৫৫ কোম্পানি স্থান পাচ্ছে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কে’

যশোরে অবস্থিত ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক’-এ স্থান পেয়েছে ৫৫ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে ৪টি প্রতিষ্ঠান। শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক’ এর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে ধোয়া মোছার কাজ। এছাড়া আগামী ১০ নভেম্বর বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সফটওয়্যার পার্কের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রিয়.কমকে জানান, এই সফটওয়্যার পার্কে ৫৫টি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানকে স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, চাকলাদার করপোরেশন, সাজ টেলিকম ও অংসু।
তিনি বলেন, ‘অন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ৫০ জন লোক নিয়োগ দিয়েছে এখানে। এছাড়া আরও অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে ভাবছি আমরা’।
সফটওয়্যার পার্কটিতে স্থান পাওয়ার জন্য কোনো ধরনের ভাড়া দিতে হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি স্কয়ার ফিটে ১০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে’।
তিনি আরও জানান, যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের দেখভাল করছে টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেড। আগামী ১৫ বছর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এর যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেইনটেন্যান্স এর দায়িত্ব পালন করবে এই কোম্পানি।
এর আগে ৫ অক্টোবর যশোরের এই হাইটেক পার্কে দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় অংশ নিয়েছিল ৩০টিরও বেশি প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোরের বেজপাড়া এলাকায় ২৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। চলতি মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ধারণা করা হচ্ছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
এই হাইটেক পার্কে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধাসহ রয়েছে ১৫ তলা বিশিষ্ট মাল্টি-টেন্যান্ট বিল্ডিং, আন্তর্জাতিক থ্রি-স্টার মানের আবাসন ও জিমনেসিয়ামের সুবিধাসহ ১২ তলা বিশিষ্ট ডরমিটরি বিল্ডিং, একটি ক্যান্টিন ও এ্যাম্ফিথিয়েটার। ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাব-স্টেশন, ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট লাইন এবং অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিসের সুবিধা থাকছে এতে।
উল্লেখ্য, রূপকল্প-২০২১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারিত সময়ের পূর্বে অর্জনের লক্ষ্যে দেশের সকল বিভাগ/জেলায় হাই-টেক/আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত ২৮টি হাই-টেক/আইটি পার্ক স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকার কারওয়ান বাজারে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।