হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


ছবি, সংগৃহীত

হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’। অন্যথায় হজযাত্রী পরিবহনে থার্ড ক্যারিয়ার উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান হাব মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এতে সর্বনিম্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ৩২ হাজার ৮৬৮ টাকা। এর বাইরে কুরবানি বাবদ ৫০০ রিয়াল বা ১১ হাজার ১৭৫ টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া ট্রলি ব্যাগ হজযাত্রীকে কিনে নিতে হবে।

গত বছর এ খাতে আড়াই হাজার টাকা ধার্য ছিল। বেসরকারি এজেন্সি দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। তবে হাব ঘোষিত মূল্যের চেয়ে কম হতে পারবে না।

বিমান ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাব মহাসচিব বলেন, হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা। যা অযৌক্তিক ও আল্লাহর ঘরের মেহমানদের ওপর জুলুমের শামিল। কারণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা আসা যাওয়ার বর্তমান ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। ওমরাহযাত্রীদের আসা-যাওয়ার ভাড়া ৪৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার টাকা।

হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে যেহেতু বিমানকে এক পথে খালি আসতে হয় সেজন্য হজযাত্রীদেব বিমান ভাড়া সর্বোচ্চ দ্বিগুণ অর্থাৎ ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই বলে তিন গুণের বেশি হতে পারে না। জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি বা ভ্যাট প্রয়োগের অজুহাতে যদি হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে সাধারণ যাত্রী ও ওমরাহযাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি কেন? বরং ওমরার ক্ষেত্রে ভাড়া আরও০ ৫০ ডলার কমানো হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম কিছু বাড়লেও সৌদিতে দাম বাড়েনি। এতে প্রতীয়মান হয়, হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া তিন গুণ বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিমান কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক তথ্য না দিয়ে হজে বিমান ভাড়া তিন গুণ নির্ধারণ করেছে। এর সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হাব একমত নয়। আমরা অবিলম্বে অতিরিক্ত ধার্যকৃত টাকা বাদ দিয়ে প্রকৃত ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি এবং এ ব্যাপারে হজবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এর পাশাপাশি হাব মহাসচিব শুধু বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সে হজযাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে থার্ড কেরিয়ার অর্থাৎ জেদ্দাগামী অন্যান্য এয়ারলাইন্সেও হজযাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ বছর বিমান ভাড়া গত বছরের চেয়ে কমানো হয়েছে, সেখানে পার্শ্ববর্তী দেশে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায় সিদ্ধান্ত।

হাবের মহাসচিব জানান, মঙ্গলবার থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হবে। সরকারি ব্যবস্থপনায় ১১ মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধন চললেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও সময় বাড়বে। সর্বনিম্ন এক লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। বাকি টাকা আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এজেন্সিকে পরিশোধ করতে হবে। এবার হজ এজেন্সিকে পুরো টাকা পরিশোধ না করলে তিনি হজে যেতে পারবেন না। দালালদের কাছে টাকা জমা দিলে তার প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য হজ এজেন্সি দায়ী থাকবে না। চলতি বছর মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী হজে যাবেন। আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী।

গত ১ মার্চ থেকে সরকারিভাবে হজে যেতে ইচ্ছুক হজযাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগামী ১১ মার্চ পর্যন্ত এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের পথে রওনা দেবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাব সভাপতি আব্দুস ছোবহান ভুঁইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতি, সহসভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল কবির চৌধুরী সিরু, অর্থ সচিব মাওলানা ফজলুর রহমান, জনসংযোগ সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য তাজুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ, এম এন এইচ খাদেম দুলাল প্রমুখ।