ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনি দূতাবাস বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদন্তকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্তের আহ্বান জানানোর পর ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনি দূতাবাস বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে। খবর বিবিসি, সিএনএন ও আলজাজিরার।

সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘে জানান যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের আগ্রাসন ও অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়টি তদন্ত করে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য আইসিসির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু এতে ক্ষেপে যায় ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন শুক্রবার এক চিঠিতে বলেছেন, ফিলিস্তিন আইসিসি কাছে বিচারের আবেদন করলে আইনগতভাবে আর যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালাতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা আইসিসির কাছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিচার চাইতে পারবে না। সেটা করা হলে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) ওয়াশিংটন ডিসির অফিস বন্ধ করে দেয়া হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে পিএলওকে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বলে মনে করা হয়। ১৯৯৪ সালে ওয়াশিংটনে অফিস খোলে পিএলও। প্রতি ছয় মাসে একবার পিএলও’র দফতরের কার্যক্রম চালানোর সময়সীমা নবায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ মাসেই শেষ হচ্ছে সেই সময়সীমা। তবে প্রেসিডেন্ট আব্বাস আইসিসির কাছে বিচার চাওয়ায় নতুন করে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে কখনও লাইসেন্স নবায়নে অস্বীকৃতি জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিনিদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করার হুশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিন। ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের শান্তি আলোচনার জ্যেষ্ঠ মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরেকাত শনিবার দেশটির এই অবস্থানের কথা জানান। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে ১৯৬৪ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠা করা হয় মুনাজ্জামাত আত-তাহরির আল-ফিলিস্তিনিয়্যাহ তথা পিএলও।

এরেকাত আলজাজিরাকে জানান, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিন। সেই প্রেক্ষাপটেই পিএলওর দফতরের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন পিএলও’র জ্যেষ্ঠ এই নেতা জানান, সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে মর্মে একটি চিঠি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ ইসরাইলের সঙ্গে পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে উল্লেখ করে সায়েব এরেকাত বলেন, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও অনাকাক্সিক্ষত। আমরা যে মুহূর্তে চূড়ান্ত চুক্তিতে উপনীত হতে চাইছি, ঠিক তখনই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পক্ষ থেকে (যুক্তরাষ্ট্রের) প্রশাসনকে এ ধরনের চাপ দেয়া হচ্ছে।’

প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন। এটা শান্তি প্রক্রিয়া ও আরব-আমেরিকা সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি বলেছেন, তারা কোনো চাপ বা চাঁদাবাজির কাছে মাথানত করবে না। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দফর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস বন্ধের ব্যাপারটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিএলও দূতাবাস বন্ধ করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯০ দিন সময় পাবেন। ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অর্থপূর্ণ সংলাপে বসলে প্রেসিডেন্ট দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারেন।