শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার উপাখ্যান

শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার উপাখ্যান


 

 

শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার উপাখ্যান
শাদমান ইবনে শহীদ

দীর্ঘ একযুগ পর মুখোমুখি–
হারিসার সামনে ছেলেটার নাম জায়েদ।
মায়ের সঙ্গে উটের পিঠে তুলে দেবার আগে শেষ দেখেছিলেন ছেলেটাকে–এরপর আজ
বাবা-ছেলের মিলন;
আহা, সে কী মধুর দৃশ্য!
ফিরে পেতে বুক মেলে রেখেছেন বাবা–
কিন্তু এ জায়েদ তো এখন অন্যের অধিনে…

যে ঘরে কৈশোর থেকে যৌবনের শুরু
সে ঘর জগতের সেরা ঘর
আলোকিত মহল
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষের ছায়ায় যাঁর লালন-পালন,
যাঁর স্নেহে বেড়ে উঠতে গিয়ে শ্রেষ্ঠ ভালবাসায় হাবুডুবু খাওয়া,
সে কী ক্রীতদাস হয়ে এসেছিল এ-ঘরে?
নাকি নিজের ঘরেই বেঁচে ছিল?
সে যেন ভুলেই গিয়েছিল তাঁকে উকাজ বাজার থেকে কিনে আনার ঘটনা

ভুলতে ভুলতে মনেই পড়তো না ইয়েমেনের বনু কুজায়ায় তার বসবাসের চিত্র,
অপহরণের ভয়ংকর রাত,
এসব কিচ্ছুটি তাঁর মনে নেই–
হারিসা তাঁর জন্মদাতা পিতা এটা সে জানে–ধ্রুবসত্য
মা সুদার চেহারা খানিকটা মনে করতে পেরে ভেতরটা হু হু করে উঠে;
খরা নদীর মত শুকিয়ে যায় অন্তর।

এদিকে তাঁর মনিব বলে উঠলেন–’জায়েদ বলুক তাঁর মনবাসনা’
কী সহজ সমীকরণ তুলে ধরলেন
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
রাহমাতুল্লিল আলামিন।
খুশিতে নেচে উঠে বাবা হারিসার হৃদয়।

জায়েদের সামনে এই মুহূর্তে কঠিন পরিক্ষা,
চোখভরা জল–
কী সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি?
বাবা-মা’র কাছে ফিরে যাবার সুবর্ণ সুযোগ
সেই চিরচেনা মাতৃভূমি এ্যারাবিয়া ফেলিক্স;
অবনত জায়েদ নিরবতা ভেঙে বলে উঠলেন–
‘হে মক্কার শ্রেষ্ঠ মানব!
হে প্রিয়তম, আমি আপনার ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতে পারি না।
আপনার সান্নিধ্য পেতে চাই অসীমকাল।’

এ কী বললেন জায়েদ!
এ কেমন ভালবাসা!
একি অপূর্ব রূপ জাহির করলেন নবীর ভালোবাসায়!
সমস্ত মায়াজাল ছিঁড়ে জেগে থাকলেন হাবিব-আল্লাহর প্রেমে;

রাসুল কাবা চত্বরে ঘোষণা করলেন–
এ জায়েদ ক্রীতদাস নয়,
মুক্ত-স্বাধীন। আমার উত্তরাধিকারী।
অবাক হয়ে রইল কুরাইশ-গোত্র,আরবের ঐতিহ্য,
সোনালি হরফে লেখা হল জায়েদ ইবনে মুহাম্মদ।

সূত্রগ্রন্থ: প্রিয়তমা (উম্মুল মুমিনিনদের দাম্পত্যজীবন)
–সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর