উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়া জামিন পাবেন, আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অভিমত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাবেন এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন আওয়ামীপন্থি শীর্ষ আইনজীবীরা।

রোববার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলানায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

এসময় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি বলেন, “এখন আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া আপিল করবেন। এরপর আদালত বিবেচনা করবে তাকে জামিন দেয়া যায় কিনা। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি জামিন পেতে পারেন।”

তাপস বলেন, “এ মামলার উৎপত্তি ১৯৯১ সালে। এর মাঝে বিদেশ থেকে যে টাকা আনা হয়েছে সেটাকে প্রধানমন্ত্রী এতিম তহবিল হিসেবে সেই ফান্ড গঠন করে সেখানে টাকাটি প্রথমে রাখা হয়। এর পরবর্তীতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সৃষ্টি করে সেই টাকাটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়। সেই ট্রাস্ট থেকে ২০০৭ সাল থেকে কাজী সলিমুল হক, তারেক রহমান, মুমিনুর রহমান এবং শরফুদ্দীন নামে ব্যক্তিদের নামে টাকাটি ট্রান্সফার করা হয়। ২ কোটি টাকার উর্ধে ব্যাক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়।

তিনি বলেন, “আমরা জানি একটি ট্রাস্ট করতে হলে ট্রাস্টি বোর্ড থাকে এবং বেনিফিশিয়ারি জন্য সেই টাকা ব্যয় করা হয়ে থাকে। এতিম তো দূরে থাক কোনও গরিব ব্যক্তির জন্য সেই ট্রাস্টের টাকা ব্যবহার করা হয়নি। শরফুদ্দীন, তারেক রহমানসহ গংরা তারা এ টাকাটি নিজেদের নামে আত্মসাৎ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্ত আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, এ রায়কে সেই মহল একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বহার করছে। দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলমান। তারা ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে দেশকে যে বিশৃংখলার মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল সেই রকম একটি ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। ডিভিশন দেয়াকে নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডিভিশন তিনি প্রাপ্য। সে প্রাপ্য পরিপূর্ণভাবে তাকে দেয়া হয়েছে। সুতরাং নতুন করে ধূম্রজাল ষড়যন্ত্র সৃষ্টির অবকাশ নেই।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, “সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অভিযুক্ত হয়ে কারও দুই বছরের অধিক সাজা হলে সাজার পরবর্তী পাঁচ বছর তিনি নির্বোচনে অযোগ্য হবেন। এখন হাইকোর্টে আপিল হবে। তিনি জামিন আবেদন করতে পারবেন। তিনি মামলা স্থগিতও চাইতে পারেন। এ অবস্থায় কেউ যদি আপিল করে আপিল চলা অবস্থায় একেবারে বিচার শেষ না হওয়া পযন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কাজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনও রকমের বিতর্ক সৃষ্টি করা ঠিক না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”

তিনি আর বলেন, “খালেদা জিয়ার আপিলে যদি সাজা টিকে যায়, তখন যদি তিনি সংসদ সদস্য হন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ওই আসনে উপনির্বাচন হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আবদুল মতিন খসরু, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবুদল বাসেত মজুমদার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি মো.অজি উল্লাহ প্রমুখ।