শীতের ত্রাণ কি দরিদ্রদের কাছে পৌঁছচ্ছে?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |  ডেস্ক রিপোর্ট


ঢাকা-সহ সারা দেশেই এখন তীব্র শীতের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীতে ভুগছে ঢাকাসহ দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী, যাদের বেশিরভাগই দরিদ্র।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শীতার্ত এই মানুষদের সহায়তায় নানা সংগঠন, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ইতোমধ্যেই শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণের নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

কিন্তু কীভাবে তারা অর্থ বা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করছে ? দেশের নানা প্রান্তে শীতার্তরা সবাই সহায়তা পাচ্ছেন কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।
মাত্র একদিন আগেই বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে তাপমাত্রা কমে তিন ডিগ্রিরও নীচে নেমে এসেছিলো, যেটিকে আবহাওয়া অফিস বলছে গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ঢাকা-সহ সারা দেশেই এখন এই তীব্র শীতের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডার মধ্যেও ফুটপাথ কিংবা খোলা জায়গায় বসবাস করছে বহু মানুষ।
সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগে শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে তাপমাত্রা কমে তিন ডিগ্রিরও নীচে নেমে এসেছিলো

ঢাকার মগবাজারে ফুটপাথে থাকা এক নারী বলেন, “আমরা রাস্তায় থাকি। কষ্ট পাচ্ছি। সরকারি বেসরকারি কিছুই পাইনি”।

আরেকজন বললেন কয়েকদিন আগে কিছু লোক কম্বল বিতরণ করেছিল ঠিকই, কিন্তু অনেকেই তা পায়নি।

যদিও বেশ কিছু এলাকায় দেখা গেছে দরিদ্রদের মধ্যে কম্বল আর শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনের উদ্যোগে।
তেমনি একটি সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ডুফার একজন সংগঠক জাহিদ কবির টিটু জানান তারা ঢাকার ফুটপাথে বসবাস করে এমন দুশো পরিবারের মতো কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন।

সরকারি উদ্যোগের বাইরে দেশের উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের সহায়তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বাংলাদেশ স্টুডেন্টস কাউন্সিল।
কীভাবে তারা অর্থ বা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করেন জানতে চাইলে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশেকউল্লাহ সোপান বলেন বেশি লোকসমাগম হয় এমন এলাকায় টাকা তোলার পাশাপাশি ডোনারদেরও সহায়তা নিয়েছেন তারা।

প্রবল শীতে অনেক শিশুই কষ্ট পাচ্ছে

এ ধরনের সংগঠনগুলো যে অর্থ বা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করেছে সেগুলো কোথায় কীভাবে বিতরণ করা হবে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাগীব আহসান বলেন তারা কুড়িগ্রামের রৌমারির ১৫শ পরিবারে কম্বল দেবেন।

এবার আবহাওয়াবিদদের মতে পুরো জানুয়ারি মাস জুড়েই দেশের বিভিন্ন মাত্রায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। ঢাকার বাইরে শীতের প্রকোপ বেশি দেখা যায় উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে।

কিন্তু সেখানকার মানুষগুলো এসব সহায়তা ঠিকমতো পান না বলেই মনে করেন চ্যারিটি সংগঠনের সাথে কয়েক বছর ধরে কাজ করা তানভীর রাসেল।

তবে শীতার্তদের সবার হাতে সহায়তা পৌঁছাক আর না পৌঁছাক, প্রচণ্ড শীত হাসি ফুটিয়েছে কম্বল আর শীতবস্ত্র বিক্রেতাদের মুখে।
ঢাকার কারওয়ানবাজারের একজন বিক্রেতা বলেন, “ভালোই বিক্রি হচ্ছে। বেশি বিক্রি হচ্ছে কম্বল, হাতমোজা, কান টুপি আর গোলগলা সোয়েটার। এগুলোই আমরা বেশি বিক্রি করছি।”

আর কম্বল আর শীতবস্ত্র বিক্রেতাদের এই হাসি যতটা চওড়া হচ্ছে ঠিক ততটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন দরিদ্র শীতার্তরা।
যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে শীতার্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়ে গেছে।


বিবিসি