জনগণের আদালতে ইনু-খায়রুল হক ফাইনাল লিস্টেই থাকবে: রুহুল কবির রিজভী

রুহুল কবির রিজভি (1)বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অচিরেই দেশে গণতন্ত্র হত্যা,বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে নিধন, বিচারবহির্ভূত হত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে জনগণের আদালতে যাদের বিচার হবে তাদের মধ্যে হাসানুল হক ইনু ও বিচারপতি খায়রুল হক’রা ওয়েটিং লিষ্টে নয় ফাইনাল লিষ্টেই থাকবেন।

আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, কেবলমাত্র একদলীয় রাজত্বেই গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা বিরোধী দল এবং নেতানেত্রী সম্পর্কে দিনরাত অষ্টপ্রহর হুমকি আর কুশ্রাব্য কথা বলতে পারে। এ বিষয়ে ভোটারবিহীন সরকারের মন্ত্রী ও শাসক দলের নেতাদের প্রতিযোগিতায় সবচাইতে এগিয়ে আছেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তার প্রতিদিনকার বক্তব্য বিবৃতি পড়লে মনে হয় যে, বিএনপি ও চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলতে পারার ওপরই তার মন্ত্রীত্ব নির্ভর করছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে হাসানুল হক ইনুসহ জাসদের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে পূণ:পূণ: অভিযোগ শুনে আসছি যে, ৭২-৭৫ এ প্রথমবার আওয়ামী শাসনামলে রক্ষীবাহিনীর হাতে জাসদের ৩০/৩৫ হাজার নেতাকর্মী মারা গেছে। এই অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে ইনু তার দলের শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন শুধুমাত্র ক্ষমতার প্রাসাদ হাতে পাওয়ার জন্য। আর যদি ইনুদের অভিযোগ মিথ্যা হয় তাহলে আজকের আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী কেন মিথ্যা অভিযোগের জন্য ইনুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।’

তিনি অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘আসলে আজকে যে জঙ্গীবাদের উৎপত্তি তা হাসানুল হক ইনুদের ৭২-৭৫ এর সহিংস কর্মকান্ড থেকেই শুরু হয়। লাদেনের আবির্ভাবের আগে জঙ্গীবাদের যে স্বরুপ দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী প্রথম দেখেছে তাহলো-৭০ দশকের প্রথমার্ধে হাসানুল হক ইনুদের গণবাহিনীর সহিংস তান্ডব। থানা লুটসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যাসহ বিভৎস সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আলকায়দা জেএমবি’র উত্থানের আগে ইনুদের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে এর রক্তাক্ত তান্ডবের প্রকোপ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সেই সময়ে ইনুর আচরণ ছিল লাদেন-জাওয়াহেরী ও শায়খ আব্দুর রহমানদের সমতুল্য। এখন ইনু তার নিহত কর্মীদের ঘাতকদের সঙ্গে ক্ষমতার ডালে বাদুর ঝোলা হয়ে ঝুলতে গিয়ে শুধুমাত্র সেইসময়ের নিহত জাসদের কর্মীদের আত্মাকেই অপমান করেননি, সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্রকেও গ্রাস করে নিতে এখনও প্ররোচকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন । যারা নিজের দলের শহীদদের আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করে তাদের সঙ্গে বেঈমানী করতে পারে তারা ক্ষমতার ডাল থেকে পড়ে গেলেই দেশের রাজনৈতিক আবর্জনাতে পরিণত হতে খুব বেশী সময় লাগবেনা। ইতিহাসে মিরজাফরের যে স্থান ইনুরা সেই স্থানেই থাকবে।