মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে: জাতিসংঘ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল-হুসেইন

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল-হুসেইন বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেনেড পুঁতে রাখা, কাছ থেকে গুলি করা, ছুরি দিয়ে আঘাত, পিটিয়েও হত্যা করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের। এমনকি রোহিঙ্গারা বাড়িতে থাকা অবস্থায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) বিশেষ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন নিয়ে আলোচনার জন্য ইউএনএইচআরসি’র বিশেষ এই আধিবেশন বসে।

অধিবেশনে জেইদ রাদ আল-হুসেইন রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়ে তৈরি করা একটি প্রতিবেদন পড়ে শোনান। তিনি বলেন, “এই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর অত্যাচারের বর্ণনা দেওয়া আছে। যার মধ্যে লোকজনকে জোর করে তাদের বাড়ির মধ্যে আটকে রেখে আগুনে পুড়িয়ে মারা, নির্বিচারে হত্যা, পালাতে থাকা বেসামরিক মানুষদের উপর গুলি, নারী ও মেয়ে শিশুদের গণহারে ধর্ষণ এবং বাড়ি, স্কুল, বাজার ও মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া বা ধ্বংস করার কথা আছে।”

৪৭ টি সদস্য দেশের পরিষদের কাছে প্রশ্ন রেখে জেইদ বলেন, “গণহত্যা প্রমাণের জন্য এখানে সম্ভাব্য যেসব উপাদানের কথা উল্লেখ আছে তা কি আপনারা কেউ উড়িয়ে দিতে পারবেন?”

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর উন্মত্ততা এখনই থামাতে হবে। এর পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে অপরাধ তদন্তের ব্যবস্থা চালুর জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে অনুরোধ জানানোরও আহ্বান জানান জেইদ আল- হুসেইন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গারা আর কত দুর্ভোগ সইলে তাদের (মিয়ানমার) সরকার এবং বিশ্ব তাদের আত্মপরিচয় এবং অধিকার স্বীকার করে নেবে?

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দোষী করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের এবারের দেশত্যাগ ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যার সঙ্গে তুলনীয়।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ওপর মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে সম্প্রতি মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল ঢাকা। এবার তা জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের উত্থাপন করা হল। এই কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৬টির বেশি দেশের সমর্থন প্রয়োজন। তবে কাউন্সিলের ৩০টির বেশি দেশ বাংলাদেশের প্রস্তাবের কো-স্পন্সর হওয়ায় অধিবেশন ডাকা এবং প্রস্তাব পাস করাতে কোনো সমস্যা নেই।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জুলুম-নির্যাচন থেকে বাঁচতে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতাকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযানের জ্বলন্ত উদাহারণ’ বলে বর্ণনা করে আসছিল। এখন ‘গণহত্যা’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ায় মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ল।


পার্সটুডে