বঞ্চিত সেই স্কুল শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

হাইকোর্ট২০০১ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগ না দিয়ে নতুন করে এই পদে সার্কুলার ঘোষণা করাকে অবৈধ হিসেবে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে যারা নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তাদেরকে নিয়োগ দিতেও আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার বিচারপিত তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ পৃথক পৃথক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, শেখ মোহাম্মদ মুরশেদ, সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও মো. খায়রুল আলম।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।

আইনজীবী মুরশেদ জানান, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে ১১ লাখ প্রার্থী আবেদন করেন। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০১২ সালের ১২ আগস্ট ২৭,৭২০ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ১২,৭০১ জনকে জনকে নিয়োগ দেয় সরকার।

বাকিদের পুল শিক্ষক হিসেবে ৭ দিন থেকে ৬ মাসের জন্য কোটার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়

পুল শিক্ষকরা প্রতিমাসে ৬ হাজার টাকা সম্মানী পান, তাদের কোনো ছুটি নেই এবং তাদের নিয়োগ সাময়িক।

এর মধ্যে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে সহকারী শিক্ষক পদে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় সরকার। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন পুল শিক্ষকরা। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে একই বছরের ১৯ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

বুধবার এ রুলের নিষ্পত্তি করে রায় দেন হাইকোর্ট। আইনজীবী মুরশেদ আরো জানান, প্রায় ৭২টি রিট ছিল। এসব রিটের আবেদনকারী দুই থেকে আড়াই হাজার হতে পারেন। হাইকোর্ট এসব আবেদনকারী পুল শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাদের নিয়োগের আগে নতুন করে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।