মৃত্যুর পর আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ কি ?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

পাখি উড়ে যায়, রয়ে যায় তার পালক। ঠিক তেমনি প্রকৃতির নির্ধারিত নিয়মে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে আপনাকে। রয়ে যাবে জীবদ্দশায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খুলে যাওয়া আপনার অ্যাকাউন্টগুলো। কত স্মৃতিই না জড়িয়ে আছে সে অ্যাকাউন্টে। মৃত্যুর পর কী হবে এসব সামাজিক যোগাযোগের অ্যাকাউন্টের? সেটা কি অন্য কেউ চালাবে? নাকি নতুন অ্যাকাউন্টের ভিড়ে তা হারিয়ে যাবে চিরতরে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবল। তাঁরা জানাচ্ছে, মৃত্যুর আগেই আপনি ঠিক করে যেতে পারবেন সামাজিক মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টগুলোর ভবিষ্যৎ।

ফেসবুক 
আপনি চাইলে আপনার মৃত্যুর পরও ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি চালু রাখতে পারবেন অথবা বন্ধ করে দিতে পারবেন। যদি আপনি মৃত্যুর পরও আপনার অ্যাকাউন্টটি চালু রাখেন, তাহলে সেখানে ‘রিমেমবারিং’ বা স্মরণীয় শব্দটি থাকবে। এ ছাড়া মৃত্যুর আগে আপনার অ্যাকাউন্টটি যে কাউকে দলিল করে দিয়ে যেতে পারেন। ফলে আপনার মৃত্যুর পরও অ্যাকাউন্টটির কার্যক্রম সচল থাকবে। এ জন্য এ ব্যাপারে একটি আইনি চুক্তি বা দলিলের কপি ফেসবুকে পাঠাতে হবে। সেখানে ব্যক্তির নাম ও তাঁর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করতে হবে। আপনার মৃত্যুর পর, মৃত্যুসনদ দেখিয়ে উইলে উল্লেখিত ব্যক্তিটি আপনার অ্যাকাউন্টটির দখল নিতে পারবেন। তবে যত দিন ফেসবুক আপনার মৃত্যুসনদ হাতে না পাচ্ছে, তত দিন অ্যাকাউন্টটি আপনারই থাকবে।

ইউটিউব 
বর্তমানে ইউটিউবের চ্যানেলগুলো আর্থিক দিক দিয়ে বেশ লাভজনক। এ ছাড়া প্রচুর ইউটিউব চ্যানেলের বেশ জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তাই মৃত্যুর আগে আপনার লাভজনক চ্যানেল বা অ্যাকাউন্টটি দিয়ে যেতে পারেন প্রিয় কাউকে। প্রক্রিয়াটিও অনেকটা ফেসবুকের মতই। আপনার মৃত্যুর পর কে আপনার ইউটিউব চ্যানেল বা অ্যাকাউন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন, তা একটি আইনি চুক্তি বা দলিলের মাধ্যমে জানাতে হবে ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে। তা না হলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল বা অ্যাকাউন্টটি নতুন চ্যানেল ও অ্যাকাউন্টের ভিড়ে হারিয়ে যাবে চিরতরে। কারণ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোনো ইউটিউব চ্যানেল বা অ্যাকাউন্টে তৎপরতা দেখা না গেলে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ নিজে থেকেই তা বন্ধ করে দেয়।

ইনস্টাগ্রাম 
আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটিও মৃত্যুর পর অন্য কারো মাধ্যমে সচল রাখা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রামের নীতি কিছুটা ভিন্ন। আপনার মৃত্যুর পর যে ব্যক্তি আপনার মৃত্যুসনদ দেখাতে পারবেন, সেই ব্যক্তিই হবেন অ্যাকাউন্টটির মালিক। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনার অ্যাকাউন্টটি চালু থাকবে নাকি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

টুইটার 
মৃত্যুর পর আপনার টুইটার অ্যাকাউন্টটি অন্য কারো মাধ্যমে চালু রাখার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের যে কেউ আপনার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার মৃত্যুর সনদ এবং তিনি যে আপনার পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়, সেটার প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ দিতে পারলেই আপনার অ্যাকাউন্টটি অপসারণ করবে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

গুগল 
মৃত্যুর পর আপনার গুগল অ্যাকাউন্টটি আর চালু রাখার সুযোগ নেই। তবে তা বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য যে মানুষটিকে আপনি গুগল অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার ক্ষমতা দেবেন, সে মানুষটির সঙ্গে একবার হলেও ই-মেইলে আলাপচারিতা থাকতে হবে আপনার। কারণ, আপনার মৃত্যুসনদ এবং গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো ই-মেইলগুলোর যেকোনো একটি মেইলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিষয়বস্তু বর্ণনা পারলেই আপনার গুগল অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।