আমার মুহাম্মাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (১)

আমার মুহাম্মাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (১)

মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম | সম্পাদক : শিশুপত্র মাসিক শিশির


স্বপ্নের সবুজ উদ্যানে

যেই সময়টার কথা বলছি সেই সময়টার পৃথিবী, পৃথিবীর প্রকৃতি ছিলো আলোবাতাসহীন। থমকে গিয়েছিলো কালো মেঘের ঘনঘটায়। অন্যায় অনিয়ম জেঁকে বসেছিলো সর্বাসন। প্রবল প্রতাপে ফণা তুলেছিলো ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি। প্রকট হয়েছিলো জীবন ও জগতে প্রতিনিয়ত লুণ্ঠন সীমালঙ্ঘন। তাই দুর্বিষহ জীবনের প্রতি কেবল অনীহাই বাড়ে। তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ে বিদ্বেষে বিস্বাদে মন। ফেটে পড়তে চায় ক্ষোভানলে।

এভাবে অনেক সময় কেটে গেলো। প্রতীক্ষার প্রহর যেন ফুরোয় না। একশো বছর। দুশো বছর। পাঁচশো বছর।… তারপর, অন্ধকারের বুক চিরে এক ফালি আলো এলো। এক ঝাপটা শীতল বাতাস ছুঁয়ে গেলো মন। এক পশলা ঝিরঝির বৃষ্টিতে ভিজে উঠলো নীরস ঠোঁট। সুপেয় স্বচ্ছ জলে সিক্ত হলো কপাল কপোল। ভিজলো শুকনো জিহ্বা। ভিজলো কাঠ হয়ে আসা শুষ্ক গলা। অনির্বচনীয় অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হলো মানবপ্রাণ। আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেলো সভ্যতার শাদা কাশবনে। সবুজাভ সিক্ততায় প্রাণবন্ততা ফিরে পেলো মানবতার সমগ্রসত্তা।

হাঁ, আবির্ভাব হলো ইসলামের এক শাশ্বত জীবনধর্মের, এক সর্বজনীন ধর্মজীবনের। প্রিয় আগমন ঘটলো চির প্রতীক্ষিত সেই মরুভাস্করের রাহমাতে আলাম, সারবারে আলাম, মুরতাযা মুজতাবা, রাসূলে আরাবী, নাবীয়ে উম্মী, হাবীবে খোদা, মুহাম্মাদ মুস্তফার। পরম করুণাময়ের চিরকরুণাধারা সদা সিক্ত করুক তাঁকে, তাঁর তাবৎ অনুসারীকে চিরকাল।

আলোর পৃথিবী আবার আলোকিত হলো। অপসারিত হলো অন্ধকার। প্রতিষ্ঠিত হলো ন্যায় ও সাম্য। লেজ গুটিয়ে লুকিয়ে গেলো বর্বরতা। মাথা উঁচু করে শক্ত পায়ে দাঁড়ালো সভ্যতা। মানবজগতের মানবহৃদয়গুলো হলো নিষ্পাপ, নিষ্কলুষ; হিংসা হানাহানি ও বিদ্বেষমুক্ত। প্রবৃত্তিতে অতৃপ্তি নেই, নেই জীবনের প্রতি অনীহা। উচ্ছল, প্রাণবন্ত, টগবগে। প্রত্যয়ী, বিশ্বাসী, আশাবাদী। প্রেমময়। উদ্ভাসিত অকৃত্রিম ভালোবাসায়; উজ্জীবিত অটুট ভ্রাতৃত্ববন্ধনে। …
শুধু কি তাই! পরশপাথরের নিবিড় পরশ পাওয়া সোনামুখগুলো দেখো! আর নেই সেই রুঢ়তা রুক্ষ্মতার ছাপ। এখানে ফুটে উঠেছে আনন্দের অকৃত্রিম উদ্ভাস। জেগে উঠেছে প্রাণের অনিন্দ্য উচ্ছলতা। দ্যোতি ছড়িয়েছে মনের গভীরের মৃদুমন্দ হাস্যোজ্জ্বলতা।

সত্যিই, মানবতার ভাগ্যাকাশে উদিত হয়েছে এক নতুন চাঁদ। যে চাঁদ সুখের, সৌভাগ্যের। যে চাঁদ আলোয় ভরিয়ে দেয় হৃদয় ও আত্মাকে নিমিষেই। স্বপ্নের সবুজ উদ্যানে অপূর্ব প্রাণের মেলা যেন।

তিনিই গড়েছেন মহিমাকে


পৃথিবীতে তিনিই একমাত্র মহামানব, মহিমা যাকে গড়েনি; যিনি নিজেই গড়েছেন মহিমাকে। বরং আপন মহিমাকে স্থাপন করেছেন নীতি ও আদর্শের প্রতি আস্থা ও অবিচলতার মধ্য দিয়ে এমন এক অভূতপূর্ব ব্যক্তিসত্তায়, যাকে সুবাসিত করেছে অনুপম চরিত্রমাধুরী, সুশোভিত করেছে শত্রুমিত্র নির্বিশেষে অমায়িক আচার-ব্যবহার। বিনয়, সারল্য, স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বতঃস্ফূর্ততার সুশীতল ছায়া এখানে সুলভ সর্বক্ষণ। এখানে অস্বাভাবিকতার ঘোর নেই। নেই কৃত্রিমতার দুর্বোধ্যতা।
আত্মপ্রত্যয়ী। ব্যক্তিত্বসচেতন। নীতি ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে অটল। দৃষ্টিভঙ্গি প্রকট সূর্যের আলোর মতোই। জীবনের গতি ধাবমান সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে যা পরিজ্ঞাত প্রতিটি চর্মচোখে, প্রতিটি মর্মচোখে।

হাজার ঝড়ঝাপটা ও প্রতিকূল ¯স্রোতে আপন আদর্শ ও মহিমায় অবিচল থেকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন শাশ্বত সুন্দরের এলাহি পয়গাম। প্রচার করেছেন সর্বতোসুন্দর আদর্শিক চেতনা ও ভাবধারা। পবিত্র প্রস্ফুটিত পুষ্পকলির মতোই একটু একটু করে বিকশিত করেছেন ধর্মীয়, জীবনমুখী ও মানবীয় এক-একটি মূল্যবোধ। যারা অহেতুক বিদ্বেষ পোষণকারী কিংবা প্রবৃত্তিগত ক্ষুদ্রতাবশত যথার্থ মূল্যায়নে কুণ্ঠিত, এ তাদের অনেকেরই জ্ঞানের বাইরে, কিংবা বলো কল্পনাতীত।
তিনিই একমাত্র মানবপ্রকৃতিতে মনঃপূত যাবতীয় কল্যাণকর গুণের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। মানবীয় পূর্ণতায় প্রত্যাশিত, তাবৎ বৈশিষ্ট্যের সার্থক সমন্বয় দেখিয়েছেন। যেন সৃষ্টিসৌন্দর্য ও চারিত্রিক সৌন্দর্য এখানে একাকার হয়ে গলাগলি করে। তার সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক কমনীয়তা জুড়ে, রচনা করে শাশ্বত সুন্দরের অপূর্ব মেলবন্ধন। এ সৌন্দর্য পৃথিবীর আকাশে ফুটিয়ে তোলে ভরা পূর্ণিমার চির নতুন চাঁদটিকে, যা আলোয় আলোয় ভরিয়ে তোলে পুরো জগৎ। এ মাধুরী পৃথিবীর বুকে প্রবাহিত করে চির স্বচ্ছ, চির সুন্দর, চির প্রবহমান নির্ঝর যা মৃতপ্রায় মানবতায় ফিরে ফিরে করে নব প্রাণের সঞ্চার, থেকে থেকে যে মানবতার শ্বাসরোধ করে অজ্ঞতা ও আমিত্বের অন্ধকার।

