ফ্রান্সে জরুরি অবস্থার নামে চলছে মুসলিম হয়রানি

Franceদুই শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, ফ্রান্সে চলমান জরুরি অবস্থার মধ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপমানজনক ও বৈষম্যমূলক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের গৃহবন্দী করে রাখছে পুলিশ। শিশু ও বৃদ্ধ থেকে শুরু করে কেউই এমন বেদনাদায়ক ও কলঙ্কপূর্ণ আচরণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

বুধবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পৃথক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নিতে অত্যাধিক বল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। পুলিশের এমন আচরণকে হিং¯্রতা উল্লেখ করে একে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অবহিত করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, পুলিশ বাসা, রেস্টুরেন্ট অথবা মসজিদে সহসাই অভিযান চালাচ্ছে। তারা মুসলমানদের জিনিসপত্র ভাঙচুর করছে, কুরআন মাটিতে ছুঁড়ে ফেলছে, শিশুদের আতঙ্কিত করছে এবং লোকজনের চলাফেরার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। এমনকি তারা চাকরি ও আয় হারানোর এবং স্বাস্থ্যগতভাবে ভুগতে হবে বলে হুমকিও আরোপ করে।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্যারিসে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৩০জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়। এর একদিন পরেই এ অভিযান শুরু করা হয়।

প্রাণঘাতী এ হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় আইএস। এর ফলে শুধুমাত্র ফ্রান্স নয়, ইউরোপ জুড়ে ও বিভিন্ন জায়গায় মুসলিমদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। অন্যায়ভাবে সমন্বিত শাস্তি পেতে হয় মুসলমানদের।

ফ্রান্সে মুসলমান জনসংখ্যা ৫.৫-৬.২ মিলিয়ন। অথবা ইউরোপে মোট জনসংখ্যার ৭.৬ শতাংশ বৃহত্তর মুসলিম সংখ্যালঘু জনসংখ্যা।
এ দুই মানবাধিকার সংস্থা আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩,২০০ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যার কিছু নেতিবাচক ফলাফল অবিষ্কার করা হয়েছে।
এইচ আর ডাব্লিউ এর মতে, যেখানে ৩৫০-৪০০ মানুষকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে সেখানে প্যারিস প্রোসিকিউটর অফিসের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট মাত্র পাঁচটি সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট তদন্ত কার্যক্রম চালু করেছে।

এসব হয়রানির ঘটনা মুসলিম পরিবারসমূহকে ভীতিগ্রস্ত করছে এবং মুসলমানদের প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো মনোভাব পোষণ করা হচ্ছে।
অ্যামনেস্টির সাক্ষাতকারে অংশ নেয়া ৬০ জনের অধিক মানুষ জানিয়েছে, পুলিশ অত্যাধিক বল প্রয়োগ করছে এবং কোন ব্যাখ্যা না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

– আলজাজিরা।