কোঁকড়া চুলে ঢেউ খেলে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নজরুল ইসলাম


ঢেউখেলানো কালো চুলের সৌন্দর্যই আলাদা। এমন চুল নিয়ে কাব্যও কম হয়নি। প্রাকৃতিকভাবে যাদের চুল কোঁকড়া, তাদের অবশ্য একে সামলাতে মাঝেমধ্যে একটু ঝামেলায়ও পড়তে হয়। কোঁকড়া চুলের যত্ন-আত্তির ধরনও যে খানিকটা আলাদা।

সহজেই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে কোঁকড়া চুল। একটু রুক্ষ ভাবও চলে আসতে পারে। শখ করে চুল বাঁধতে গিয়ে বাঁধার ধরন নিয়েও বাধে বিপত্তি। কোঁকড়া চুলের এমন নানা সমস্যা নিয়ে কথা বললেন মোঃ নজরুল ইসলাম
তিনি জানালেন, একটু যত্ন নিলেই কোঁকড়া চুল থাকে সতেজ ও উজ্জ্বল। সতেজ চুলকে ইচ্ছামতো সাজানোও যেতে পারে।

নিয়মিত যত্ন

কোঁকড়া চুলে রোজ শ্যাম্পু করা ঠিক নয়, বরং এক দিন পরপর শ্যাম্পু লাগালে চুলের স্বাভাবিক কোমলতা বজায় থাকবে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগানোও প্রয়োজন। চুল আঁচড়াতে বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। ছোট দাঁতের চিরুনি বা হেয়ারব্রাশ ব্যবহার করলে চুল সহজেই ছিঁড়ে আসতে পারে।

তেল মালিশ করার আগে একটু গরম করে নিন। এরপর উষ্ণ পানিতে ভিজিয়ে নেওয়া তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক-দুবার এভাবে চুলের যত্ন নিতে পারেন। চুলের সুস্থতার জন্য প্রতি মাসে একবার চুলের আগা কাটিয়ে নিন।

ডিপ কন্ডিশনিং করতে সমপরিমাণ মধু আর জলপাই তেল মিশিয়ে ভেজা চুলে লাগানোর পর উষ্ণ পানিতে ভিজিয়ে নেওয়া তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। মাসে অন্তত দুবার ডিপ কন্ডিশনিং করানো প্রয়োজন। স্বাভাবিক কোঁকড়া ভাবটা ঠিক রাখতে আর রুক্ষতা কমাতে শ্যাম্পু করার পর সমপরিমাণ অ্যাপল সিডার ভিনেগার আর পানি মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগান। কিছুক্ষণ পর চুল ধুয়ে ফেলুন।

বিউটি পারলার বা স্যালনেও করিয়ে নিতে পারেন। বাড়িতে উষ্ণ তেল মালিশের পর তোয়ালে জড়িয়ে রাখার পরিবর্তে পারলারে স্টিমিং করাতে পারেন। হেয়ার স্পা করালেও চুল কোমল থাকে। মাসে দুবার হেয়ার স্পা করাতে পারেন। সেই সময় না মিললেও মাসে অন্তত একবার হেয়ার স্পা করানো প্রয়োজন।

কাজের সময় যেমন

বাড়িতে বা অফিসে কাজ করার সময় চুল বেঁধে রাখতে পারেন। ঝুঁটি, বেণি বা খোঁপা—যেমনটা মন চায়। বেঁধে রাখলে চুল কম ভাঙে। চুল বাঁধার আগে বাতাসে চুল শুকাতে চেষ্টা করুন। আয়রন করার মতো উত্তাপ যদি চুলে প্রয়োগ করতেই চান, তাহলে তাপরোধী স্প্রে ব্যবহার করুন।

অনুষ্ঠানে যেতে

অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় চুল সাজাতে পারেন মনের মতো। তবে ভেজা চুলে হালকা ধরনের হেয়ার মুস ব্যবহার করতে পারেন। মুস ব্যবহার করলে চুলের ঢেউগুলো গোছানো থাকে, চুল শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কমে। এ ছাড়া বাড়ি ফিরে চুল খোলার সময় শক্ত হয়ে গিয়ে চুল ভাঙার আশঙ্কা থাকলে চুল সেট করার পরপরই সামান্য হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।