রাসুল সা.ই উত্তম ভালোবাসার হকদার

রাসুল সা.ই উত্তম ভালোবাসার হকদার

সৈয়দ শামছুল হুদা | সম্পাদক নূরবিডি ডটকম


আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসতেন। কারণ রাসুল সা. এর মধ্যে ছিল উচ্চতর আদর্শ, শক্তিমান বৈশিষ্ট্য, আর সন্তোষজনক চরিত্র মাধুরী। যা প্রতিটি মুসলিম দায়ীকে উচ্চকিত করে, সম্মানিত করে, মহান করে মানসিকভাবে, বাচনিকভাবে এবং আঙ্গিকভাবে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াহ সবসময় রাসূল সা. এর সকল উত্তম আদর্শ লালন, বিকাশ ও প্রচারে সক্রিয়ছিল। সকল হাদীসের কিতাবে রাসূল সা. এর উত্তম আদর্শের আলোচনা রয়েছে। রাসূল সা. এর উত্তম চরিত্রের ওপর বিশেষভাবে কিতাবও রচিত হয়েছে। সীরাতে রাসূল সা. এর সকল বিষয়াদি সংরক্ষিত রয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের জন্য যে সমস্ত গুণাবলি মানুষের থাকা প্রয়োজন, রাসূল সা. এর মধ্যে তা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। আর উম্মতে মুহাম্মদী রাসূল সা. এর উত্তম গুণাবলিসমুহ পুংখানোপুংখভাবে তা সংরক্ষণ করেছে।

আর আল্লাহ তায়ালা রাসূলে কারীম সা. এর জন্য নাম নির্বাচন করেছেন মুহাম্মদ। আর এই নামের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সকল প্রশংসা ও আর গুণকীর্তন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রশংসিত। তিনি সকল ফেরেশতাদের কাছে প্রশংসিত। প্রশংসিত সকল মানবসমাজের মধ্যে, প্রশংসিত সকল সৃষ্টিকূলের মধ্যেও। বুদ্ধি রাখে এমন সকল সৃষ্টির মধ্যে তাঁর উত্তম গুণাবলি প্রশংসিত। যদিও তাদের অনেকে তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকার করে।

রাসুল সা. সত্যই বলেছেন, তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন : আমি আদম আ. এর সন্তানদের মধ্যে কিয়ামতের দিনের সরদার। আর এ জন্য আমার কোন গর্ব নেই, আর আমিই প্রথম যার কবর প্রথম বিদীর্ণ করা হবে, আর প্রথম সুপারিশকারী এবং আমিই প্রথম যার সুপারিশ কবুল করা হবে। (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সাহায্য করেছেন মানুষের সেই সমাজে যেখানে শিরকের অন্ধকার বিদ্যমান, অজ্ঞতা, অরাজকতা, অসভ্যতা বিদ্যমান। অতঃপর তাঁর মাধ্যমে অন্ধকার দূরীভ’ত করেছেন। সকল প্রকার ঘনকালো বিদূরিত করেছেন। আর উম্মতকে সংশোধন করেছেন, আর তিনিই হয়ে উঠেছেন বনি আদমের মধ্যে একচ্ছত্র ইমাম। গোমরাহি থেকে তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত এসেছে। অজ্ঞতা দূর করার সকল কিছু শিক্ষা দিয়েছেন। তার মাধ্যমে পথহারা পথ পেয়েছে, অন্ধ তার আলো পেয়েছে, বধির তার শ্রবন শক্তি পেয়েছে, অবহেলায় বিভোর তার সজাগ আত্মা পেযেছে। অনটনের পর সমৃদ্ধি এসেছে। অপমানের পর সম্মান এসেছে। নিঃস্ব তার সম্পদ ফিরে পেয়েছে।

