‘সেকুলারিজম’-এর প্রথাগত সংঙ্গাটা কী? : পিনাকী ভট্টাচার্য

পিনাকী ভট্টাচার্য |  মুক্তিযুদ্ধ গবেষক


মার্ক্স ঠিক কীভাবে স্যেকুলারিজমের ক্রিটিক বা সমালোচনা করেছিলেন সেটা অনেকেই জানার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আসেন সেটা একটু আলাপ করি।

‘সেকুলারিজম’-এর প্রথাগত সংঙ্গাটা কী? এক কথায়- ধর্মের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক বিচার। তো এখান থেকে সোজা-সাপটা কী সিদ্ধান্ত টানা হয়? রাষ্ট্র কোন ধর্মীয় বিষয়ে হস্থক্ষেপ করবে না। ধর্ম ‘প্রাইভেট’ ব্যাপার। ওটা থাকবে ব্যক্তির নিজস্ব জিনিস।

এইবার একটু নিজে নিজে মাথা খাটান। রাষ্ট্রে যে জিনিস থাকবে না, সেই জিনিস থাকবে ব্যক্তির কাছে, মানে সমাজে। রাষ্ট্র কি সমাজের বাইরের কোন জিনিস? না। তাইলে সমাজে যে জিনিস বিরাজ করবে, বহাল তবিয়তে থাকবে, সেই জিনিস যে রাষ্ট্রের ওপর ‘ক্রিয়া’ করবে না- তাই কি হয়? রাষ্ট্রতো আর ভিন গ্রহরে মানুষ আইসা চালায় না, চালায় ‘সামাজিক মানুষ’। তাইলে এই রাষ্ট্র আর ধর্মের বিভাজন রেখাটা ‘কৃত্রিম’ হইয়া গেল না?

তো, এই কৃত্রিম জিনিস লইয়া, এতো লাফালাফি করে কারা? এইখানে মার্কস কিছু বয়ান দিছিলেন। উনি বলছিলেন, এইটা বুর্জোয়াদের কায়কারবার। এই ভন্ডামিটা তারাই করে। কারন, ইউরোপে রাষ্ট্র থিকা চার্চ আলাদা হইবার পরে, চার্চের জায়গায় তারা নতুন জিনিস বসাইতে পারছিল। তার নাম ‘পুজি’ বা ক্যাপিটাল। চার্চ/ধর্ম’র জায়গা দখল নিল পুজি। সে এখন ঈশ্বর। পুরানো ধর্মতত্ত্ব’র জায়গায় নতুন এক ধর্মতত্ত্ব হাজির হইলো। চার্চরে পুজা করারা বদলে এখন সবাই পুজিরে পুজা করো! তো আপনি যদি পুজিরে পুজা করতে চান, তাইলে বুর্জোয়াদের সূরে গান গাইতে থাকেন- অসুবিধা নাই। আল্লার দোহাই লাগে- সেকুলারিজম জায়েজ করতে যাইয়া- মার্কস সাহেবরে সাক্ষী মাইনেন না। মার্ক্স কস্মিনকালেও স্যেকুলার আছিলেন না।


ফেসবুক থেকে