ভিন্নচোখে বিশ্ব ইজতেমা

আমিন মুনশি | সহ সম্পাদক, দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা


মহিলাদের অযাচিত অনুপ্রবেশ
দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে নারীদের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা- মাসতূরাত জামাত। নারীরা সেই পদ্ধতিতে লাভ করতে পারেন একজন দায়ীর সওয়াব। তাছাড়া বাড়িতে তালিমের মজলিস করে চালাতে পারেন দাওয়াতি কার্যক্রম। বাড়িতে বসেই দোয়া করতে পারেন বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়া লাখ লাখ মুসুল্লিদের জন্য।

কিন্তু ইদানিং দেখা যায়- নারীরা পর্দাবিহীন, অর্ধোলঙ্গ হয়ে লাখো পুরুষের ভিড়ে ছুটে আসে আখেরি মুনাজাতে। মুনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য তারা ইসলামের ফরজবিধান পর্দা ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ এই দোয়ায় অংশগ্রহণ করা কোন ইবাদত নয়। তাই মুনাজাতে আসার ব্যাপারে তাদের ব্যতিব্যস্ত হওয়া উচিত নয় বলেই মনে করছেন ইসলামি স্কলারগণ।

বানান নিয়ে মতভেদ
ভাষার প্রতি অবহেলা কোন ক্ষেত্রেই কাম্য নয়। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম মিলনমেলা বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে তো নয়ই। ইজতেমা শব্দটি আরবি হওয়ায় কয়েক ধরণের বানানে লেখা হচ্ছে। ইজতেমার মাঠ ও তার আশেপাশে ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন সাইনবোর্ড, গেইট ও প্ল্যাকার্ডে কয়েক ধরণের বানান শোভা পাচ্ছে। দৃষ্টিকটু এসব বানানের মধ্যে রয়েছে- ইজতেমা, ইজতিমা, এজতেমা, ইস্তেমা, এস্তেমা ইত্যাদি চোখে পড়েছে।

ইজতেমার বিভিন্ন রকম বানান ভাষার প্রতি যেমন অবজ্ঞা প্রদর্শন তেমনি মূর্খতারও প্রকাশ। শিক্ষিত মানুষের কাছে বিভ্রান্তিও বটে। তাই বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক বিষয়ে আরো সচেতনতার প্রত্যাশা বিশিষ্টজনের।

ভিক্ষুকদের উৎপাত
ভিক্ষাবৃত্তিকে বলা হয় বিনা পুঁজির ব্যবসা। যেখানে ইনকাম ট্যাক্সের কোন ঝামেলা নেই, লোকসান বা মূলধন হারানোর কোন আশংকা নেই। ইজতেমা ময়দানে আসলে দেখা যায় নানাপ্রজাতির ভিক্ষুক। অদ্ভুত আর হরেক রকম ভঙ্গিতে চলে তাদের ডিউটি। অফিস টাইম পার হয়ে গেলেও অতিথি পাখির মত ইজতেমার প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় তাদের সদলবল উপস্থিতি। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসুল্লিদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বিদেশি মেহমানরা বিব্রতবোধ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিক্ষুকদের সরিয়ে দিলেও নাছোড়বান্দা এসব ভিক্ষুক নানান কায়দায় আবারও রাস্তায় অসুবিধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বিদেশি কাউকে দেখলেই তাদের চাওয়ার গতি বেড়ে যায়। হাতে-পায়ে ধরে নাজেহাল করে ছাড়ে।

ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তিকে পছন্দ করেনা। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, ইজতেমা চলাকালীন সময়ে ময়দানের আশপাশ থেকে ভিক্ষুকদের সরিয়ে দেয়া হোক। এদের উৎপাত বন্ধ করে ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা ঘোষনা করা হোক।