রংপুরের ঘটনায় সরকার ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে : হেফাজত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা ও উস্কানিমূলক পোস্ট-এর জের ধরে গত ১০ই নভেম্বর শুক্রবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় স্থানীয় জনতার বিক্ষোভের পর কয়েকটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন ও পুলিশি হামলায় দুই নিরীহ মুসলমান হত্যা ও অন্যান্য হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম সকল ধর্মাবলম্বীর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকারে বিশ্বাসী। মুসলমানদের কাছে যে কোন নিরীহ সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ পবিত্র আমানত।

১০ই নভেম্বর শুক্রবার রংপুরে কুরআন অবমাননার ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত তারা ইসলাম বিদ্বেষী অশুভ শক্তি। সমাজে শান্তি-শ্ঙ্খৃলা সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করা তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ঘটনায় সরকার ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি কতিপয় মিডিয়া একচোখা নীতি অবলম্বন করে ধর্ম অবমাননার অপরাধকে আড়াল করতে চাইছে।

হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, এখানে প্রথম অপরাধ সংঘটিত হয়েছে একজন হিন্দু বংশোদ্ভুত ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকের মাধ্যমে। আমরা তার অপরাধের জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দায়ী করছি না। এ ধর্ম অবমাননা ও উস্কানিমূলক পোস্টদাতার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সরকারের পুলিশ প্রশাসন শান্তিপ্রিয় প্রতিবাদী জনতার উপর গুলি চালিয়ে দুই জন মুসলমানকে হত্যা করেছে। যারা এই প্রতিবাদ বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর কোন আঘাত করা যাবে না। তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহানি করা যাবে না। যারা হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে, তাদের সাথে প্রতিবাদী মুসলিম জনতার কোন সম্পর্ক নেই।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর দাবি মেনে যদি ধর্ম অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকত, তাহলে বারংবার ধর্ম অবমাননামূলক ঘটনা সংঘটিত হতো না। আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ করেছি সরকার, প্রশাসন ও মিডিয়ার একটি অংশ তাদের সকল সহানুভূতি একচেটিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারদের জন্য ঢেলে দিচ্ছে। রাজপথে গুলিতে নিহত দুই ব্যক্তি ও বিপুল সংখ্যক হতাহত লোকজনের পরিবারগুলো কি কোন সহানুভূতি পাওয়ার অধিকার রাখে না? এ দেশে সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী কি সংখ্যালঘুদের মত অধিকারও পাবে না?

আমরা ধর্ম অবমাননাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উক্ত হত্যাকা-ে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এর ব্যত্যয় ঘটলে ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির শিকড় উপড়ে ফেলার জন্য হেফাজতে ইসলামকে মাঠে নামতে হবে। কাজেই আশা করি সরকার তার ন্যায্য দায়িত্ব পালন করে দূরদর্শিতার পরিচয় দেবে।