বাড়াবাড়ি ও তর্ক-বিতর্ক অলক্ষ্যে পোঁছায়

মুফতি আরিফ মাহমুদ হাবীবী 


যৌক্তিক কোনো কাজে প্রতিবাদ করা মানবিক অধিকার বটে কিন্তু অপর পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ইনসাফের সীমা অতিক্রম করে তর্ক-বিতর্ক ও বাড়াবাড়ি জঘন্য বদঅভ্যাস। এ সব কাজে মানুষের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম-অহমিকা, গোড়ামি-কপটতা এমনকি প্রাণহানির মতো মারাত্মক অপরাধ সংঘটিত হয়।

এমনকি স্বার্থ হাসিলে হরামকে হালাল আবার হালালকে হারাম সাব্যস্ত করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। যা ইসলামে মারাত্মক অপরাধ। এ সব কাজ থেকে বিরত থাকতে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! ঐ সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যে বিষয় প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে এবং কুরআন নাজিলের সময় এ সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তার সবকিছুই প্রকাশ করে দেয়া হবে। কোনো কাজ ঘটে যাওয়ার পূর্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ভয় রয়েছে যে, প্রশ্ন করার দরুন না জানি সে কাজ হারাম হয়ে যায়।’

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী ওই ব্যক্তি, যে এমন জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে; যা হারাম ছিল না, কিন্তু তার জিজ্ঞাসাবাদের কারণে তা হারাম হয়ে যায়।’

প্রয়োজন ছাড়া প্রশ্ন ও বাড়াবাড়ি প্রসঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমি যতক্ষণ কিছু না বলি, ততক্ষণ তোমরা আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা কর না। তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে (অন্যান্য নবির উম্মতদেরকে তাদের নবির সঙ্গে) এই বদঅভ্যাসের কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তারা খুব বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করতো এবং নবিদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করতো। আমি যদি তোমাদেরকে কিছু নির্দেশ দেই তবে তা সাধ্যানুসারে পালন কর।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ‘যখন হজের আয়াত নাজিল হয়; বিশ্বনবি তখন এ কথাগুলো সবার (উম্মতের) জন্য নসিহত করেন। মুসলমানদের ওপর যখন হজ ফরজ হয়, তখন (সাহাবায়ে কেরামের) কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! প্রতি বছরই কি হজ ফরজ?

তখন বিশ্বনবি নিরব হয়ে গিয়েছিলেন। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি চুপ রইলেন, তৃতীয় বার এ প্রশ্ন করলে বিশ্বনবি বলেন, ‘প্রতি বছর নয়; কিন্তু যদি আমি হ্যাঁ বলতাম, তবে হজ প্রতি বছর হজ আদায় করা ফরজ হয়ে যেতো। অতঃপর তোমরা প্রতি বছর হজ পালন করতে পারতে না।’

এমনি অসংখ্য কারণেই বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে লক্ষ্য করে অত্যাধিক জিজ্ঞাসাবাদ, তর্ক-বিতর্ক, বাজে কথা, কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি এবং সম্পদ নষ্ট করা ইত্যাদি বিষয়াবলী হতে বিরত থাকতে বলেছেন।

বতর্মান সময়ে মানুষ ইসলাম ও ইসলামের বাইরের বিভিন্ন বিষয়ে অযথা তর্ক-বিতর্ক ও বাড়াবাড়ি করে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং বাড়াবাড়ি, তর্ক-বিতর্ক এবং প্রয়োজনহীন প্রশ্ন নিয়ে সময় ব্যয় না করে মহান আল্লাহর বিধি-বিধান পালনে এগিয়ে আসা ঈমানের একান্ত দাবি। তাতেই মিলবে পরকালের নাজাত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অযথা তর্ক-বিতর্ক, বাড়াবাড়ি ও প্রয়োজন ছাড়া অধিক প্রশ্নসহ যাবতীয় বদঅভ্যাসমুক্ত জীবন গড়তে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। এবং পরকালের সীমাহিন সফলতা দান করুন। আমিন ইয়া রব।।


লেখক, খতীব ও তরুণ আলেম