৮০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা এই মহিলাকে চিনেন ?

নাজমুল হাসান


13092075তজবি হাতে বিজয়ী হাসি নিয়ে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত ৮০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা এই মহিলাকে চিনেন ?
উনি মজলুম সাংবাদিক, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জনাব মাহমুদুর রহমান স্যারের মা “মাহমুদা বেগম”।
কথিত এক অপহরন মামলায় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে ‘ছেলে মাহমুদুর রহমান’ রিমান্ডে রয়েছেন !
যিনি দীর্ঘদিন যাবতই মায়ের স্নেহ থেকে অনেক দুরের কারাগারের অন্ধকারের প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ !
অনেক দিন পর নাড়ির কাটা বাধন ছেলেকে দেখতে এসেছেন।
ছেলে রিমান্ডে কিন্তু মুখে এতটুকু ভয় নেই। বরং হাসছেন ! বিজয়ের হাসি, সত্যের বিজয় !!
তিনি জানেন, ভয় শুধুমাত্র একজনকেই করতে হয়- “মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন”।
ইতিহাসে পড়েছি কত মা তার ছেলেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধে পাঠিয়ে কুরবান করেছেন !
শহীদ আজাদের মা ৭১ এ যখন ছেলেকে রমনা থানায় দেখতে এসেছিলেন, বলেছিলেন- ‘যতই অত্যাচার করুক, প্রান থাকতে কিছুই বলিস না বাবা’…
শহীদ আজাদ ভাত খেতে চেয়েছিলেন। বলেছিলেন- “মা কতদিন ভাত খাই না ! আমার জন্য ভাত নিয়ে এসো”।
পরের দিন ভাত নিয়ে থানায় এসে মা আর আজাদের দেখা পাননি।
সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শহীদ আজাদের মা আর ভাত খাননি !
মাহমুদুর রহমান স্যার এখন আর শুধুই একজন সাংবাদিক নন, একটি ইতিহাস !
বিখ্যাত কেউ একজন বলেছিলেন- “প্রত্যেক পুরুষের সফলতার পেছনে একজন নারীর অবদান থাকে”! তিনি হয়তো বাস্তবতার নিরিখে সাপোর্ট দিয়ে পাশে থাকা নারীর কথাই বলেছিলেন।
কিন্তু সেই পুরুষটিওতো কারো একজন সন্তান।
যে কোন সন্তানের সফলতা, নৈতিকতা আর বিখ্যাত হয় ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যে নারী তার ‘মা’রই থাকে এত কোন সন্দেহ নেই।
এমন বিরঙ্গনা ‘মা’রা না থাকলে হয়তো আমরা একটি স্বাধীন দেশই পেতাম না।
আর মাহমুদা বেগমদের মত সাহসী ‘মা’রা না থাকলে হয়তো মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী আমাদের এই প্রজন্ম আজন্ম লালিত দেশ গড়ার সেই স্বপ্ন দেখারও সাহস পেতাম না!
স্যালুট মা !
কৃতজ্ঞতা এমন সাহসী বীরঙ্গনা ‘মা’দের।
মহান আল্লাহ্‌র দেয়া এই পরীক্ষায় আপনাদের ছেলেরা শতভাগ সফলতা নিয়েই জয়ী হবেন ইনশাল্লাহ।

ফেসবুক থেকে