এ প্রীতিধারা ফুরোবার নয়
আমার মুহাম্মাদ রাসূলের একান্ত ব্যক্তিগত জীবনে দৃষ্টি নিবদ্ধ করো! তুমি মুগ্ধ হবে! হবে বিস্ময়াভিভূত! কোনো মরু আরব, কোনো পাহাড়ি পুরুষ— হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, নৈরাজ্য, নৈরাশ্য, অধর্ম, অদয়া, অহঙ্কারই যার চির চেনা নিকট পৃথিবীর রূপবৈশিষ্ট্য; সেই মানুষটিই— কীভাবে পরিবারজীবনে সুখ ও সাফল্যের সর্বোচ্চ শেখরে আরোহণ করতে পারেন? কীভাবে দাম্পত্যজীবনে প্রেমাবেগ ও ভালোবাসার এমন সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করতে পারেন?
আমি আশ্বস্ত চিত্তে বলবো, তোমার চেনা পৃথিবীতে, তোমার জানা পৃথিবীতে, তোমার শোনা পৃথিবীতে এমন উদাহরণ দ্বিতীয়টি নেই। আমার মুহাম্মাদ রাসূল তো এমনই একজন, যাকে বলা যায়, পরিবারের প্রতি প্রেমাবেগ, প্রেমানুভূতি, ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং সোহাগ ও সৌহার্দের জীবন্ত উৎস। এ উৎস থেকে বয়ে চলা ঝরনাধারা প্রাণময় প্রতিক্ষণ। এ প্রীতিধারা ফুরোবার নয়। এ অনাবিল, অমলিন সবখানে, সবসময়।

আমার মুহাম্মাদ রাসূল ছিলেন পরিবারের প্রতি প্রেমময় বন্ধু যেমন। নিত্যনতুন কৌশলে জীবনসঙ্গিনীকে আনন্দ দানকারী তাঁর প্রেমময় সত্তা তোমাকে অভিভূত করবে। স্ত্রীর মনোরঞ্জনে দুষ্টুমিও করতেন যা তাঁর সমীহকে লঘু করেনি, করেছে মহিমায় উদ্ভাসিত; তাঁর অনুপম ব্যক্তিত্বকে খাটো করেনি, করেছে ঔদার্যে ভাস্বর। তিনি ডাকে কথায় স্ত্রীর অনুভূতিতে জাগাতেন উষ্ণতা প্রতিনিয়ত।

আমার মুহাম্মাদ রাসূল স্ত্রীকে সাথে নিয়ে পানাহার করেছেন এক পাত্রে, এক বাসনে। স্ত্রীকে সাথে নিয়েই করেছেন প্রভুর আরাধনা। স্ত্রীকে সাথে নিয়েই পরিচালনা করেছেন ছোটো বড়ো নানা অভিযান এদেশে ওদেশে। পারিবারিক বিষয় তো আছেই; রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক বিষয়েও মূল্যায়ন করেছেন স্ত্রীর মতামতের।

তাঁর পবিত্র জীবনে এমন উদাহরণও আছে যে, তিনি স্ত্রীর সাথে দৌড়প্রতিযোগিতা করছেন, স্ত্রীর মনরক্ষায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাবশিদের পালোয়ানি দেখছেন; স্ত্রীকে আনন্দ দিতে গল্প বলছেন, গল্প শুনছেন।

আমার মুহাম্মাদ রাসূল তাঁর প্রিয়তমা জীবনসঙ্গিনী হযরত আয়েশার আবেগে অনুভবে ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে কী সূক্ষ্মতাই না অবলম্বন করেছিলেন! হযরত আয়েশা যেখানে চুমুক দিয়ে পানপাত্র রাখলেন, আমার মুহাম্মাদ রাসূল পান করার সময় ইচ্ছে করে সেখানেই মুখ ছোঁয়ালেন। আমার মুহাম্মাদ রাসূল এভাবেই হৃদয় থেকে হৃদয়ে পৌঁছে দিতেন গভীর প্রেমের গোপন বারতা।

