নরম ভাষায় বোধোদয় না হলে জনতা ভাষা গরম করতে বাধ্য হবে: ইসলামী ঐক্যজোট

originalইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, প্রণীত শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন শুধু ইসলাম বা ধর্মবিরোধীই নয়, দেশ ও দেশের স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতা বিরোধীও। এদেশের মানুষ ধর্মহীন শিক্ষা চায় না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বাংলাদেশকে ইসলামশূন্য করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে একটি ক্ষুদ্র অপশক্তি।তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেয়া হবে না। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য- ক্ষমতায় থাকতে হলে ইসলামবিনাশী সকল স্বপ্ন ধুয়ে মুছে ফেলতে হবে। মুজাহিদে মিল্লাত মুফতী আমিনী রহ. এই ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রচন্ড গণআন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করেছিলেন। মুফতী আমিনীর সেই সন্তানরা এখনো জীবিত আছে। তারা জানে আন্দোলন কীভাবে গড়তে হয়। নরম ভাষায় সরকারের বোধোদয় না হলে ইসলামপ্রিয় জনতা ভাষা গরম করতে বাধ্য হবে। বক্তারা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের অপসারণ, প্রণীত ইসলাম বিনাশী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন বাতিল ও সিলেবাস সংস্কারের দাবী জানান।

আজ ১৮ মে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত ‘ইসলাম বিনাশী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন পর্যালোচনা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন।

বৈঠকে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, “এই দেশের ৯২ ভাগ মুসলমান ঈমান বিনষ্টকারী শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হতে দেবে না। ইসলাম মনুষত্ব শেখায়। মানুষের যদি মনুষত্ব না থাকে তখন সে আর মানুষ থাকে না, অন্য কিছু হয়ে যায়। সমাজকে রক্ষার জন্যই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, ধর্মহীন শিক্ষায় সমাজে ঘুষ-দূর্নীতি ও অবাধ পদচারনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। অপহরণ, গুম, খুন, হাইজ্যাক প্রভৃতি অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলে। শুরু হয় নৈতিক অবক্ষয়। অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে। অপসংস্কৃতির পথ প্রশস্ত হয়। ভেসে যায় চিরায়ত মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চরিত্র-ধর্ম ও আদর্শ।

প্রণীত শিক্ষানীতি, শিক্ষা আইন বাতিল ও সিলেবাস সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের অপসারণ দাবি করে গোলটেবিলে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, “২০১০ সালের শিক্ষানীতি এবং ২০১৬ সালের শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন হলে সমাজে মানুষ তৈরি হবে না। এই শিক্ষানীতি ইসলামবিনাশী, দেশকে ইসলাম শুন্য করার শিক্ষানীতি। এই শিক্ষানীতির প্রতিপাদ্য কথা হচ্ছে, ইসলাম সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এটা নাস্তিক্যবাদী,ধর্মবিরোধী কথা। কিন্তু ইসলাম সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয় বরং সহনশীল”।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব বলেন, “ ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে শিক্ষানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মাত্র কয়েকজনকে বেছে নেয়া হয়েছে, যারা ইসলাম বিরোধী। তারা স্বাধীনতা, অখন্ডতা ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত করছে।এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হলে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।”

এসময় সরকারকে উদ্দেশ্য করে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, “ক্ষমতায় থাকতে হলে মুসলমানদের কথা মানতে হবে, ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল করে ইসলামী শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।”

২০১৩ সালের দেশ কাঁপানো আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের আন্দোলনের শক্তি দেখেছেন। লক্ষ লক্ষ লোক প্রয়োজন হলে রক্ত দিয়ে দেখিয়ে দেবে আন্দোলন কাকে বলে।” কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে ‘ইসলামবিনাশী’ শিক্ষানীতি,শিক্ষা আইন বাতিল ও সিলেবাস সংস্কারের আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, আমরা নরম ভাষায় বলা বলছি। নরম ভাষায় সরকারের বোধোদয় না হলে ইসলামপ্রিয় জনতা ভাষা গরম করতে বাধ্য হবে। নাস্তিক্যবাদীদের প্রশ্রয় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকা যাবে না।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর সভাপতিত্বে অনুিষ্ঠত গোলটেবিল বৈঠকে আরো আলোচনা করেন জোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের চেয়ারম্যান ড. ঈশা শাহেদী, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবুল কাসেম, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা জিয়াউল হক মজুমদার, সাংগঠনিক সচিব মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ গুলজার, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, খেলাফত মজলিসের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা নোমান মাজহারী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ ভাষানটেক, মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ, মাওলানা তাসলীম আহমদ, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ গাজী, মাওলানা আবুল খায়ের বিক্রমপুরী, মাওলানা শামসুল আলম, মাওলানা আল-আমীন (মামুন), মাওলানা আনছারুল হক ইমরান, মাওলানা খোরশেদ আলম প্রমুখ।