লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে পুলিশের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

নারীকে মারধর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে যশোরের কেশবপুরে পুলিশের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার কেশবপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আমলি আদালতে এক নারী ওই মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুজাহিদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম, কনস্টেবল মো. সালাউদ্দীন, গাড়িচালক মো. মজনু এবং পুলিশের সোর্স বাগদা গ্রামের ফজলুর রহমান।

মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে কেশবপুর উপজেলার অটন্ডা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে যান। তাঁরা জাহাঙ্গীরের খোঁজ করেন। এ সময় জাহাঙ্গীরের মা আয়েশা বেগম (৫৮) দরজা খুললে, তাঁর ছেলের ঘরে মাদক এবং অস্ত্র আছে জানিয়ে তল্লাশির কথা বলেন। তিনি তল্লাশির কোনো কাগজ আছে কি না, জানতে চাইলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারপিট করেন। চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন। পেটেও লাথি মারেন। এ সময় জাহাঙ্গীরসহ তাঁর অন্য ভাইয়েরা বেরিয়ে এলে পুলিশ জাহাঙ্গীরের ঘরে ঢুকে আলো নিভিয়ে দিয়ে তল্লাশি করে। মাদক ও অস্ত্র না পেয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় এ নিয়ে কোনো ঝামেলা করলে সব ভাইকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে এবং ক্রসফায়ার দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন আসামিরা। আসামিরা চলে যাওয়ার পরে তাঁরা ঘরে ঢুকে দেখেন শোকেসের ভেতরে রাখা মোটরসাইকেল বিক্রির ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং বাক্সের ভেতর থেকে প্রায় ছয় ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার পুলিশ নিয়ে গেছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনার পরদিন তাঁর মামা আবদুর রাজ্জাক এ বিষয়ে কথা বলার জন্য থানায় গেলে উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল থানায় ঢুকতে দেননি। তাই তাঁরা ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

মামলায় বাদীর আইনজীবী কোমর উদ্দীন কামরুল বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে জাহাঙ্গীর নিরপরাধ। তাঁকে অযথা হয়রানির জন্য পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি করেছে। সে কারণে আমি আদালতে মামলা করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিদর্শক মুজাহিদ মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, টাকা এবং স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।

সহকারী উপপরিদর্শক আশরাফুলও বাড়ি তল্লাশি এবং টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সহকারী উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর তল্লাশির কথা স্বীকার করে বলেন, তল্লাশি করা হলেও তল্লাশির কাগজ ছিল না। জাহাঙ্গীর আলম মাদক সেবনকারী বলে অভিযোগ ছিল বলে তিনি জানান।

তবে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি কখনো মাদক সেবন করিনি। আমার বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগও নেই।’

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আনোয়ার হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর মাদক ব্যবসায়ী। বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর বাড়ি যাওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, তাঁর জ্বর থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো মামলা নেই।

পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জানেন কি না, জানতে চাইলে ওসি বলেন, এটা সম্পূর্ণ নাটক করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে গেলে যদি মামলা দেওয়া হয়, তাহলে পুলিশকে ঘরে বসে থাকতে হবে।

সূত্র: শীর্ষনিউজ