এসকে সিনহা ঝড়-তুফান তুলেছিলেন, আমাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেন: আইনমন্ত্রী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, “বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ‘ঝড়-তুফান তুলেছিলেন’। আল্লাহর বিশেষ রহমতে বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের সেই দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান হয়েছে।”

শনিবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৭’ এর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, “প্রধান বিচারপতি মহোদয় যে ঝড়-তুফান তুলেছিলেন তা আপনাদের সকলেরই জানা আছে। মনে হচ্ছিল আমার মন্ত্রণালয়ের সচিবের মত আমাকেও কখন যেন আদালত তলব করে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তাকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছিল না, এটা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা। এ ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয় প্রধান বিচারপতিকে দিতে পারে না। যাই হোক, আল্লাহর বিশেষ রহমতে সেই অবস্থার অবসান হয়েছে।”

তিনি বলেন, “অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলতে চাই, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্স অব প্রিসিডেন্সে রাষ্ট্রপতির অবস্থান এক নম্বর। সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে কারও সাথে পরামর্শ ছাড়াই তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়। সংবিধানের ৫৫ (৬) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিনি সরকারে কার্যাবলী পরিচালনার জন্য বিধি সমূহ প্রণয়ন করেন। সেই ক্ষমতাবলে তিনি রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬ প্রণয়ন করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ বিধি প্রণয়ন করেন, তাদের নিয়োগ দেন। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে তাকে শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যিনি বিজ্ঞ বিচারকদের নিয়োগ বিধি প্রণয়ন করেন, বিচারকদের নিয়োগ দেন তিনিই তাদের শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়ন করবেন- এটাই স্বাভাবিক এবং আইন ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা, সিদ্ধান্তক্রমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধির খসড়া প্রণয়ন করে। পরে তা বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়।”