বাংলাদেশে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে তিন বিজিবি সদস্যকে আহত করল ভারতীয় বিএসএফ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

কুমিল্লা সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে ভারতীয় সিমান্তরক্ষি বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের সিমান্তরক্ষি বাহিনী বিজিবির তিন সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে জানা গেছে। এসময় বিএসএফ সদস্যরা এলাকায় আতংক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি চালায়।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভারত সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের কেরানীনগর মধ্যমপাড়া গোলাবাড়ি বিওপি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বিকেল ৫টার দিকে উভয় দেশের বিজিবি ও বিএসএফ অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে শেষ হয়। ঘটনার পর থেকে সীমান্তবর্তী ওই এলাকার জনগণের মাঝে আতংক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সীমান্তের কেরানীনগর মধ্যমপাড়া এলাকার বাংলাদেশ সীমান্তে দুই নারীকে ধাওয়া করে বিএসএফ’র এক সদস্য নো-ম্যান্স ল্যা- অতিক্রম করে বাংলাদেশের প্রায় ৩শ’ গজ ভেতরে ঢুকে ওই নারীদের আটকের চেষ্টা করে। এসময় বিজিবি’র গোয়েন্দা বিভাগের ফিরোজ নামের এক সদস্য বিএসএফ সদস্যকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে প্রবেশ ও তাদের আটকের কারণ জিজ্ঞাসা করেন।

এসময় বিএসএফ সদস্য ও ভারতের ৮/১০ জন স্থানীয় লোক বিজিবির গোয়েন্দা সদস্য ফিরোজকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাংলাদেশের স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে এবং বিএসএফ সদস্যকে ধরে স্থানীয় গোলাবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুল, স্থানীয় বাসিন্দা রিপন, বাপ্পী, কলেজ ছাত্র মাজহারুল ইসলাম ও মাহমুদসহ স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার একপর্যায়ে ভারতের ৪০/৫০ জন লোক ও বিএসএফ’র ২৫/৩০ জনের সশস্ত্র সদস্যরা বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এ সময় টহলরত ২ বিজিবি সদস্য ও বিজিবি’র গোয়েন্দা সদস্য ফিরোজকে বেধড়ক মারধর করে।

একপর্যায়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টির জন্য বিএসএফ ফাঁকা গুলি চালায়। স্থানীয় বাংলাদেশি লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে বিএসএফ ও ভারতীয় লোকজন পালিয়ে যায়। এসময় বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ৩ বিজিবি সদস্যকে উদ্ধার করে বলে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা ১০ বিজিবির কর্মকর্তারা।