ছিলাম না। তবে শুরু থেকেই বেফাকসহ অপর বোর্ড সমুহের সকলেই একমত পোষণ করে ছিলেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম জায়গা-জমি বা কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতা নেয়া হবে না”।

৯ সদস্যের মঞ্জুরি কমিশনের বিষয় জানতে চাইলে আল্লামা বুখারী ইনসাফকে বলেন, “আলাদা করে মঞ্জুরি কমিশন করার দরকার আছে বলে মনে করে না আমাদের ৫ বোর্ড। শোলক বহরের বৈঠকে আমাদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, হাইয়াতুল উলইয়াকেই মঞ্জুরি কমিশনের মর্যাদা দেয়া হোক। আর যদি সরকারের ইচ্ছে মত এভাবে কমিশনসহ সব কিছু হতে থাকে, তাহলে আমরা আমাদের দেওবন্দের যে মূল নীতির ওপর থাকতে চাচ্ছি তা তো রক্ষা হবে বলে মনে হয় না”।

এছাড়াও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি শামিম মুহাম্মদ আফজলের মঞ্জুরি কমিশনে যুক্ত হওয়ার বিষয়টাও বড় ধরণের সংশয় তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “এসব আমরা শুনেছি। শামিম আফজালের কাছে বেফাকের মহাসচিব বিভিন্ন কাগজ-পত্র জমা দিয়েছেন বলেও শুনেছি। তবে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং হাইয়্যাতুল উলইয়ার আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন”।

এসব বিষয়ে বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে আলাপ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইনসাফকে আল্লামা বুখারী বলেন, “চেয়ারম্যান  দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ। তিনি অনেকদিন ধরে কোন বৈঠকে আসতে পারছেন না। তাঁর পক্ষ থেকে বৈঠক পরিচালনা করছেন কো চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী। তিনিও অসুস্থ মানুষ”।

তাহলে বিষয়গুলো কে দেখাশোনা করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আল্লামা বুখারী বলেন, “বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস দেখাশোনা করেন”।

এ পর্যায়ে আল্লামা বুখারী পুনরায় অভিযোগ তুলে বলেন, “হাইয়্যাতুল উলইয়ার বৈঠকে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেফাক ছাড়া অনান্য বোর্ডগুলোর মতামতকে খুব একটা মূল্যায়ন করা হয় না”। এর সাথে তিনি আরো যোগ করে বলেন, “অনেকেই তো এমন বলছেন যে- আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেবকে সামনে রেখে এবং তাঁর নাম ভাঙিয়ে একটা মহল নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কওমি শিক্ষার জন্য এগুলো অশনি সংকেত”।

স্বীকৃতি নিয়ে এখন কী ভাবছেন বা কতটা আশাবাদি এমন প্রশ্নের জবাবে আল্লামা বুখারী বলেন, “হাইয়াতুল উলইয়ার দায়িত্বশীলরা যদি সকলকে নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করেন, তাহলে কওমী সনদের স্বীকৃতি সঠিকভাবে পাওয়া যেতে পারে”।

হাইয়াতুল উলইয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে বেফাক ছাড়া অপরাপর বোর্ডের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে- বলে টেলিফোনে জানানো হলে ইনসাফকে বেফাকের সহসভাপতি মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, “এই অভিযোগ সঠিক নয়। মাওলানা আবদুল হালিম বুখারী মাত্র একবার এসেছেন বৈঠকে। তিনি বৈঠকে আসেন না। তাঁর প্রতিনিধি এসে থাকেন বৈঠকে। তিনি জানবেন না কেন?”

সরকারের কাছ থেকে হাইয়াতুল উলিয়া জমি নিচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয় তিনি বলেন, সরকার থেকে জায়গা নিলে সমস্যা কোথায়? এ পর্যায়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে মুফতী ওয়াক্কাস প্রশ্ন তুলে বলেন, “আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী সাহেবের মাদরাসার কিছু অংশ সরকারের দেয়া জায়গার উপরে হতে পারলে হাইয়াতুল উলিয়া নিলে সমস্যা কোথায়?”

গত ১০ ডিসেম্বর হাটহাজারীর বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনরূপ হস্তক্ষেপ ও সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই কওমী সনদের স্বীকৃতি দিলে তবেই গ্রহণ করা হবে; এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কওমী কোন প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই কারিকুলাম তৈরি ও আইন প্রণয়নের জন্য সরকার কর্তৃক ইউজিসির মাধ্যমে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি, সেই কমিটিতে কওমিদের কাউকেই রাখা হয়নি। তাছাড়া হাইয়্যাতুল উলইয়ার জন্য সরকারী জমি গ্রহণ করার খবর আসছে। এগুলো কি গত ১০ ডিসেম্বরের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিপরীত নয়? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুফতী ওয়াক্কাস বলেন, “ওই ৫ বোর্ড এক সময় সরকারের সাথে চুক্তি করেছিল বেতন ও গাড়ী নেয়ার। তাই তাদের মুখে এমন অভিযোগ মানায় না”।

মঞ্জুরি কমিশনে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়ে মুফতী ওয়ক্কাস বলেন, “যারা এ বিষয় আপত্তি তোলেন তারা তো আহম্মক। এটা সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এভাবেই হতে হবে। যারা আপত্তি তুলছেন, তারা না বুঝেই আপত্তি করছেন। তারা কিছুই জানেন না”।

