অসমে মিয়ানমারের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: মাওলানা আরশাদ মাদানী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মাওলানা আরশাদ মাদানী : ফাইল ছবি

ভারতের অসমে মিয়ানমারের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানী। বিজেপিশাসিত অসমে মুসলিমদের একাংশের নাগরিকত্ব নিয়ে টানাপড়েন প্রসঙ্গে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

অসম অ্যাকশন কমিটি রাজ্যে মুসলিমদের নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছে। কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, ‘রাজ্যে ভোটার নথিভুক্তকরণে ৪৮ লাখ বিবাহিতা মুসলিম নারীর নাম অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের অধিকার কেড়ে নেয়া ও তাদের শিশুরা যাতে শিক্ষা না পায় এবং তাদের দেশের বাইরে বের করে দেয়া যায় সেজন্য এসব করা হচ্ছে। যদি এরকম চলতে থাকে তাহলে অসমে মিয়ানমারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।’

অসম অ্যাকশন কমিটি বলছে, একদিকে, জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের কাজ চলছে, অন্যদিকে হাইকোর্ট এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে যাতে ৪৮ লাখ মুসলিম নারীর নাগরিকত্ব সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, তারা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।

রাজ্যে শিক্ষা ও অন্য অনগ্রসরতার কারণে অনেকেই তাদের জন্ম প্রমাণপত্র তৈরি করতে পারেননি। যদি কোনো মুসলিম মেয়ের বিয়ের সময় গ্রামপ্রধান প্রমাণপত্র দেয় তাহলে তাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আদালত এ ধরণের প্রমাণপত্রকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। এরপরেই মুসলিম নারীদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার আন্দোলন শুরু হয়েছে।

মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, ‘সরকারকে অসম চুক্তি ও আইন-কানুন গুরুত্ব সহকারে অনুসরণ করা উচিত। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে অন্য দেশ থেকে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্ব ও বিশেষ অধিকার প্রদান করছে। কিন্তু আসল নাগরিকদের বাংলাদেশি বা বিদেশি বলে অভিহিত করে দেশ থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছে। সরকার এভাবে দ্বৈত মনোভাব ও ধর্মের নামে নীতি গ্রহণ করছে।’

অসমে ধর্ম ও ভাষার নামে বৈষম্য করা হলে তা দেশের সংবিধান ও মূল্যবোধের বিরোধী হবে এবং একে কোনোভাবেই বৈধতা দেয়া যায় না বলেও মাওলানা আরশাদ মাদানী মন্তব্য করেন।


সুত্র: পার্সটুডে