‘২০০০ সালেও বই মেলায় ইসলামী প্রকাশকদের স্টল থাকতো; কিন্তু এখন দেয়া হয়না’

পিনাকী ভট্টাচার্য | মুক্তিযুদ্ধ গবেষক


একুশের বইমেলার একটা স্যেক্যুলার বদমায়েশি হচ্ছে, মেলায় ইসলামী বইয়ের প্রকাশকদের স্টল না দেয়া। ২০০০ সালের দিকেও বইমেলায় ইসলামী বই প্রকাশকদের স্টল থাকতো। ইসলামী বইয়ের প্রকাশকেরা স্টল পাবার সকল শর্ত পূরণ করলেও তাঁদের নানা বাহানায় এখন স্টল দেয়া হয়না।

অথচ দেখুন কোলকাতা বইমেলাতে রিলিজিয়াস বইয়ের অনেক স্টল থাকে। বাঙলায় হিন্দু ধর্মের বইয়ের বরেণ্য প্রকাশক গীতা প্রেসের স্টল থেকে কোলকাতা বইমেলায় আমি নিজেই বই কিনেছি অনেক। গীতা প্রেসের স্টলটা আনন্দ পাব্লিশার্সের চাইতে ছোট ছিলনা। রামকৃষ্ণ মিশনের স্টল থেকেও বই কিনেছি। শ্রী চৈতন্যের অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্বের উপরে একটা অমুল্য বই আমি হঠাৎ ই খুঁজে পাই কোলকাতা বইমেলার ধর্মীয় বইয়ের একটা স্টলে।

তাহলে আমাদের ঢাকার স্যেকুলারেরা ইসলামী প্রকাশকদের বিষয়ে এতো স্পর্শকাতর কেন? তারা কি কোলকাতার দাদাদের চাইতে অধিক স্যেকুলার? বাঙলা একাডেমী কি স্যেকুলারদের একার, নাকি এটা রাষ্ট্রের সকল নাগরিকদের প্রতিষ্ঠান?

আমি গতকাল লিখেছিলাম, এই মেলা তার অন্তিম সময়ে পৌছেছে। কেউ যাচ্ছেনা, গেলেও বই কিনছেনা। জাফর ইকবাল হতাশ হয়ে লিখেছেন, মেলায় আসা লোকেদের হাতে বইয়ের চাইতে স্মার্ট ফোন বেশী। যদি স্যেকুলারিজমের মোড়কে বইমেলা ইসলামী বই প্রকাশকদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ বন্ধ না করে, তবে গতবার পহেলা বৈশাখকে প্রত্যাখ্যান করে দেশের মানুষ যে বার্তা দিয়েছে, সেই একই বার্তা পাবে একুশের বইমেলা। বিভাজনের ভ্রান্ত রাজনীতিকেই উর্ধে তুলে ধরা বইমেলার কর্তব্য নয়।

এই ভ্রান্ত বিভাজনের পথ পরিত্যাগ করুন। নয়তো, সারা বাংলাদেশের তালুকদারি তো গেছেই, টি এস সি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত স্যেকুলার তালুকদারি যেতে সময় লাগবেনা।


মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানোর চেষ্টাকে বাম-স্যেকুলারদের নতুন প্রজেক্ট
মার্চ ২৯, ২০১৮
পিনাকী ভট্টাচার্য | মুক্তিযুদ্ধ গবেষক


মাদ্রাসায় সকালে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াতে হবে, এইটা নতুন স্যেকুলার প্রজেক্ট।

দেশ কালের সীমানা ছাড়িয়ে গত ১৪০০ বছর ধরে ইসলাম ধর্মের চর্চার যে ঐতিহ্য সৃষ্টি হয়েছে, আমাদের স্যেকুলারেরা তার ছেদ চান।

মাদ্রাসা স্যেকুলার স্কুল নয়; ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এইটা বুঝতে হবে।

আমার জানা মতে, নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ওপর অবতীর্ণ ওহি বা প্রত্যাদেশের প্রথম শব্দ ছিল ‘পড়ো’। তাই একজন মাদ্রাসা ছাত্র তাঁর প্রতিপালকের নামে যিনি তাঁকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর কিতাব পাঠ করেই তাঁদের শিক্ষাকর্মকাণ্ড শুরু করবে; এটাই স্বাভাবিক। পাঠ তাঁর স্বাভাবিক প্রথম রিলিজিয়াস রিচুয়াল হওয়ার কথা। কিন্তু স্যেকুলার আবদার রক্ষা করতে গিয়ে কোরআন পাঠ দিয়ে দিন শুরু করার বদলে, তাঁর দিন শুরু করতে হবে রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে!!!

এটা মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্ট কেউই মানতে পারবেন না। এইটা বুঝার জন্য আইনস্টাইন হইতে হয়না।

এই স্যেকুলারেরা এতোই বেকুব যে এই আবদার করে তারা ধর্মের হাজার বছরের ঐতিহ্যকেই যে বদলে ফেলতে চাইছে, সেটাও বুঝতে পারছে না।

জাতীয় সঙ্গীত আমরা গাই, সিনেমা হলে গাই, স্কুলে গাই, খেলার মাঠে গাই, দরকার হলে আমাদের ট্রেনে বাসে, প্লেনে ওঠার আগে গাইয়ে নেন অসুবিধা নাই কিন্তু মাদ্রাসায় সকালে জাতীয় সঙ্গীত গাইয়ে নিয়ে আপনার স্যেকুলার ইগোকে তৃপ্ত করতে যাইয়েন না প্লিজ। মাথা দিয়া পাহাড় ঠেইলেন না।

কোন ইস্যুরে কেমনে ডিল করতে হবে, কেন ডিল করতে হবে এইটা শিখতে আপনার ঢের দেরী আছে।


ফেসবুক থেকে


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখকের মতামতের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না ইনসাফ কর্তৃপক্ষ।