মাওলানা মামুনুল হকের ‘ঐক্যের ডাক’

মাওলানা মামুনুল হক |  সভাপতি : ইসলামী যুব-মজলিস


এসো
স্বপ্নময় ঐক্যের মঞ্চ গড়ি !!

গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নেয়া ইসলামের জন্য লাভ না ক্ষতি, সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, আদর্শিক মতপার্থক্য নিয়ে ঐক্যের বিষয়েও থাকতে পারে বিরোধ ৷ কিন্তু আদর্শগত একই পথের অনুসারী একাধিক ইসলামী দল নির্বাচনী যুদ্ধে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দিতায় অবতীর্ণ হওয়া যে অশোভনীয়-অসুন্দর, তা নিয়ে কি কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে?
কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের যে, আমাদেরকে সেই অসুন্দরের প্রতিযোগিতাই দেখতে হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৷ আমাদের প্রিয় দুজন বন্ধু মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ ও মাওলানা গাজী ইয়াকুবকে নামতে হচ্ছে সেই বিব্রতকর পথে!

দুই,
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ও মুফতী মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস হাফিজাহুমাল্লাহ আমাদের মাথার দুই মুকুট ৷ ইসলামী আন্দোলনের পথে তারা আমাদের রাহবার ৷ উলামায়ে উম্মতের সুপ্রাচীন ঠিকানা জমিয়তের মহান দুই দিকপাল ৷ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম আমাদের শতবর্শী কাফেলা ৷ গৌরবময় ঐতিহ্যের সংগঠন ৷ আমাদের নেযামে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিসের মত জমিয়তেও শোনা যাচ্ছে বিচ্ছেদের করুণ সূর ৷ সবাই মর্মাহত, দুঃখভারাক্রান্ত!

তিন,
নিকট অতীতেও আমাদের একজন শাইখুল হাদীস ছিলেন ৷ একজন সৈয়দ ফজলুল করিম ছিলেন ৷ একজন শামসুদ্দীন কাসেমী ৷ ছিলেন একজন মুহীউদ্দীন খান ৷ একজন মুফতী আমিনী ৷ আর একজন খতীব উবায়দুল হক তো ছিলেনই ৷ এখন আছেন একজন আল্লামা আহমদ শফী ৷ তারা এক একজনই ছিলেন শতজনের সমান ৷ তবুও তারা ছিলেন ঐক্যকামী, ঐক্যপ্রয়াসী ৷ দিন যত যাচ্ছে, সময় হয়ে উঠছে নাজুক ৷ অথছ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমাদের বিভেদ ৷
আমাদের কি কিছুই করার নেই?

চার,
অামরা তো তাদেরই উত্তরসূরী যারা হতাশার বিয়াবানে ফুটিয়ে তুলত আশার ফুল!
দুঃস্বপ্নের আধাঁর ঘুচিয়ে বের করে আনত সম্ভাবনার রাঙ্গা প্রভাত!
তাহলে চেষ্টা করলে আমরা কেন পারব না?
ইনশাআল্লাহ আমরাও জাতিকে শোনাতে পারি আশার বাণী!

পাঁচ,
এবার বলি একটি স্বপ্নের কথা ৷ লাখো হৃদয়ের বাসনার কথা-
বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গণ বিশেষত ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বশীল মহলগুলো থেকে একজন দুজন করে প্রতিনিধি একটেবিলে বসা ৷ আগামী দিনে যারা ইসলামী নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় ব্যক্তিত্ব ৷ হৃদয়ে যাদের স্বযত্নে লালিত উম্মতের দরদ ৷ উদার দৃষ্টিভঙ্গী ও জবাবদিহিতার চেতনায় উদ্ভাসিত যাদের মানস ৷ জাতির সেই সূর্যসন্তানেরা এক টেবিলে বসে তৈরি করছে ইসলামী আন্দোলনের আগামী দিনের রোডম্যাপ, তিলে তিলে গড়ে তুলতে প্রয়াসী তারা ঐক্যের মজবুত বুনিয়াদ, নিজেরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উসূলের পাবন্দি আর স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারে ৷
বন্ধুরা, এইযে স্বপ্নের কথা বলছি, এ নয় কোনো দিবাস্বপ্ন কিংবা ঘুমের ঘোর ৷ এ হলো জাতির আশাজাগানিয়া এক সম্ভাবনার রূপকল্প ৷

হযরত হাফেজ্জী হুজুরের ঘর থেকে, জমিয়তের দুই ঘরানা থেকে, নেযামে ইসলাম পরিবার থেকে, হাজী শরিয়তুল্লাহর আস্তানা থেকে, শাইখুল হাদীসের মহল থেকে, চরমোনাইয়ের দরবার থেকে, মুফতী আমিনীর মঞ্চ থেকে, মাওলানা ইসহাকের দল থেকে একজন বা দুজন করে, আর প্রজন্মের আস্থাভাজন জনাকয়েক ভবিষ্যত কাণ্ডারী একসাথে বসে আঁকতে পারে সেই স্বপ্নের ক্যানভাস, যেখানে লেখা থাকবে আগামীর মিছিলের শ্লোগান, নতুন বিপ্লবের মহাকাব্য ৷

কোনো এক মিষ্টি সকাল, রোদেলা দুপুর, কিংবা গোধুলির আবছা আলোয় বসতে পারে লক্ষ বুকের লালিত স্বপ্নের সেই মিলনমেলা ৷ তারার হাট ৷ আকাশের পাণে চেয়ে দেখ ভাই, তারাগুলো মিটিমিটি জ্বলছে…


ফেসবুক থেকে