অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা; কিভাবে দেখছেন ইসলামী লেখক সাহিত্যিকরা?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আলাউদ্দীন বিন সিদ্দিক 


গতকাল শনিবার বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় হামলার শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ড. জাফর ইকবাল। পেছনে থাকা ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল নামের এক যুবক তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ ঘটনায় আহত জাফর ইকবাল এখন ঢাকায় সিএমএইচে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশিষ্ট জনেরা। বিএনপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে নিন্দা ।

এ বিষয় দেশের আলেম লেখকরা কি ভাবছেন, তারা এ হামলার ঘটনাকে কিভাবে দেখছেন? । ইনসাফের পক্ষ থেকে কথা বলা হয় দেশের  তিন ইসলামী সাহিত্যিকের সাথে।

জানতে চাওয়া হলে লেখক ও অনুবাদক মুফতী জহির ইবনে মুসলিম প্রশাসনকে দায়ি করে বলেন, ড. জাফর ইকবাল একজন লেখক মানুষ। বিভিন্ন সময় তার লেখা বা বক্তব্য এদেশের গণমানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যাবস্থা নেয়নি। এমনকি আমি যতটুকো জানি একারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিক থেকে নানা ভাবে তাঁকে হত্যার হুমকিও শুনতে হয়েছে । এরপরও প্রশাসন কেন তাঁকে নিরাপত্তা দিতে পারলোনা!

হামলাটা কেন হতে পারে জানতে চাইলে মুফতী জহির ইবনে মুসলিম বলেন জাফর ইকবালের লেখায় এবং বক্তব্যে প্রাকাশ পাওয়া ধর্ম বিদ্বেষ গণমানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। হামলার কারন যে এটা না তা উড়িয়ে দেয়া যায়না। তবে এসব হামলা ইসলাম সমর্থন করেনা । আইন কেউ হাতে তুলে নিক এটা আমরাও চাইনা। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু বিচার যখন বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে রূপ নেয় তখনই এসমস্ত ঘটনাগুলো ঘটে। প্রশাসন যদি আগেই এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতো তাহলে এমন ঘটনা দেখতে হতোনা।

তবে এব্যাপারে একইবারে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সহকারী সম্পাদক মাওলানা আলী হাসান তাইয়েব। তিনি বলেন, যেকোনো বিষয়ে একটা মানুষ ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন। আপনি এটাকে শ্রদ্ধার সাথে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। বাংলাদেশে ভিন্নমতকে শ্রদ্ধার সাথে প্রত্যাখ্যান করার মনোভাবের অভাব আছে। আমরা সবাই অন্যকে নিজের মতো করে চাই। আমরা চাই সবাই আমার মতাদর্শের হোক । আমার মতের না হলে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এই মানুষিকতা বরাবরই সমস্যা। এ সমস্যাটা ডান ( ডানপন্থি) থেকে বামের (বামপন্থি) ক্ষেত্রেও আছে আবার বাম থেকে ডানের ক্ষেত্রেও আছে। ইসলামের পক্ষেও আছে ইসলামের বিপক্ষেও আছে। এটা একটা মৌলিক সমস্যা। ভিন্নমতকে দমন করা, নির্মূল করা, এটা সমর্থন করার মতো না। এসবের সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই। ইসলামের নাম দিয়ে কেউ এসব করে থাকলে সে ইসলামের চরম ক্ষতি করেছে। ইসলামের যারা দায়ী (যারা ধর্মীয় দাওয়াত দেন) তাঁদের ক্ষতি করেছে। অনেক বড় ক্ষতি করেছে।

মাওলানা আলী হাসান তাইয়িবের সাথে অনেকটা একমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সভাপতি মাওলানা জহির উদ্দিন বাবর। তিনি বলেন এ হামলা অবশ্যই নিন্দনীয়। এই হামলার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। আর ঘটনা ঘটার সাথে সাথে এটা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিকনা। এটা ওমুকের কাজ বা ইসলামের সাথে এটার যোগ-সুত্র খোঁজতে শুরু করাটা ঠিকনা। এসবের কারনে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে চলে যায় ।