বিজাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে: জুনাইদ বাবুনগরী

1462279650হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন,  সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাদ দিয়ে ৯২% মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নাস্তিক্যবাদীদের চক্রান্তে ইসলামী শিক্ষা, মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস তাহযীব, তামাদ্দুন বাদ দেয়া বা সংকোচন করা চলবে না। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামী ও মুসলিম ঐতিহ্য বাদ দেয়ার চক্রান্ত দেশ প্রেমিক তাওহীদি জনতা বরদাশত করবে না।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিজাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। জাতিকে ধর্মহীন করার উদ্দেশ্যে দেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্মহীন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অস্তিত্ব, স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ বিলুপ্ত করার জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠপুস্তক থেকে ইসলামী ভাবধারার গল্প-কবিতা, প্রবন্ধ এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য বাদ দিয়ে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করছে।

তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ বিরোধী শিক্ষা যখন সমাজে খুন, ধর্ষণ, হত্যা লুণ্ঠন, মাদকাসক্তি এবং মাদকের সয়লাবসহ পুরোজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামী শিক্ষা বাদ দেওয়া নয় বরং ইসলামী নৈতিক শিক্ষার আলোকেই গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোই বর্তমান সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় সরকার ধর্মীয় শিক্ষাকে শুধুই সংকোচন করেনি, বরং ইসলামধর্ম বিষয়ক এবং মুসলিম সংস্কৃতির প্রতি উদ্দীপনামূলক গল্প-রচনা ও কবিতাসমূহও বাদ দিয়ে তদস্থলে নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের প্রতি উদ্দীপনামূলক বিভিন্ন রচনা, গল্প ও কবিতা যুক্ত করেছে। বর্তমানে স্কুল পাঠ্যপুস্তকে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুতত্ত্বের পাঠ দেওয়া হয়ে থাকে। তাদেরকে পড়ানো হয়, গরুকে মায়ের সম্মান দিয়ে ভক্তি করার, পাঁঠাবলির নিয়ম-কানুন, হিন্দু বীরদের কাহিনী, দেব-দেবির নামে প্রার্থনা এবং হিন্দুদের তীর্থস্থান ভ্রমণ করার। এর মাধ্যমে কোমলমতি কোটি কোটি মুসলমানের সন্তানকে ইসলাম বিদ্বেষী মানসিকতার পাশাপাশি নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের শিক্ষা দিয়ে ঈমানহারা করার চেষ্টা চলছে। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জাতিসত্ত্বার বিরুদ্ধে এটা ভয়াবহ ষড়যন্ত্র। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকলে কোটি কোটি মুসলমানের সন্তান ঈমানহারা হয়ে যাবে। এ নিয়ে অভিভাবক মহলে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তৈরী হয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, স্কুল-কলেজে বর্তমানে যা পড়ানো হচ্ছে, তাতে তাদের সন্তানরা শেষ পর্যন্ত প্রকৃত মুসলিম থাকতে পারবে তো!

আল্লামা বাবুনগরী অবিলম্বে স্কুল-কলেজ পাঠ্যপুস্তক থেকে নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদের বিষয়গুলো বাদ দিয়ে তদস্থলে বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠির ধর্মীয় চিন্তা ও আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ইসলামী ভাবধারা এবং মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ মূলক রচনা, গল্প ও কবিতা যুক্ত করার দাবী জানান। পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাসে বাধ্যতামূলকভাবে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে হক্কানী উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে ইসলামী শিক্ষার বই রচনা করে পাঠ্যসূচীভুক্ত করার দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের সহ-সভাপতি মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী, মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী, সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জোবায়ের আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।