মানুষ তাঁর রবকে চিনতে পেরেছে। উপাস্যকে বুঝতে পেরেছে। ততটুুকুই জানতে পেরেছে যতটুকু মানব আত্মা দ্বারা বুঝা সম্ভব। এমন কিছু তিনি ছেড়ে যাননি, যার কারণে পরবর্তীতে নতুন করে কিছু শিখতে হবে। মহান রবের পরিচয় জানার সকল শিক্ষা তিনি দিয়ে গিয়েছেন। এবং পুর্ণাঙ্গ পরিচয় না তাঁর পুর্বে কেউ দিতে পেরেছে, আর না তাঁর পরে কেউ দিতে পারবে। বরং তিনি পরিপূর্ণ করে গিয়েছেন। এইক্ষেত্রে যা যা দরকার তাঁর সবটুকুই তিনি জানিয়ে গিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন : এটা কি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের নিকট তিলাওয়াত করা হয়? নিশ্চয় এর মধ্যে রহমত ও উপদেশ রয়েছে সেই কওমের জন্য, যারা ঈমান আনে। ( সুরা আনকাবুত- ৫১)
আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় হাবীবের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি, তাঁর পথ প্রাপ্তির সকল কিছু বর্ণনা করেছেন। এমন কোন ভালো কাজ নেই যার তিনি আদেশ করেননি, আর এমন কোন মন্দ কাজ নেই, যা থেকে তিনি বারণ করেননি। তিনি পৃথিবীতে আগমন করে মহান রবের পূর্ণ পরিচয় তুলে ধরেছেন। কোন কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি। সকল আদেশ-নির্দেশ পরিস্কার করেছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে সহায়ক মানুষের জন্য কল্যাণকর জ্ঞানের এমন কোন শাখাই ছেড়ে যাননি। এমন কোন জটিলতা নেই যার সুরাহা তিনি করেননি। আর তাতে ভ্রষ্টতায় পূর্ণ আত্মা হেদায়েতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। সকল প্রকার রোগ শোক থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে। সকল প্রকার অজ্ঞতা থেকে মুক্তি পেয়েছে। সুতরাং এমন নবীর চেয়ে আর কে বেশি হকদার উম্মতের ভালোবাসার? তিনিই সকল ভালোবাসার আধার। তিনিই ভালোবাসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় হকদার। অতএবং উম্মতের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শুকরিয়া, কৃতজ্ঞতা। অতিউত্তম প্রতিদান পাওয়ার তিনিই হকদার।

যত উত্তম আখলাক আছে, যত উন্নত চরিত্রমাধুরী আছে সবকিছু তাঁর। যদি গভীরভাবে তাঁর উত্তম গুণাবলী আর চরিত্রের দিকে তাকানো হয়, তাহলে এটা বুঝে আসবে, তিনিই সকল সৃষ্টির মধ্যে উত্তম আদর্শের অধিকারী। উন্নত চরিত্রের অধিকারী। কারণ তিনিই সকল সৃষ্টির মাঝে সেরা। তিনিই সবচেয়ে উত্তম সত্যবাদী। তিনিই সবচেয়ে সেরা, সবচেয়ে উদার। তিনিই সবচেয়ে বেশি ক্ষমাশীল।

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বুখারী শরীফে বর্ণিত, রাসুল সা. এর গুণকীর্তন করে তাওরাতের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- মুহাম্মদ সা. আমার বান্দা এবং আমার রাসুল, নাম রাখা হয়েছে আল মুতাওয়াক্কিল হিসেবে। ভরসাকারী হিসেবে। তিনি নির্মম ও নন, কঠোরও নন। তিনি বাজারে বসার লোকও নন। তিনি খারাপকে খারাপ দিয়েই মোকাবেলা করেন না। বরং তিনি ক্ষমা করে দিতেন। আল্লাহ তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত উঠিয়ে নিবেন না যতক্ষণ না উম্মত নতশীর হয়ে এ কথা বলেছে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, উপাস্য নেই, তিনি আমাদের অন্ধ চোখকে খুলে দিয়েছেন, বধির কানকে সচল করে দিয়েছেন, গাফেল অন্তরকে জাগ্রত করে দিয়েছেন।’’
তিনি সৃষ্টির প্রতি অত্যাধিক দয়াশীল। মেহেরবান। ইহ ও পরকালের সকল কল্যাণের তিনিই অগ্রদূত। সৃষ্টির মধ্যে তিনি বিশুদ্ধভাষী। ছোট্ট, অথবা অতিসংক্ষেপ শব্দ দ্বারা ভাব প্রকাশার্থে তিনি অধিকতর অর্থপ্রকাশকারী। আর ধৈর্যের জায়গাসমূহে তিনি অধিকতর ধৈর্যশীল। তিনি অধিকতর সত্যপ্রকাশকারী। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তিনি অধিক সচেতন। পুরস্কার প্রদানে তিনি অতি উত্তম। তিনি কঠোর ন¤্রতা প্রকাশকারী। নিজের প্রতি অধিকতর নিয়ন্ত্রনকারী। সাথীদের পক্ষ থেকে অধিকতর নিরাপত্তা লাভকারী। পৃষ্টপোষকতা অর্জনকারী। তাদের পক্ষ থেকে সুরক্ষা অর্জনকারী।

আদেশ প্রদানে তিনি সর্বোচ্চ সক্ষমতার অধিকারী। আর তাঁর নির্দেশে সকলে যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। সৃষ্টির প্রতি অধিকতর দয়াশীল। তিনি আমাদের প্রিয় রাসুল, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
একটি আরবী লেখার অবলম্বনে।