মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ ও মোস্তফা আজাদের ইন্তিকালে জমিয়তের শোকপ্রকাশ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট



দেশের দুই বরেণ্য শীর্ষ আলেম হযরত মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রাহ.)-এর বড় ছেলে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাবেক আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ এবং মিরপুর জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া’র সহসভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা মাওলানা মোস্তফা আজাদ-এর ইন্তিকালে গভীর শোকপ্রাকশ করে শোকবার্তা দিয়েছে প্রাচীন ইসলামী রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। উভয় আলেমের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্তসমূহ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে জমিয়ত নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ’র দরবারে তাঁদের রূহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফিরদাউসের জন্য দোয়া করা হয়।

আজ (২৩ ফেব্রুয়ারী) জুমাবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় উপরোক্ত কথা বলা হয়। শোকবার্তায় স্বাক্ষর করেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি আল্লামা আব্দুল মু’মিন শায়েখে ইমামবাড়ি, মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, সহসভাপতি আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা শায়খ জিয়াউদ্দীন, আল্লামা জহিরুল হক ভূঁইয়া, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা হাফেজ নাজমুল হাসান, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, অর্থসম্পাদক মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী, ঢাকামহানগর সহসভাপতি মুফতী জাকির হোসাইন, ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মুফতী নাসির উদ্দীন খান প্রমুখ।

শোকবার্তায় মাওলানা আহমদ উল্লাহ আশরাফকে গভীরভাবে স্মরণ করে বলা হয়, ইলমে হাদীস ও দ্বীনি শিক্ষার প্রচার-প্রসারে ব্রত থাকার পাশাপাশি তাসাউফ ও সুলূকের লাইনে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে খেলাফত ও সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামেও মরহুম হযরত বহু খেদমত করে গেছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি ঈমান-আক্বীদার আন্দোলনে এবং নানা অপসংস্কৃতি ও দেশবিরোধী তৎপরতার প্রতিবাদে হুইল চেয়ারে বসে রাজপথে মিটিং-মিছিলে শরীক থাকতেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন এই দেশের আলেম সমাজ ও সৎরাজনীতিবিদদের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।

জমিয়তের শোক বার্তায় মাওলানা মোস্তফা আজাদকে গভীরভাবে স্মরণ করে বলা হয়, রাজধানীতে অবস্থিত বড় পরিসরের একটি দ্বীনি মাদরাসা অত্যন্ত দক্ষহাতে পরিচালনার পাশাপাশি তিনি শাক্তিশালী বাংলাদেশ, ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রীয় শাসন এবং আদর্শ সমাজ গড়ার জন্যও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর ব্যানারে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত নিরলস কাজ করে গেছেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ও কেন্দ্রীয় দায়িত্ব আঞ্জামেও তিনি যে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন, সেটা দলের নেতাকর্মীদের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মাওলানা মোস্তফা আজাদের সকল অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার প্রচার-প্রসার এবং উন্নয়নেও মরহুম মাওলানা মোস্তফা আজাদের অসামান্য শ্রম ও মেহনতের কথাও জমিয়ত নেতৃবৃন্দ স্মরণ করেন।

মরহুম মাওলানা মোস্তফা আজাদ সাহেব একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন উল্লেখ করে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাঠ পর্যায়ে তিনি জানবাজী রেখে বীরদর্পে পাক হানাদার বাহিনীর মোকাবেলায় সশস্ত্র লড়াই করেছেন। দেশের জন্য তাঁর বীরত্বগাঁথা অমর এই কীর্তি জমিয়ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

শোক বার্তায় জমিয়ত নেতৃবৃন্দ মাওলানা আহমদুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা মোস্তফা আজাদ-এর অগণিত ছাত্র, ভক্ত, মুরীদ, শুভানুধ্যায়ী এবং শোকসন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাঁদের সকলের সবরে-জামিলের জন্য দোয়া করেন।