রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ: দেওবন্দের মুহতামিম

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাসির উদ্দিন


খুলনায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিষদ খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তর্জতিক ইসলামী মহা সম্মেলন ১০ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকালে খুলনা নিউমার্কেট বায়তুননুর মসজিদ চত্বরে সংগঠনের খুলনা জেলা সভাপতি হাফেজ মাওঃ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওঃ নাসির উদ্দিন কাসেমী, মাওঃ এমদাদুল্লাহ কাসেমী এবং মুফতী আমানুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মহাপরিচালক (মুহতামিম) আল্লামা আবুল কাসেম নু’মানী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। বিদায় হজ্জ্বের সময় তিনি বিনীত ভঙ্গিতে বলেছিলেন, হে মানুষ সকল! আমি যদি তোমাদের কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি তাহালে আজ এর প্রতিশোধ নিয়ে নাও। তোমাদের জন্য আমার পিঠ খুলে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শতো এরূপই। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমরা যারা একই মাযহাব অনুসরণ করি আমাদের মধ্যেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখতেলাফ লক্ষ্য করা যায়। আমরা যদি আমাদের পূর্বসূরীদের অনুসরণ করি তাহলে এসব এখতেলাফ দূর হয়ে যাবে। বর্তমানে যারা এখতেলাফ করেন তাদের পূর্বসূরীদের জীবন ও লেখায়ও এসব আমলের পক্ষে বর্ণনা রয়েছে। সুতরাং এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে  মুফতী ফয়জুল করীম (চরমোনাই) বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বোত্তম নেয়ামত। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ মানবজাতিকে হেদায়াতের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের দাবী। সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহর রাসূলের যথাযথ সম্মান সম্পর্কে অবগত ছিলেন। সমাজ ও মানবতা যখন পাপাচার ও গোনাহের অন্ধকারে ডুবে যায় তখনই যুগে যুগে নবী-রাসূলদের পাঠিয়ে আল্লাহ মানুষদের হেদায়ত ও আলোর পথ দেখিয়েছেন। শেষ যুগে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সা.-এর পর আর কোনো নবী আগমন করবেন না। আজকে মহানবী সা.-এর অবর্তমানে তাঁর পবিত্র দায়িত্ব ও উত্তরসূরির ভূমিকা রাখছেন হক্কানি পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরাম। বিশুদ্ধচারী মানুষ হিসেবে তৈরি হতে হলে হক্কানি পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ের কেরামের সান্নিধ্য লাভ করে মহান আল্লাহ তাআলার প্রকৃত সন্ধান এবং রাসূল সা.-এর জীবনাদর্শের অনুসরণ করতে হবে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মুফতী মিজানুর রহমান সাইদ বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) –এর সুমহান মর্যাদা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ এসেছেন। তারা আমাদের সামনে আল্লাহর রাসূলের আখলাক, আমল ও আদর্শ তুলে ধরবেন। তাদের বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হবে আমরা যে আমল করি, যে আদর্শ লালন করি তা দুনিয়ার সকল প্রান্তের মুসলমানদের আমল। ফলে কোনো সমালোচনায় বিভ্রান্ত হবার সুযোগ আমাদের থাকবে না।

ইসলামী মহাসম্মেলনে আরো মূল্যবান বয়ান পেশ করেন ঢাকার মাওঃ লুৎফর রহমান ফারেয়াজী, দারুল উলুম খুলনার মোহতামিম হাফেজ মাওঃ মোশতাক আহমেদ, মাওঃ অধ্যক্ষ মুজ্জাম্মিল হক কাসেমী, মুফতী নুরুল আমীন, মুফতী রফিকুর রহমান, মুফতী আবুল কাসেম, মাওঃ মাহবুবুর রহমান, মুফতী আঃ হাই, মুফতী গোলামুর রহমান, মাওঃ আসাদুল্লাহ্, মুফতী মুমতাজুল করীম, মাওঃ মোঃ আব্দুল্লাহ, মাওঃ কারামত আলী, মুফতী মেসবাহউদ্দিন, মুফতী ইমরান হুসাইন, মাওঃ আবু জ্বর, মাওঃ আনোয়ারুল আজম, মাওঃ এনামুল হক, মাওঃ হাফিজুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।