রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত অনুসরণের গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত অনুসরণের গুরুত্ব

মুহাম্মাদ আবু আখতার


রাসুলুল্লাহ ﷺ  সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম নমুনা৷ তার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মানবজাতি শান্তি ও কামিয়াবি লাভ করতে পারে৷ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর আদর্শকে সর্বোত্তম আদর্শ বলে ঘোষণা করেছেন৷ প্রকৃত ঈমানদার ও আল্লাহওয়ালা মুসলমানগণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার আদর্শ অনুসরণ করে চলেন৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহ ﷺ এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।”
(সুরা আহযাবঃ ২১)

রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মানবজাতির কল্যান রয়েছে৷ তাই আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতিকে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন, “হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।”
(সুরা নিসাঃ ১৭৹)

রাসুলুল্লাহ ﷺ  আমাদের জন্য যে উত্তম আদর্শ রেখে গেছেন শরীয়তের পরিভাষায় তাকে সুন্নাত বলা হয়৷ পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন আঙ্গিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপুর্ণ ভাষায় আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন৷ যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত থেকে বিমুখ হবে সে অনেক ফযীলত লাভ করা হতে বঞ্চিত হবে এবং এর পরিণতি স্বরুপ কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে৷
রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর অনুসরণের নির্দেশ বিষয়ক কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলো৷ এসব আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর অনুসরণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ  এর আনুগত্য কর। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রসূলের দায়িত্ব কেবল খোলাখুলি পৌছে দেয়া।”
(সুরা তাগাবুনঃ ১২)

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের ﷺ  আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না।”
(সুরা মুহাম্মাদঃ ৩৩)

“বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া।”
(সুরা নুরঃ ৫৪)

“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।”
(সুরা আনফালঃ ২৹)

“বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।”
(সুরা আলি ইমরানঃ ৩২)

রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর সুন্নাত অনুসরণের ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম৷ যে ব্যক্তি সুন্নাত অনুসরণ করে চলে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন এবং তার গোনাহসমুহ মাফ করে দেন৷ এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।”
(সুরা আলি ইমরানঃ ৩১)

আল্লাহর হুকুম পালন এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর সুন্নাত অনুসরণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী সুখময় জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করা যায়৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।”
(সুরা নিসাঃ ১৩)

শুধু তাই নয় জান্নাতে প্রবেশ করে তারা নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের সঙ্গী হয়ে বসবাস করার সুযোগ লাভ করবে৷ আর তাদের চেয়ে উত্তম সঙ্গী আর কেউ হতে পারে না৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন
“আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।”
(সুরা নিসাঃ ৬৯)

রাসুলুলুল্লাহ ﷺ  এর অনুসরণের মাধ্যমে মুলত আল্লাহ তায়ালার হুকুম মেনে চলা হয়৷ তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর অনুসরণ না করার অর্থ আল্লাহর হুকুম অমান্য করা৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।”
(সুরা নিসাঃ ৮৹)

পুর্বপুরুষদের কাজ কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী হলে তাদের অনুসরণ করা কোন মুসলমানের কাজ নয়৷ আল্লাহর হুকুম এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত ছেড়ে বাপদাদা ও পুর্বপুরুষদের অনুসরণ করা কাফির মুশরিকদের বৈশিষ্ট৷ এসম্পর্কে আল্লাহ তাযালা বলেন,
“যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে?”
(সুরা মায়িদাঃ ১৹৪)

যারা রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর সুন্নাতের বিরোধিতা করে তাদের কোন নেক কর্ম আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“নিশ্চয় যারা কাফের এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে এবং নিজেদের জন্যে সৎপথ ব্যক্ত হওয়ার পর রসূলের (সঃ) বিরোধিতা করে, তারা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না এবং তিনি ব্যর্থ করে দিবেন তাদের কর্মসমূহকে।”
(সুরা মুহাম্মাদঃ ৩২)

রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর সুন্নাত সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানার পরও যারা সুন্নাতের বিরোধিতা করে বিধর্মীদের অনুসরণ করে তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।”
(সুরা নিসাঃ ১১৫)

বর্তমানে যারা রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর সুন্নাত অনুসরণ করে না কিয়ামতের দিন তাদের আফসোসের কোন সীমা থাকবে না৷ তারা সেদিন তাদের আঙ্গুল কামড়াতে থাকবে আর রাসুলুল্লাহ ﷺ  এর সুন্নাত অনুসরণ না করার কারণে আফসোস করতে থাকবে৷ আল্লাহ তায়ালা বলেন, “জালেম সেদিন আপন দুটি হাত দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের পথ অবলম্বন করতাম।”
(সুরা ফুরকানঃ ২৭)

এমনকি তারা যখন নিজেদের ভযাবহ পরিণতি চোখের সামনে দেখতে পারবে তখন যমীনের সাথে মিশে যাওয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করতে থাকবে৷
“সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয়।”
(সুরা নিসাঃ ৪২)