তিন বছরে ১৩ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে চীন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


‘আইন-কানুন ভঙ্গ’ করায় ২০১৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তিন বছরে ১৩ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে চীন কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ ডিসেম্বর রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, সাইবার স্পেসকে পরিষ্কার রাখতে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ইন্টারনেটে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে চীনের সরকার। সমালোচকরা এটিকে বলছেন, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে সমালোচনা রুখতে বাক-স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সরকার বলছে- সবদেশেই ইন্টারনেট নিয়মের মধ্যে এনে থাকে। আর তার লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা আর পর্নোগ্রাফি ও সহিংস কনটেন্টের বিস্তার রোধ করা।

এদিকে সিনহুয়া জানায়, চীনের সংসদের চলতি অধিবেশনে স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পেশ করা রিপোর্টে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ পর্নোগ্রাফি আর সহিংতায় ভরা ওয়েবসাইট, ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টকে টার্গেট করেছে।

১৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবাসাইটে থাকা দশ মিলিয়নেরও বেশি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া না হলেও এ সব অ্যাকাউন্টের বেশিরভাগই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের।

সিনহুয়া বলছে, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি-স্থিতিশীলতা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আর জনগণের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণেই ক্ষমতাসীন দল ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়েছে।

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থাটি জানায়, সরকার পরিচালিত জরিপে ৯০ শতাংশ মানুষ এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে। আর ৬৩.৫ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিশ্চিতভাবেই অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্টের পরিমাণ কমে গেছে।

২০১৭’র জুনে একটি কঠোর সাইবার নিরাপত্তা আইন চালু করেছে চীন। যদিও দেশটিতে কাজ করা বিদেশি কোম্পানিগুলো দাবি করে আসছিল ‘হিংস্র’ এই আইনের ফলে সেদেশে তাদের কাজ করা কঠিন হযে পড়বে। দেশটি কঠোর সেন্সরশিপ বজায় রাখে। বহু বিদেশি সংবাদমাধ্যম, গুগল-ফেসবুকের মতো সার্চ ইঞ্জিন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা আছে দেশটিতে।