ছিনতাইকালে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার ২ পুলিশ সদস্য

বাংলাদেশ পুলিশ (4)বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে রাবারবোঝাই কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে ছিনতাইকালে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে গণধোলাই খেয়েছে দুই পুলিশ সদস্য। পরে তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি-ঈদগড় সড়কের কুউলিয়ামুড়া রাস্তার মাথা নামক স্থানে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বাইশারি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনিছুর রহমান এবং ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আবুল হাসেম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

আটকৃতরা হলেন নায়েক শান্তি লাল চাকমা এবং কনস্টেবল অনুপম চাকমা। তারা দু’জনই পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলার ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত। তাদের কাছ থেকে দু’টি লাঠি ও চার লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ আবুল হাসেম জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ওই দুই পুলিশ সদস্য ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আইনে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাইশারির রাবার বাগান থেকে প্রক্রিয়াকৃত রাবার সিট নিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি কাভার্ড ভ্যান (চট্টমেট্রো-ড-১৬৯১) বাইশারি-ঈদগড় সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। পথে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি লাঠি হাতে নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটিকে থামায় এবং চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে।

এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা জনতার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকে গণধোলাই দেয়। পরে ঘটনাটি নিকটস্থ বাইশারি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানানো হলে ইনচার্জ আনিসুর রহমান ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ঈদগড় ক্যাম্পের পুলিশ সদস্য হিসেবে দাবি করেন। পরে তাদেরকে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কাভার্ড ভ্যান চালক মোহাম্মদ রফিক জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি রাস্তার মাঝখানে মোটরসাইকেল রেখে গাড়ির গতিরোধ করে। পরে একজন গাড়িতে উঠে তাকে নিচে নামিয়ে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর শুরু করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

রামু থানার ওসি ইন্সপেক্টর আবদুল মজিদ জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এ ব্যাপারে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।