তেতো করলাতেই দূর হয় অনেক রোগ!

করলা (করলা, উচ্ছা, উচ্ছে) এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। ইংরেজিতে একে Balsam pear বলা হয়। প্রচুর বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এ সবজিতে।  ফলে দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে অনেক উপকারি। আসুন জেনে নেই করলা থেকে রোগ মুক্তির উপায়।

ডায়াবেটিস মেলিটাসঃ করলা এডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক একধরনের এনজাইম বৃদ্ধি করে শরীরের কোষ গুলোর চিনি গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। করল্লার রস শরীরের কোষের ভিতরে গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যায়।

অ্যালার্জিঃ অ্যালার্জি প্রতিরোধে করলার উপকারিতা অপরিসীম। করলার রসে উপকার পাওয়া যায়।

গেঁটে বাতঃ নিয়মিত করলার রস খেলে বাতের ব্যথায় উপকার পাওয়া সম্ভব।

স্ক্যাবিসঃ করলার রসে জীবাণুনাশক ক্ষমতা রয়েছে। বিভিন্ন রকম ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে করলার উপকারিতা অপরিসীম।

এ্যাকজিমাঃ করলার রসে জীবাণুনাশক ক্ষমতা রয়েছে যা বিভিন্ন রকম ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এ্যাকজিমা প্রতিরোধে করলার উপকারিতা অনেক।

লিভার ডিজিজঃ লিভার ডিজিজ খাওয়ার রুচি কমিয়ে দেয়। খাওয়ায় আবার রুচি ফিরিয়ে আনতে করলার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।

এনিমিয়াঃ ভিটামিন সি প্রোটিন ও আয়রন শোষণে সাহায্য করে। করল্লায় প্রচুর ভিটামিন সি আছে যা আয়রন শোষণ করে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়।

চুলের ক্ষতিঃ যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় চুলের জন্য করলার উপকারিতা অনেক।

কোষ্ঠ্যকাঠিন্যঃ করলার ডাইটারি ফাইবার সমৃদ্ধ। তাই পেটের সমস্যায় করল্লার উপকারিতা অনেক।

গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাগাল রিফাক্স ডিজিজ(জিইআরডি): পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।

ম্যালেরিয়াঃ ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করে।

মাথা ব্যথাঃ মাথা ব্যথা কমিয়া দেয়।

এন্টিএজেনঃ অ্যান্টিওক্সিডেন্ট বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখে ও শরীরের কোষ গুলি কে রক্ষা করে। এতে আছে লুটিন ও লাইকোপিন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লাইকোপিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। করলায় প্রচুর লাইকোপিন থাকে। বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে করল্লার উপকারিতা অপরিসীম।

রাতকানা রোগঃ করলাতে যথেষ্ট পরিমাণে বেটা ক্যারোটিন রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বেটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী।

কোন কোন ক্ষেত্রে করলা খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনবেন?

কিডনি ডিজিজঃ যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি তাদের করলা না খাওয়াই ভাল। করল্লার উপকারিতা থাকলেও কিডনি ডিজিজের রোগীদের করলা এড়িয়ে চলা উচিৎ।

ডায়রিয়াঃ এটি আশঁযুক্ত খাবার বলে ডায়রিয়া রোগীদের দেওয়া হয় না।

লিভার সিরোসিসঃ তিতা বেশি খেলে লিভারে ক্ষতি করে। কারণ এটি বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।