জাফর ইকবালের ওপর হামলা; যা বললেন আবদুল হাই শিকদার ও পিনাকী ভট্টাচার্য্য

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মুহাম্মাদ ইয়ামিন 


গতকাল শনিবার বিকেলে এক দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জাফর ইকবাল। ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় তাঁর ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জাফর ইকবাল।

হামলাকারীর নাম ফয়জুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা ফয়জুর রহমান। তাঁর মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই।

এ ঘটনায় আহত জাফর ইকবাল এখন ঢাকায় সিএমএইচে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  সিএমএইচ-এর প্রশাসন ব্লকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর চিফ কার্ডিয়াক সার্জন ও কনসালটেন্ট সার্জন জেনারেল মেজর জেনারেল মুনশি মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘অধ্যাপক জাফর ইকবাল এখন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত এবং তার সম্পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে। তিনি চিকিৎসকদের সহযোগিতাও করে যাচ্ছেন।’

জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশিষ্ট জনেরা। বিএনপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে নিন্দা । এছাড়াও এ বিষয়ে দেশের আলেম লেখকরাও মতামত দিয়েছেন।

এ ঘটনা ও তার পরবর্তী আলোচনা পর্যালোচনা বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয় সাংবাদিক নেতা ও লেখক গবেষক কবি আবদুল হাই শিকদারের কাছে।

আবদুল হাই শিকদার

তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর যে হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। যে কোন কবি সাহিত্যিক লেখকের কথা বলার অধিকার যেমন আছে ঠিক তেমনি সেই কথাকে যুক্তি দিয়ে পরাস্ত করার অধিকারও অন্যের আছে। কিন্তু শারীরিকভাবে কারো উপর হামলা করা, আঘাত করা, হত্যার প্রচেষ্টা করা এগুলো গর্হিত অন্যায়।’

তবে হামলার ঘটনা  নিয়ে ‘মিরাক্কেল মিরাক্কেল’ খেলা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে এর সাথে যুক্ত হয়েছে মিরাক্কেল মিরাক্কেল খেলা। এমন খেলাকে বন্ধ করতে হবে। হামলার এ ধরনের ঘটনা কেন বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে তার কারনগুলো দ্রুত অনুসন্ধান করতে হবে, আমার মনে হয় ফোর্থ ক্লাশ টাইপের ব্লেমগেম বাদ দিয়ে আমরা যদি সঠিক তদন্ত করতে পারি, তাহলে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।’

আব্দুল হাই সিকদার আরো বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের সাথে এর কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা অনুমান করে বলা যাচ্ছে না তবে এর আগে আমরা একাধিক হামালায় দেখেছি, সরকারের যে ছাত্রলীগ আছে তারা বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের উপর হামলা চালিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, আগে শিক্ষকরা ছাত্রদের মরতো আর এখন ছাত্ররা শিক্ষকদের পিটায়, অবরোধ করে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের মূখোমূখি।’

শুনা যাচ্ছে যে, হামলাকারীর মামা সুনামগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক। মামার দাপটেই ভাগ্নে প্রভাবিত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন রেখে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘কারন সে মনে করতে পারে আমরাতো সরকারী দল করি আমাদের কোন সমস্যা হবে না, এক সময় হয়তো চিপা দিয়ে পার পেয়েই যাব।’

আব্দুল হাই সিকদার আরো বলেন, ‘বর্তমানে একজন আওয়ামী প্রতিমন্ত্রী অথবা উপমন্ত্রী আছে, যার শ্যালক ছিল শায়েখ আব্দুর রহমান। তখন আমরা আব্দুর রহমানকে নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়ে ছিলাম শুধু আব্দুর রহমানই নয় তার গোঁড়াটা কোথায় সেটাকে খতিয়ে দেখা দরকার। সেদিন যদি মির্জা আজমকেও বিচারের সম্মূখীন করা হতো তাহলে আজ হয়তো এমন সংকট তৈরী হতো না। সর্বশেষে যেটা বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীনরা একের পর এক ফ্রাংকেস্টাইনের সূত্র তৈরী করছে এগুলোকে যদি লাগাম পরানো না যায় তবে আমাদের জীবন সম্পূর্ণ হুমকির দিকে ধাবিত হবে।’

পিনাকী ভট্টাচার্য্য

হামলার ঘটনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক পিনাকী ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘চিন্তার স্বাধীনতা চাই আর যার চিন্তা পছন্দ করি না তারও সুরক্ষা চাই। এই দুই পয়েন্টে আসুন আমরা সবাই একজোট হই। দেশটাকে অগ্রসর করতে হলে আমাদের এটা নিশ্চিত করতেই হবে।’

তিনি বলেন, যে কারণেই হামলা করে থাক না কেন; আজকে জাফর ইকবালের নির্ভয়ে কথা বলার স্বাধীনতার পক্ষে সবাইকে দাড়াতেই হবে। কোন বিকল্প নাই।

পিনাকী ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘স্যেকুলারেরা আমাদের নির্মুল করে দিতে চায়, আমাদের দেশছাড়া করতে চায়, আমাদের মুখ বন্ধ করে দিতে চায়। আমরা স্যেকুলারদের নির্মুলের ফ্যাসিবাদী দর্শন প্রত্যাখ্যান করি। আমরা চাই সবাই নির্ভয়ে তার কথা বলুক সবার কথা বলার স্পেইস থাকুক। সকল ভিন্নতা সামাজিক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে আমাদের দ্বন্দ্বগুলো ধীরে ধীরে থিতু হোক সমাজে। আমরা প্রতিপক্ষকে চিন্তায় পরাস্ত করতে চাই। সেটাই প্রকৃত বিজয়।’


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74