ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় স্থির

ঘূর্ণিঝড়পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’-এ রূপ নিয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়ার ১১ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

রোয়ানুর ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর পুনঃ ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রয়েছে।

রোয়ানু মালদ্বীপের দেয়া নাম। এর অর্থ ‘নারকেল ছিবড়ার দড়ি’।

রোয়ানুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে, যাতে তারা স্বল্প সময়ের নির্দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ সামান্য উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে বলেও বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলের সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে সরকার। একইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ে সাইক্লোন সেন্টারগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়াবিদদের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেলের তালিকা অনুযায়ী এই ঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘রোয়ানু’। নামটি মালদ্বীপ প্রস্তাব করেছিল।