ইসলাম-বিদ্বেষী আসাদ নুরকে রক্ষায় মিথ্যাচারে নেমেছে হিন্দুত্ববাদী চক্র: ছাত্র জমিয়ত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |  ডেস্ক রিপোর্ট


হিন্দুত্ববাদী, শাহবাগী ও ইসলাম বিদ্বেষী ‘ইস্টিশন’ ব্লগ- গ্রেফতার হওয়া ঘৃণিত ইসলাম বিদ্বেষী আসাদ নুরকে আইনের আওতা থেকে অন্যায়ভাবে ছাড়িয়ে নিতে মিথ্যা প্রচারণায় নেমেছে বলে উল্লেখ করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ এর সভাপতি মুফতী নাসির উদ্দীন খান এবং সেক্রেটারী এম সাইফুর রহমান।

আজ (৩০ ডিসেম্বর) শনিবার সংবাদপত্রে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, আসাদ নুর কেবল একজন ঘৃন্য ইসলামবিদ্বেষিই নয়, বরং সে একজন নারী নির্যাতক তথা ফৌজধারী অপরাধীও বটে। ভারতে বসে সে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অব্যাহত হারে ঘৃণা ছড়ানোর পাশাপাশি অবশেষে নারী নির্যাতনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় ভারতে ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে সে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তাকে ভারতের পুলিশও খুঁজছে।

ছাত্র জমিয়তের নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও কুৎসা ও ঘৃণা ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আসাদ নুরের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করাতে সাধারণ জনতা স্বস্তি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ভারতীয় আরএসএস ও শিবসেনার বাংলাদেশী এজেন্ট কতিপয় হিন্দুত্ববাদী, শাহবাগী এবং ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোয় জড়িত ‘ইস্টিশন’ ব্লগ তাদের স্বগোত্রীয় আসাদ নুরকে আইনের কাছ থেকে ছড়িয়ে নিতে প্রকাশ্যে মিথ্যা প্রচারণায় নামে।

বিবৃতিতে ছাত্র নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ইসলাম বিদ্বেষীরা শুধু সাম্প্রদায়িক অশান্তিই ছড়ায় না, তারা মানবতা ও আইনের প্রতিও কোনরূপ সম্মান প্রদর্শন করে না। এই কারণে তাই সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার অজন্তা দেব রায় নামের একজন উচ্চশিক্ষিতা হিন্দু নারী কেন আসাদ নুরের নারী নির্যাতনের বিষয়ে সোচ্চার না হয়ে উল্টা তাকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেওয়ার দাবী জানাচ্ছে? তার কারণ আর কিছুই না। আসাদ নুর ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়ে এই হিন্দুত্ববাদীদের যে কল্পিত উপকার করেছে, তার পুরস্কার হিসেবে আসাদ নুরের নারি নির্যাতনের ফৌজদারি অপরাধকেও লঘু করে দেখতে চায় এই হিন্দুত্ববাদীরা।

বিবৃতিতে মুফতী নাসির উদ্দীন খান ও এম সাইফুর রহমান আরো বলেন, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঘন্যভাবে ইসলাম অবমাননাকারী আসাদ নুরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রচারণায় সহযোগীর ভূমিকায় সাথে নেমেছে চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী ব্লগ ইস্টিশন। তারা ব্যাপক মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে আসাদ নুরকে মানবতাবাদী ও মুক্তচিন্তক বলে পরিচয় করিয়ে দিতে চায়। কিন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ঘৃণার প্রচার কীভাবে মুক্ত চিন্তা হয়? এই অজন্তা রায় ও ইস্টিশন ব্লগাররা কি আসাদ নুরকে বাংলাদেশের আইনের ঊর্ধ্বে দেখতে চান?

তারা বলেন, যদি আদালতে নির্দোষ প্রমাণ হয় আসাদ, তাহলে অজন্তা রায়দের সেই রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে অসুবিধা কোথায়? আর যদি রায়ে সে দোষী প্রমাণিত হয়, তবে বাংলাদেশ সরকারের উচিত বাংলাদেশে তার সাজা শেষ হওয়ার পরে বর্বর আসাদ নুরকে ভারত সরকারের হাতে তুলে দেয়া। যেন সেখানে সে নারী নির্যাতনের অভিযোগের বিচারের মুখোমুখি হতে পারে।

ছাত্র জমিয়তের শীর্ষ নেতৃদ্বয় আরো বলেন, এই অজন্তা আর ইস্টিশন ব্লগ শাহবাগে আদালতের রায় পালটে নিজেদের ইচ্ছামত ফাঁসির দাবী নিয়ে মাঠ গরম করেছিল। আর আজকে আদালতকে পাশ কাটিয়ে জঘন্যভাবে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানোতে অভিযুক্ত একজন অপরাধীর পক্ষে ইনডেমিনিটি চাইছে। কার্যতঃ এসব হিন্দুত্ববাদি ও ব্লগাররা বাংলাদেশে আইনের শাসন চায় না। বাংলাদেশে এরা ভারতের ছত্রছায়ায় এমন একটা শাসন ব্যবস্থা চায়, যা ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের ইচ্ছা ও স্বার্থ মতো চলবে। এদের কারণেই বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দুরা অনিরাপদ হয়ে ওঠছে। এরা তাদের বিলাশবহুল বেপরোয়া পশ্চিমা জীবন যাপন এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির স্বার্থে বাংলাদেশের সকল অর্জনকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে চায়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্য, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও জাতীয় ঐক্যের জন্য হুমকি দূর করতে নৈতিকতা বিরোধী এসকল ভোগবাদি বিদেশী এজেন্টদেরকে শক্তহাতে প্রতিহত করা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।