এরদোগান-পুতিন-রুহানি বৈঠক: সিরিয়ার স্বাধীনতা-অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান

যুদ্ধোত্তর সিরিয়ার স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক। একইসঙ্গে সিরিয়া সংকট নিরসনের জন্য ‘সিরিয়ান পিপলস কংগ্রেস’ রাখার পক্ষে মত দিয়েছে তিন দেশ।

বুধবার কৃষ্ণসাগরের উপকূলবর্তী সোচি শহরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিন দেশের নেতারা এ প্রস্তাব দেন।

বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে সিরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই বিবৃতিতে সই করার পর তা পড়ে শোনানো হয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া ২২৫৪ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে তিন দেশ সিরিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে এই বিবৃতিতে।

এতে আরো বলা হয়েছে, সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি রক্ষা করে চলবে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক। এছাড়া, সিরিয়া থেকে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা চূড়ান্তভাবে মুছে না যাওয়া পর্যন্ত এই তিন দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া সিরিয়ান পিপলস কংগ্রেস রাখা হলে সেটি বিরোধী দল ও সরকারকে একত্র করতে সক্ষম হবে বলেও বৈঠকে মত দেন এই তিন নেতা।

পুতিন বলেন, এই কংগ্রেস সিরিয়া সংকটের মূল বিষয়টি খুঁজে বের করবে। প্রথমে আগামীর সিরিয়া ও নতুন সংবিধান গ্রহণের জন্য একটি কাঠামো চিত্র নির্মাণ করবে এবং সেই ভিত্তিতে জাতিসংঘের তদারকির মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।

পুতিনের বিশ্বাস, সিরিয়ার চলমান সংকট একটি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যৌথ বিবৃতিতে এই তিন নেতা দেশটির যুদ্ধরত অঞ্চলে বন্দি ও জিম্মিদের মুক্তি, লাশ হস্তান্তরের পাশাপাশি একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের ভেঙে পড়া অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানবিক সহায়তার আহ্বানও জানিয়েছেন এই তিন দেশের নেতারা।

দীর্ঘ সাত বছর ধরে সিরিয়ায় চলমান সংকটে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এক কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

চলমান সংকটের মধ্যেই বিভিন্ন সময়ে বিদ্রোহী গ্রুপ ও আসাদ সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত হয়ে গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে সংকট সমাধানের চেয়ে যুদ্ধকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।