আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী’র সাথে আমার সাক্ষাৎ

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী’র সাথে আমার সাক্ষাৎ

জুনাইদ আহমদ | হাটহাজারী প্রতিনিধি : ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম


 


আল্লামা বাবুনগরী’র দুআ নিলাম : লেখলেখির প্রতি উৎসাহ দিলেন,স্নেহত্বের হাদিয়া হিসেবে দিলেন”আনার ফল ও বই”


হেফাজত মহাসচিব,হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক কারানির্যাতীত মজলুম জননেতা শাইখুল হাদীস আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহু’র দুআ নিলাম৷আজ(১ লা জানুয়ারী ১৮ )সোমবার দুপুরে আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহুর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলাম৷

সালাম,মুসাফাহার পর হযরত আমার পরিচয় জানতে চাইলেন৷হযরতের সাহচর্যধন্য খাদেম বড়ভাই ই’আমুল হাসান ফারুকী অনেক বাড়িয়ে হযরতের কাছে আমার পরিচয় দিলেন৷ টুকটাক লেখালেখি করি জেনে হযরত অনেক খুশী হলেন,লেখালেখির প্রতি আমাকে উৎসাহ দিয়ে বললেন,লেখালেখি করো,লেখনি অনেক ভাল কাজ৷আমি ইনসাফ পত্রিকার হাটহাজারী রিপোর্টার জেনে হযরত বললেন,মিডিয়ায় কাজ করো,ওলামায়ে কেরাম মিডিয়া নিয়ে কাজ করা সময়ের অপরিহার্য দাবী৷হযরত আরো বললেন,বর্তমান সময়ে বাতিলের মোকাবেলায় লেখনির জগতে ওলামায়ে কেরাম আরো বেশি এগিয়ে আসতে হবে৷ওলামায়ে কেরাম মিডিয়ায় কাজ করলে জাতী বস্তুনিষ্ট সত্য নিউজ পাবে৷

কথার ফাঁকে হযরত জিজ্ঞাসা করলেন”বাংলা কবিতা লিখতে জানো?? আদবের সহিত জ্বী হ্যাঁ উত্তর দিলাম৷মাসিক মুঈনুল ইসলাম নভেম্বর সংখ্যায় আমার লিখিত কবিতা প্রকাশ হয়েছে বলে হযরতকে জানালেন ইন’আম ভাই৷ হযরত শুনে খুশি হলেন৷ লেখালেখির প্রতি গুরুত্বারুপ করে স্বপ্ল সময়ে হযরত আমাকে অনেক মূল্যবান নসিহত করলেন;যা লেখনির জগতে আমার চলার পথকে আরো সুগম করবে৷হযরত আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন,আদবের সহিত নীচু আওয়াজে বললাম”জুনাইদ আহমদ”৷হযরত মুচকী হেসে বললেন”আমার নামে নামে তুমার নাম”৷কথাগুলো হযরত হাসোজ্জ্বল চেহারায় বলছিলেন৷অনেক স্নেহ করলেন হযরত৷স্নেহ করে হযরত স্বহস্তে আমাকে”একটি আনার ফল এবং হযরতের বয়ানের সংকলন “ইলমে দ্বীনের গুরুত্ব ও ফজীলত”নামক মূল্যবান একটি বই হাদিয়া দিলেন৷জাযাকুমুল্লাহ বলে হযরতের হাত থেকে হাদিয়া কবুল করলাম৷সালাম মুসাফাহা ও দুআ নিয়ে হযরত থেকে বিদায় নিলাম৷হযরতের স্নেহ,আদরে আবেগাপ্লুত হয়েছি আমি৷হযরতের সঙ্গে কথা বলার প্রতিটা মূহুর্ত ছিল আনন্দঘন ৷অনেক আগ থেকেই হযরতের প্রতি ছিল আমার অগাধ ভালবাসা৷প্রাণাধিক মহব্বত করতাম হযরতকে৷মেখল মাদরাসায় পড়াবস্থায় ২০১৩ সালের ৫ ই মে’র পর যখন হযরত কারারোদ্ধ হয়েছিলেন তখন হযরতের মুক্তি কামনা করে অনেক কেঁদেছিলাম৷নফল নামায় পড়ে অশ্রুসিক্ত আখিঁতে দু’হাত তুলে অবুঝ শিশুর মত কাঁদতাম৷তখন অনেকটা ছোট্ট ছিলাম৷হেফাজত নেতৃবৃন্দের মধ্যে শুধু আল্লামা বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহুকেই চিনতাম৷দিনের পর দিন রিমান্ডে নেয়ার দরূন হযরত খুব বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন৷পত্রিকায় হযরতের অসুস্থতার বিবরণ পড়ে সেদিন পিতৃহারা এতিমের মত কান্না করেছিলাম৷যা আজো মনে পড়লে গা শিউরে উঠে৷হে আল্লাহ!আমার মাথার চুল পরিমাণ হযরতকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন আমীন!