এমন অনিন্দ্য হৃদয়বিনিময়, এমন অকৃত্রিম প্রেমনিবেদনই অপরূপ  স্নিগ্ধতা ছড়িয়েছে আমার মুহাম্মাদ রাসূলের পরিবারজীবনের প্রতিটি দিনে, প্রতিটি ক্ষণে; নানা রঙে, নানা আয়োজনে।

আমার মুহাম্মাদ রাসূল ছিলেন শান্তি সুখের নীড়ে স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ কৃতার্থ বন্ধু যেমন। তিনি তাঁর প্রয়াত জীবনসঙ্গিনী হযরত খাদীজাকে কখনোই ভুলে থাকতে পারেননি। তাঁকে স্মরণ করেছেন কৃতজ্ঞতা ও কৃতার্থতার সাথে সবসময়। শুধু তাই নয়, প্রয়াত স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার পরিধি তাঁর আত্মীয়দের প্রতিও বিস্তার লাভ করেছিলো তাঁর মহানুভবতার প্রতীক হয়ে। তাই তো সদ্ভাব, সদাচার এবং ঔদার্যে তাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল রাখতে চেয়েছেন আমরণ।

তাঁর উপস্থিতিতে যদি প্রয়াত স্ত্রী সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা হতো, যদিও তা হতো কোনো প্রিয় মানুষের পক্ষ থেকে; তিনি বরদাশত করতেন না ক্রুদ্ধ হতেন। পবিত্র জীবনসঙ্গিনীদের মধ্যে হযরত আয়েশা ছিলেন তাঁর সবচে আদরের, সবচে ভালোবাসার। যা তিনি গোপন রাখতে পারেননি। ভালোবাসা যে এমনই। একে চেপে রাখা যায় না। তবে ভালো মানুষ ভালোবাসার জন্য ন্যায় থেকে বিচ্যুত হন না। সাম্য ও ভারসাম্য বজায় রাখেন। আমার মুহাম্মাদ রাসূল তা দেখিয়ে গেছেন।

প্রয়াত স্ত্রী হযরত খাদীজা সম্পর্কে কথা বলে এই হযরত আয়েশাও ছাড় পাননি, পার পাননি। প্রেমাষ্পদের প্রতিবাদের মুখে তিনিও ঘাবড়ে গেছেন। তাকেও ক্ষমা চাইতে হয়েছে। অকপটে বলতে হয়েছে, কসম ওই সত্তার, হে আল্লাহর রাসূল, যিনি আপনাকে সত্য ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন, আর কখনো হযরত খাদীজা সম্পর্কে এহেন মন্তব্য করবো না।
একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে, একজন সেনাপ্রধান হিসেবে, একজন সমাজসংস্কারক হিসেবে সর্বোপরি অনুসারীদের চারিত্রিক ও চিন্তানৈতিক আদর্শপুরুষ হিসেবে আমার মুহাম্মাদ রাসূলের দায়ভার কেমন ছিলো তা তোমার অজানা নয়। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি কেমন উৎকণ্ঠিত ছিলেন, তার স্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছেন মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে। প্রিয় পাঠক, বলো দেখি, তারপরও পরিবারের প্রতি তাঁর অন্তরঙ্গ সহকর্মী সত্তা কখনো নিষ্প্রভ হয়েছে কি? তুমি জানো না? তিনি স্বয়ং জীবনসঙ্গিনীর সেবা করেছেন। রোগে শোকে পাশে থেকেছেন। ঘরের টুকিটাকি কাজেও করেছেন সহযোগিতা। তুমি দেখো না? বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে গেছেন তাঁর আনীত ইসলাম ধর্মে নারীর আসন কত উচ্চে।

