শিক্ষা সংস্কার ও নতুন কর্মকৌশল

আরিফুল ইসলাম


ইসলামী শিক্ষার বিকাশে নতুন পদক্ষেপ জরুরী। স্কুল কলেজের শিক্ষার সাথে এখন আর ধর্মের তেমন কোন সম্পর্ক নেই। আলীয়া মাদ্রাসা ঢিলেঢালা ভাবে কিছু ধর্মীয় জ্ঞানের ব্যবস্থা ছাড়া কিছু নয়। আর এখন পর্যন্ত কওমী মাদ্রসাগুলোই দ্বীন শিক্ষার সুতিকাগার।
কিন্তু সেই সুতিকাগারও আর নিরাপদ থাকার নিশ্চয়তা নেই। তাই বৃহত্তর জনগনের দ্বীন শিক্ষা এবং আলিম হওয়ার জন্য ভিন্ন কোন উপায় চিন্তা করা সময়ের দাবি বলে মনে করি।

যেসব বিষয়কে সামনে রেখে আমরা কাজ করতে পারি তার প্রথম হল “শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন” । এই আন্দোলনের জন্য..
১. জেনারেল লাইনের ভিতর থেকেই এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এটি হবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। যাতে তথাকথিত শিক্ষার নামে দ্বীন শিক্ষায় যে বিপর্যয় নেমে আসছে তা দূরীভূত হয়।

২. জেনারেল লাইনে পড়ার পাশাপাশি আলিম হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এবং এই আলিম হওয়ার ব্যবস্থা কয়েকটি ধাপে হতে পারে। যেমন প্রথম ধাপ : ক. নবী রাসূল এবং সাহাবীদের জীবনকে সুখপাঠ্য করে শিক্ষা দেওয়া , খ. প্রয়োজনীয় ফিকাহ শিক্ষা দেওয়া। গ. সহীহ শুদ্ধ কুরআন তেলওয়াতের ব্যবস্থা করা। ঘ. ফজিলত সম্পর্কিত কিছু সহীহ হাদীস শিক্ষা দেওয়া। এটি জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিতদের দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত চলতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ : ক. তুলনামূলক ফিকাহ শিক্ষা দেওয়া খ. ইসলামী অর্থনীতি, সমাজনীতি এবং দর্শন শিক্ষা দেওয়া গ. আরবী ব্যকরন শিক্ষা দেওয়া। (নাহু ,সরফ, বালাগাত ) ঘ. আধুনিক দর্শন , বিভিন্ন তত্ব ইত্যাদীর সাথে ইসলামী দর্শনের তূলনামূলক পাঠ। ঙ. কুরআন তাফসীরের মূলনীতি এবং কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তাফসীর সহ পড়ানো। চ. উসূলে হাদীস সম্পর্কে প্রাথমিক পাঠ। এটি জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিতদের মাস্টার্স পর্যন্ত চলতে পারে।

তৃতীয় ধাপ : ক. মিশকাত শরীফ খ. কুরআনের মাঝের দশ পারার তাফসীর গ. সমসাময়িক ইসলামী রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন ও দার্শনিকদের চিন্তার পর্যালোচনা গ. খোলাফায়ে রাশেদীনের ইতিহাস এবং মুসলিম শাসকদের ইতিহাস পাঠ। ঘ. কুরআনের বিজ্ঞান ভিত্তিক পাঠ ঙ. আরবী ব্যকরন । ছ. উসুলে ফিকাহ। এটি অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করা ভাইগন পাচ বছর ব্যাপী অধ্যায়ন করবেন।

চতুর্থ ধাপ : ক. সিহাহ সিত্তাহ (হাদীসের ছয়টি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ) এটি হাদীসের দরসে বসেই করতে হবে। খ. কুরআনের শেষ দশ পারা গ. হাতে কলমে কোন দ্বীনি খিদমতে অংশগ্রহন। শেষ পর্যায়টির জন্য আরো পাচ বছর ।
এভাবে প্রায় ৩৫- ৪০ বছর বয়সে একজন ব্যক্তি যদি দ্বীনদার হন এবং দ্বীনের কোন খেদমতে নিয়োজিত থাকনে তবে তাকে আলিম হিসাবে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এবং প্রতিটি ধাপ শেষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
এই ব্যবস্থাপত্র তাদের জন্য যারা সরাসরি মাদ্রাসায় বসে আলিম হওয়া সম্ভব নয়। কিছু আলিম যদি এগিয়ে আসেন তবে এই কাজটি করা দূরহ নয়।