খাওয়া-দাওয়ায় ইবাদতের সুফল মিলে

ফিরোজ আহমাদ


শরীর সুস্থ রাখতে হলে হালাল খেতে হবে। আদব বজায় রেখে খাওয়া-দাওয়া করলে ইবাদতের সুফল মিলবে। খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শুধু ক্ষুধা নিবারণ হয় না, খাবার খেলে আল্লাহর আদেশ মানা হয়। আল্লাহর হুকুম মান্য করা একটি ইবাদত। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আহার করো আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত করো।’ (সূরা বাকারা : ১৭২) ‘নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং গায়রুল্লার নামে জবাই করা প্রাণী।’ (সূরা বাকারা : ১৭৩)

খাওয়া-দাওয়া ও পানাহারের ক্ষেত্রেও আদব মেনে চলতে হয়। জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নত। অন্যান্য স্থানের পানি বসে পান করা সুন্নত। ডান হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করা, খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ ও খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা সুন্নত। হজরত উমর ইবনে আবু সালামা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি রাসূল সা:-এর নিকট বসা ছিলেন। রাসূল সা: বললেন, ‘হে বৎস! কাছে এসো। বিসমিল্লাহ বলে ডান হাত দিয়ে তোমার পাশ থেকে খাও।’ (তিরমিজি : ১৯০) হজরত আবু সাঈদ খুদরি রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল সা: যখন খানা খাওয়া শেষ করতেন, তখন দোয়া পড়তেন। বলতেন, সকল প্রশংসা ওই আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদের মুসলমান বানিয়েছেন।’ (তিরমিজি : ১৯১)

খাওয়া-দাওয়া শরীরের শক্তি-সামর্থ্যই বৃদ্ধি করে না, সবাই একসাথে বসে খেলে পরস্পরের প্রতি মহব্বত বৃদ্ধি পায়। নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা তৈরি হয়। পারস্পরিক মনোমালিন্য দূর হয়। একত্রে বসে খেলে অল্প খাবার অধিক জনে খেতে পারে। হজরত উমর ইবনে খাত্তাব রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা একত্রে আহার করো, পৃথক হয়ে আহার করিও না। কেননা, একত্রে খানা খাওয়ার মধ্যে বরকত আছে।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত : ৯৭০ পৃ.) হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, দু’জনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট এবং তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট। (বুখারি : ৫০০০)

আঙুল দিয়ে প্লেটে খাবার চেটে খাওয়া উত্তম, যা স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানসম্মত। হাতের আঙুলের মধ্যে হজমশক্তির উপাদান থাকে। আঙুুলের মধ্যে বরকত নিহিত থাকে। হজরত জাবির রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূল সা: আঙুলগুলো এবং খাদ্যপাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেনÑ তোমার জানা নেই যে, কোন আঙুল বা কোন লোকমায় বরকত নিহিত রয়েছে। (মুসলিম : পৃষ্ঠা-৩৬৩) হজরত নুবাইশাহ রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো পাত্র থেকে খানা চেটে খায়, তাহলে ওই পাত্রটি তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। (আহমাদ, তিরমিজি : পৃষ্ঠা-৩৩৬)

খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে মেহমানদারিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ মেহমানের সঙ্গে রহমত আসে। মেহমানের ঘর কখনো বরকতশূন্য হয় না। তবে মেহমানকে খাওয়ানোর নামে অপচয় কিংবা অপব্যয় করা যাবে না। হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘উটের চুটের দিকে ছুরি যত দ্রুত অগ্রসর হয়, তার চেয়ে অধিক দ্রুত বরকত ওই ঘরের দিকে অগ্রসর হয়, যাতে সর্বদা মেহমানদের আহার করানো হয়।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত : ৭০ পৃষ্ঠা) আল্লাহ তায়ালা সবাইকে খাওয়া-দাওয়ায় আদব রক্ষা করার তৌফিক দান করুক।


লেখক : প্রবন্ধকার

নয়াদিগান্তের সৌজন্যে