হযরত আসওয়াদ বলেন, আমি হযরত আয়েশাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের নবী পরিবারের জন্য কী করতেন? তিনি বললেন, আরে আর বলো না, তিনি ঘরের টুকিটাকি কাজকর্মও করতেন। তবে নামাযের সময় হলে আর কথা নেই, নামাযে চলে যেতেন।

স্নেহের শীতল পরশ
ছেলে মেয়ে নাতী নাতনীর প্রতি ভালোবাসার উদাহরণ চাও? তবে আমার মুহাম্মাদ রাসূলকে দেখো। ভালোবাসার এ অথৈ সাগরে তুমি কূল কিনারা পাবে না জেনে রেখো।

হযরত আনাস রাযি. বলছেন, ছেলে মেয়ে নাতী নাতনীর প্রতি এত ভালোবাসা আর কারও মধ্যে দেখি নি, যত ভালোবাসা দেখেছি মুহাম্মাদ রাসূলের মধ্যে।

যখন সফরে বের হন, তখন বিদায় নেওয়ার জন্য সবার পরে যান নয়নমণি ফাতেমার কাছে। আবার সফর থেকে ফিরেও সবার আগে যার সাথে সাক্ষাত করেন, তিনিও কলিজার টুকরা মা ফাতেমা রাযি.।

যখনই মা ফাতেমার আগমন হতো, তখনই তাকে বরণ করার জন্য নিজে উঠে যেতেন। চোখের তারাকে দেখে যেন হৃদয় জুড়িয়ে যায়। খুশির ঝিলিক ফুটে ওঠে মুখে। উজ্জ্বল হয়ে ওঠে চেহারা।

আর নাতী হাসান হুসাইনের প্রতি? সে তো স্নেহের সুনীল আকাশ! ভালোবাসার রঙিন সমুদ্র! উমামা। আদরের নাতনী। এত আহ্লাদ যে, কাঁধে নিয়ে মসজিদে আসেন। এভাবেই নামাজ পড়ান। যখন রুকুতে যান, পাশে নামিয়ে রাখেন। যখন উঠে দাঁড়ান, আবার কোলে উঠিয়ে নেন। এভাবেই পুরো নামাজে ইমামতি করেন।

অসুস্থ নাতনীকে কোলে নিয়ে দু চোখে অশ্রুর বান নামে। অবিচল, দৃঢ়, প্রচণ্ড- আস্থাশীল মানুষটির চোখে অশ্রুর বান নামে। সেই নিঃশব্দ অশ্রুপাত উপস্থিত সবার বুক ভিজিয়ে তোলে। কীভাবে সান্ত¡না জানাবে ভেবে পায় না। কেউ ব্যাকুল হয় এই ভেবে যে, যিনি প্রিয়জনের মৃত্যুশোকে বিলাপ করতে নিষেধ করেন, তার চোখে অশ্রু! তাই তার সকাতর মিনতি— ‘হে আল্লাহর রাসূল, এ কী?’

করুণার আধার আমার মুহাম্মাদ রাসূল যেন বলতে চাইলেন, এ নিষিদ্ধ বিলাপ নয়। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু এমন গভীর শোকে আচ্ছন্ন অবস্থায় তিনি কী করে এত কিছু বলবেন? তিনি শুধু উচ্চারণ করলেন, ‘এ মায়ার অশ্রু।’ আল্লাহ যে মায়া দান করেছেন তার বান্দাদের হৃদয়ের পুণ্যভূমিতে, সে মায়াই অশ্রু হয়ে ঝরছে অঝোরে। পুত্র ইবরাহীমকেও শিশু অবস্থায়ই চির বিদায় জানাতে হয়েছিলো। সেও ছিলো এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

তাকে লালনপালনের জন্য আওয়ালিতে রেখে এসেছিলেন। মদীনা থেকে তিন চার মাইল দূরে হবে। তবু পায়ে হেঁটে রোয দেখতে যেতেন ছেলেকে। কোলে তুলে নেন, চুমু খান। মন ভরে আদর করেন। তারপর মদীনায় ফিরে আসেন।

 

চলবে