কমিউনিষ্টরা জাসদের মাধ্যমে জিয়াকে ছিনতাই করতে চেয়েছিল

কমিউনিষ্টরা জাসদের মাধ্যমে জিয়াকে ছিনতাই করতে চেয়েছিল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

এক ৭নভেম্বর রুশ বিপ্লবের (নতুন গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জী অনুযায়ী) আরেক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ১৯৭৫ সালে।

দুটো বিষয়ই আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রথমে রুশ বিপ্লব! দেখুন বিবিসির ভাষ্য;
“এভাবেই বদলে যাচ্ছে রাশিয়ায় অতীত । একসময় বলা হতো রুশ বিপ্লব ছিলো একটি বিশাল ঘটনা। পরে বলা হলো না, সেটা ওরকম মহান কিছু নয়। একসময় ধর্ম ছিলো মানুষকে বুঁদ করে রাখার আফিম। কিন্তু পরে এই ধর্মই হয়ে উঠলো রাশিয়ার প্রাণ।

ফলে যে যখন ক্ষমতায় আসছেন তার চাওয়ার মতো করেই লেখা হচ্ছে এর ইতিহাস। সেকারণে রাশিয়া এমন একটি দেশ যেখানে শুধু ভবিষ্যৎই নয়, অতীত সম্পর্কেও নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।”

“আজকের রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যে নতুন ইতিহাসের পাঠ নিচ্ছে, তার সঙ্গে অক্টোবর বিপ্লব পরবর্তী ইতিহাসের ফারাকটা বিরাট।”

বিবিসির এ নিউজগুলোর পরও কমিউনিস্টরা কী নতুন করে কমিউনিজমের স্বপ্ন দেখবেন?

এবার আসি বাংলাদেশের ৭ নভেম্ব প্রসঙ্গে!
গত বছর এ সময় স্ট্যাটাসটা দিয়েছিলাম ;

৭ নভেম্বর বি এন পির জন্য বারবার ফিরে আসবে। কিন্তু জিয়ার নেতৃত্ব আর ফিরে আসবেনা। বি এন পি র আদর্শিক দৈন্য দিন দিন বাড়বেই। যারা বলে বি এন পি আর ক্ষমতায় আসবেনা তাদের অনুমান ভুল। তবেএই ফিরে আসা হবে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে নয়, ৭ নভেম্বরবিমুখ তার মুচলেকা আর আপোষকামিতার কারণেই।

মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া কেবল একটি ব্যাক্তি সত্ত্বার বিবর্তন নয় বরং আমাদের জাতীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতির রূপান্তর ও বটে। যে রূপান্তর ইসলাম বনাম পৌত্তলিকতাশ্রিত সেক্যুলারিজমের মেরুকরণে ইসলামী স্বকীয়তার পক্ষে ক্ষুদ্রতম পর্যায়ের হলেও ভূমিকা রেখেছে। যারা রাতারাতি ইসলাম কায়েমের স্বপ্নিল জগতে বাস করেন অথবা নৌকা আর ধানের শীষ দুই সাপের একি বিষ’ তত্ত্বের নির্বিচার প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত হন, তারাও মানতে বাধ্য হবেন ৭১ পরবর্তি দিনকালের চাইতে জিয়া কালীন সময়টা ইসলামী সংস্কৃতি ও রাজনীতির জন্য নি:সন্দেহে মন্দের ভাল ছিল। আক্বীদাহর সমীকরণে সবটাই জাহিলিয়াত সবটাই সেক্যুলারিজম। কিন্তু দাওয়াতের বাস্তবতায় আবুতালেব আর আবুজেহল এক ক্যাটাগরির নয়। পুর্নাঙ্গ আদর্শিক চেতনার জায়গা থেকেই মুসলিম লীগের প্রতি আমার ঘৃণা। আমি একই মানদন্ডে ঘৃণা করব বি এন পি কেও। কিন্তু ঐতিহাসিক বাস্তবতার বয়ানে সংঘাতময় পথচলার প্রাথমিক পর্বে তো একটা ন্যুনতম সহায়ক শক্তি খুজে নিতে হবে। জিয়ার প্রতি যদি এতদঞ্চলের মুসলমানের দূর্বলতা থাকে তাকে এ বিচারেই সাধুবাদ জানাতে হবে। জিয়া পর্যন্তই আমার মূল্যায়ন। কিন্তু ইসলামপন্থীরা জিয়ার দলের সাথে যে আজ গাঁটছড়া বেঁধেছে তা ক্ষমতামুখী লালসা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আদর্শিক দাওয়াতী রাজনীতি দ্বারা এ ঐক্য পরিচালিত নয়।

জিয়া হাইজ্যাক হওয়া মুক্তিযুদ্ধকে সেক্যুলার গোষ্ঠী আর ভারতীয়দের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করে ইসলামী রাজনীতির জন্য মাইলফলক রচনা করে দিয়ে ইসলামপন্থীদের উপর ইহসান করেছেন এমনটা ভাবা অবান্তর। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র গলদ ব্যাখ্যাটাকে সংখাগরিষ্টের চেতনা’ দ্বারা কিছুটা সহীহ করার মাধ্যমে ইতিহাসে নিজের জায়গা নিজেই করে নিয়েছিলেন।

কমিউনিষ্টরা জাসদের মাধ্যমে জিয়াকে ছিনতাই করতে চেয়েছিল। কর্নেল তাহেরের ঐ উদ্দশ্য সফল না হওয়ায় জিয়া রাজাকারের দোসর হয়ে গেলেন।

মেজর জিয়া তাদের কাছে হিরো কিন্তু রাষ্টপতি জিয়া কেন অপাঙ্ক্তেয়? জিয়া ইসলামপন্থীদের মিত্র কিনা সেটা নয় বরং তিনি শত্রুর শত্রু এটাই হবে আমাদে রজনৈতিক স্ট্রাটেজির সূত্র।


ফেসবুক থেকে