২ নভেম্বর চট্টগ্রামের শোলকবহর মাদ্রাসায় ৫ বোর্ডের বৈঠকে উপস্থিত থাকা সিলেট দ্বীনি এদারার মহাসচিব মাওলানা আবদুল বাছির টেলিফোনে ইনসাফকে বলেন, “প্রথমে কথা ছিল সরকারের কোনরকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বীকৃতি নেয়া হবে এবং ৬ বোর্ডের সকলের মতামতের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বেফাকের কতিপয় নেতা অন্য বোর্ডসমূহের মতামত না নিয়েই নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে হাইয়্যাতুল উলইয়ার উপর”।

তিনি আরো বলেন, “সিলেবাস ও গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য কোন কমিটি করা হয়েনি। কারো মতামত নেয়া হয়নি। বৈঠকে উত্থাপন করেই বেফাকের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে সিলেবাস ও গঠনতন্ত্র পাশ করিয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা আপত্তি তুললেও তাতে বেফাকের লোকজন কান দেয়নি। এমনকি, খোলামেলা আলোচনারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা একমত ছিলাম না। কিন্তু পরবর্তীতে দাবি করা হয়েছে যে, সর্বসম্মতিক্রমে সিলেবাস ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এটা একদম সঠিক নয়”।

তিনি জানান, “নেসাব প্রণয়নের পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে তা জমা দেয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের কারো মতামত নেয়া হয়নি। বিশেষ করে বিতর্কিত লোক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি শামিম আফজলের কাছে কওমী মাদরাসার সিলেবাস হস্তান্তরের খবর জেনে আমরা হতবাক হয়েছি। এসব বিষয় আমাদের সাথে কোনরকম পরামর্শ করা হয়নি”।

আপনারা এসব বিষয়ে হাইয়াতুল উলইয়ার প্রধানের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে মাওলানা আবদুল বাছির বলেন, “শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী অসুস্থ। তাঁর অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন কো চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী। আমরা তাঁর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আমরা তাঁকে অনুরোধ করেছি বৈঠক আহবান করতে। আমরা বলেছি, বেফাক ও অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে যেন কোন বিভেদ তৈরি না হয়, ভুল বুঝাবুঝি তৈরি না হয়, এজন্য একটা বৈঠক আহবান করুন। কিন্তু তিনি এ বিষয় কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আমরা হাইয়াতুল উলইয়ার অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা মাওলানা আবদুল হালিম বোখারির সাথে বৈঠকে বসেছি”।

চট্টগ্রামে ৫ বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠানের কারণ হিসেবে তিনি আরো যোগ করলেন, “মাওলানা আবদুল হালিম বোখারী অসুস্থ, তাই আমরা সবাই চট্টগ্রামে গিয়েছি”।

মাওলানা আবদুল বাছির আরো জানান, “গত ২ নভেম্বরের বৈঠকে ৫ বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি লিয়াজো কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থানের কথা জানাবে”।

কে কে আছেন এই কমিটিতে জানতে চাইলে তিনি জানান, “মাওলানা ইয়াহিয়া মাহমুদ, মাওলানা আরশাদ রহমানী ও মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ আছেন এই কমিটিতে”।

বেফাকের তরফ থেকে শোনা যাচ্ছে, ২০০৬ সালে সিলেবাস পাশ হয়েছিল। এ কারণেই কি হাইয়াতুল উলইয়ার বৈঠকে নতুন করে আর সিলেবাস দেখানোর প্রয়োজন মনে করেননি- এই প্রশ্নের জবাবে বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ইনসাফকে বলেন, “এবারো দেখানো হয়েছে। দেখিয়েই পাশ করানো হয়েছে”।

শামিম আফজলের সাথে দেখা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা নিয়ে যারা আপত্তি তোলে, তারা বেকুবের মত কাজ করছে। এই শামিম আফজল সাহেব সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য। তিনি সরকারের পক্ষ হয়ে আমাদের সাথে দেখা করতে চাইলে আমি মাওলানা আশরাফ আলীসহ দেখা করতে যাই”।

৯ সদস্যের সিলেবাস ও আইন প্রণয়ন কমিটিতে আলেমদের কেউ নেই কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘এটা সরকার গঠিত কমিশন’। এটা সরকারের স্বাভাবিক নিয়ম বলেও জানান তিনি।

মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস আরো বলেন, “তার পরেও মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে আলেম-উলামাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। তারা আলেম-উলামাদের সাথে বসবে”।

আলেমদের প্রতিনিধি এই কমিটিতে যুক্ত করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। হাইয়াতুল উলইয়ার বৈঠকে আল্লামা আমদ শফী উপস্থিত থাকেন কিনা বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁকে জানানো হয় কিনা- জানতে চাইলে মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “তিনি সব সময় উপস্থিত থাকেন না। সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমরা তাঁকে জানিয়ে দেই। হাইয়াতুল উলইয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিটাও আগে তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে। তারপর আমরা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছি”।

হাইয়্যাতুল উলইয়ার জন্য সরকারী জমি গ্রহণের বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছে; এ বিষয়ে মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “জমি দিচ্ছে যে এমন না। প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব আমাদেরকে বলেছেন যে, ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটা জায়গা আছে। আপনারা চাইলে সেটা নিতে পারেন। আমরা কিছু অর্থের বিনিয়ে সেটা নেয়ার জন্য আলাপ-আলোচনা করছি। মিটিংয়ে এই নিয়ে কথা হয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আমরা নিতে পারি”। তিনি জানান, এসব বিষয় সামনে রেখে অতিদ্রুত হাইয়াতুল উলইয়ার বৈঠক ডাকা হবে। বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হবে।